ধারাবাহিক গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধারাবাহিক গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পর্ব :৫ তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

পর্ব :৫

তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 

ঘরের দেয়ালগুলো এখন নীরব।

আয়না ভাঙা, ফুলদানি নেই, বিছানায় শুয়ে ডালি—ঘুমিয়ে আছে শান্তভাবে।

তবুও আমার মনটা অশান্ত।

কেন যেন মনে হচ্ছে, **সব কিছু শেষ হয়নি।**


স্বপ্নের রাত...


সেই রাতে আমি ঘুমোতে পারিনি।

ডালির শরীর নিস্তেজ, কিন্তু মুখটা অদ্ভুত ম্লান।

হঠাৎ ঘরের বাতি একবার টিমটিম করে নিভে গেল —

তারপর আবার জ্বলে উঠল...

ঠিক তখনই ডালির মুখে ভেসে উঠল এক ছায়া—চেনা, পরিচিত, ভয়ংকর...


**মঞ্জুরা!**


তার চোখে এবার আগুন নয়—জল।


— “আমি হার মেনেছি।

আমি প্রতিশোধ চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি অভিশাপ।

ভালোবাসা চেয়েছিলাম, পেলাম বিষ।

কিন্তু এক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে...”


আমি অস্পষ্ট স্বরে জিজ্ঞেস করলাম,

— “কি প্রশ্ন?”


সে বলল,

— “আমি কি সত্যিই খারাপ ছিলাম?

নাকি শুধু ভুল সময়ে ভালোবাসতাম?”


আমি থেমে যাই।

ও বললো আরও একবার…


> “ডালির শরীর আমি ছেড়ে দিচ্ছি।

> কিন্তু এই ভালোবাসার ছায়া আমি রেখে গেলাম...

> আমি ফিরব না। তবে আমি রয়ে যাব।”


---


সকাল...


ডালি ঘুম ভাঙে।


ওর মুখে প্রশান্তি। ঠোঁটে হালকা হাসি।


আমি ওর কপালে চুমু খাই, বলি —

— “সব ঠিক হয়ে গেছে। তুমি ফিরে এসেছো।”


ডালি ধীরে ধীরে বলে,

— “আমি একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম।

আমি এক পুরনো প্রাসাদে দাঁড়িয়ে আছি।

এক মেয়ে আমার পেটের কাছে হাত রাখছে, আর বলছে,


> ‘এইটুকু রেখে গেলাম। ও জানবে আমি শুধু প্রতিশ্রুতি ভাঙতে শিখিনি… জন্ম দিতেও পারি।’”


আমি স্তব্ধ।


— “তোমার পেটের কাছে?”


ডালি বিস্মিত চোখে আমার দিকে তাকায়।

হঠাৎ ওর মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়।

আমরা দুজনে নিচে ছুটে যাই পিসিমার কাছে।


---

 চিকিৎসকের কাছে…


চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন:


— “অভিনন্দন! ডালি গর্ভবতী। মাত্র কয়েক সপ্তাহ হয়েছে।”

— “আপনারা জানতেন না?”


আমরা স্তব্ধ। একে অপরের দিকে তাকাই।


তবে প্রশ্ন জেগে থাকে...

**এই সন্তান কার? আমি আর ডালি যে…**


তখনো সেই স্বপ্নের কথা ঘুরছে মাথায়—


> ‘ও জানবে আমি জন্ম দিতেও পারি।’



বছরখানেক পর।


আমি, ডালি, আর আমাদের এক কন্যাসন্তান —

নাম রেখেছি **"মনজিলা"**, মঞ্জুরার নামে নয়, কিন্তু তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে।


মেয়ের চোখে এক অপার্থিব দীপ্তি।

সে মাঝে মাঝে আয়নার দিকে চুপ করে তাকিয়ে থাকে।

একদিন হঠাৎ সে বললো—


— “বাবা, জানো? এক খালা বলেন, তিনি আমায় দেখছেন।

আমি যেন তার ভুল শুধরাই…”


আমি বুকের ভেতর একটা কাঁপুনি অনুভব করি।


> মঞ্জুরা হয়তো পরিত্রাণ পেয়েছে,

> কিন্তু সে তার উত্তরাধিকার রেখে গেছে...



ভালোবাসা কেবলই মধুর না,

কখনো সে অভিশপ্ত হয়, অতৃপ্ত আত্মার রূপ নেয়।


তবে ভালোবাসা যদি সত্য হয়—

সে শেষ হয় না, সে বদলায়।

জন্ম নেয় নতুন রূপে, নতুন শরীরে…

আর রেখে যায় এক **অমোচনীয় ছায়া**।



পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটি কথা**


ভালোবাসা শুধু ফুল আর গান নয়।

কখনো তা হয় অপেক্ষা, অন্ধকার, অভিশাপ…

আবার কখনো তা হয় আত্মা হয়ে ফিরে আসা—প্রমাণ দিতে, দাবি জানাতে, অথবা ক্ষমা চাইতে।


**এই গল্পটা ছিল তেমনই এক ভালোবাসার গল্প।**

একটা ফুলসজ্জা, এক নববধূ, আর এক আত্মার মধ্যকার সংঘর্ষ।

কে কার? কে প্রেমিক, আর কে প্রতারক?

এই জিজ্ঞাসা নিয়েই শুরু হয়েছিল “তুমি আমার ছিলে”।


ধীরে ধীরে আবিষ্কার করলাম,

ভালোবাসা শুধু দেহে হয় না—**ভালোবাসা আত্মায় জন্ম নেয়**।

আর একবার সেখানে বাসা বাঁধলে, সে হয় অমর। হয়তো রক্তে, হয়তো সন্তানরূপে।


---


❤️ **এই গল্প পড়ে যদি একটুও কাঁটা দেয় শিরায়, বা চোখে জমে অদৃশ্য জল,**

তবে বুঝে নিও—ভালোবাসা এখনও বেঁচে আছে তোমার ভিতরেও।




🔔 **আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?**


কমেন্টে লিখে জানাবেন, কাহিনির কোন পর্ব বা দৃশ্য আপনাকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে?

আপনার প্রতিক্রিয়া আমাকে আরও লেখার অনুপ্রেরণা দেবে।


---


**আরও এমন গল্প পেতে পেজে লাইক দিন   / ব্লগে চোখ রাখুন।**

আগামী গল্পে দেখা হবে… হয়তো আবার কোনো অলৌকিক ভালোবাসায়।


----------------------------সমাপ্ত--------------------------------

পর্ব ৩ তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

পর্ব: ৪

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 

ডালির ঠোঁট ফাঁক করে অচেনা কণ্ঠে উচ্চারণ হয়েছিল:


> “মঞ্জুরা পানি চায়...”


আমি তখনো স্তব্ধ। এ যে ডালি না —

ওর শরীর, ওর চোখ, ওর স্পর্শেও এখন আর সেই পরিচিত উষ্ণতা নেই।

কেমন যেন একটা **আলগা শীতলতা** ছুঁয়ে থাকছে ওর চারপাশ।


চিঠির বাক্সটা আবার খুললাম।

ভেতরে পাতার পর পাতা, ধুলোপড়া পুরনো খাম — সবগুলোতে একই হাতের লেখা,

একই স্বর — **প্রেম, অপেক্ষা… আর শেষে ঘৃণা।**


একটা চিঠির খাম খুলতেই ঘরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।

হলদে কাগজের পৃষ্ঠে লেখা ছিল—


> “তুমি বলেছিলে, বিয়ে করবে।

> আমি বিশ্বাস করেছিলাম।

> তুমি যখন আসোনি, আমি নিজেই এসেছিলাম…

> তোমার ঘরের পাশে, তোমার বিছানার নিচে আমার শেষ নিঃশ্বাস।

> এখন তুমি কারো হবেই না।”


আমি বুঝে গেলাম—

**মঞ্জুরা মরেনি দূরে কোথাও,

মরেছে এখানেই... এই ঘরেই।**


📿 আমি পিসিমাকে ডাকতে ছুটে যেতে চাই, দরজা খুলি—

দেখি বাইরে নেই কিছুই। ঘরের দরজার ঠিক বাইরে কালো কালি দিয়ে আঁকা অদ্ভুত চিহ্ন।

চিহ্নের নিচে লেখা —

**"ঘর ভাঙলে আত্মা ছিঁড়ে যাবে।"**


আমি ফিরে এসে দেখি ডালি বিছানার কোণে বসে আছে,

চোখ দুটো বন্ধ, ঠোঁট নড়ছে না — তবু **ঘর জুড়ে ওর গলা ভেসে আসছে**।


> “তুই মিথ্যা বলেছিলি।

> তোর কথা আমি বিশ্বাস করেছিলাম, ও আমার শরীর চেয়েছিল… প্রেম না।

> এখন আমি তোর প্রতিটি রাত নেব, প্রতিটি স্পর্শ।

> তুই যত ভালোবাসবি, আমি তত দহন করব!”


আমি এগিয়ে গিয়ে ওর গায়ে হাত রাখতেই…

🔥 হঠাৎ ওর শরীর জ্বলতে শুরু করল! না, আগুনের শিখা নয় —

একটা ধোঁয়া উঠছে, গরম পাথরের ওপর জল পড়লে যেমন শব্দ হয় তেমন শোঁ শোঁ শব্দ!


আমি ভয়ে পেছনে সরে আসি।

ডালির ঠোঁটে অশুভ হাসি— ঠোঁট বেয়ে রক্ত!

— “মনে পড়ে? তুমি প্রতিশ্রুতি ভেঙেছিলে। আমি এসেছি… কথা রাখতে।”


**আমি এবার নিশ্চিত — ওর মধ্যে আত্মা ভর করেছে, এবং এই আত্মা চায়… কিছু ফেরত। হয় প্রেম, না হয় প্রতিশোধ।**


ঘরের দেয়ালজুড়ে আগুনে দাগ ওঠে—

পুরো ঘরটা যেন মঞ্জুরার ডায়েরি হয়ে উঠেছে।

একেক দেয়ালে লেখা উঠে আসে নিজে নিজেই—


> “আমি জানালার ও পাশে অপেক্ষা করেছি।”

> “সে হাত ধরেছিল — কিন্তু ছিল অন্য নামের দুঃখ।”

> “ডালিকে ছাড়লে মাফ পাবি।”




আমি একটানা কাঁপছি। আর ডালির ঠোঁটে নিঃশ্বাসে ভেসে আসে…


> “তোমার যেটুকু ছিল, সেটাও আমি নিচ্ছি।”

> "আমি এসেছি পুরোটা নিতে… এই বউ নয়, এই ঘর নয়, **তুমি নিজে!"**



কোন প্রেমিক প্রতিশ্রুতি ভেঙেছিল?

কে ছিল মঞ্জুরার ভালোবাসা — আমি, না আমার রক্ত?

আর এই পৈতৃক বাড়ির দেয়ালগুলো এত বছর ধরে কী লুকিয়ে রেখেছিল?



"তোমার যেটুকু ছিল, সেটাও আমি নিচ্ছি..."

ডালির ঠোঁটে সেই অভিশপ্ত কণ্ঠস্বর রক্ত শীতল করে দেয় আমাকে।

ও কি আমার স্ত্রী? না কি এখন সে মঞ্জুরা?

আমি বুঝে উঠতে পারছি না।


আমি আর বসে থাকতে পারলাম না।


ঘর থেকে ছুটে বের হলাম। ছুটে গেলাম নিচে —

পিসিমার ঘরের দরজায় কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে কাঁপা কণ্ঠে ডাক এলো,

— "তুই শুনেছিস, না দেখেছিস?"


— "কে ছিল পিসিমা? কে এই মঞ্জুরা?"


পিসিমার চোখে পানি জমে উঠলো।

সে কাঁপা গলায় বলে উঠলো…


> “ও ছিল এই বাড়িরই মেয়ে।

> আমার ছোট ভাইয়ের ছাত্রী। নাম ছিল মঞ্জুরা।

> গরীব ঘরের মেয়ে হলেও ছিল মেধাবী আর অপূর্ব রূপবতী।

> ওর চোখে স্বপ্ন ছিল বিদেশ যাবার, প্রেমে পড়েছিল আমার ভাইয়ের...”


আমি স্তব্ধ।


— "মানে? আমার বাবার?"


পিসিমা চোখ নামিয়ে বললেন—


> “হ্যাঁ, তোর বাবা... নাসির।

> মঞ্জুরা তার প্রেমে পড়েছিল।

> ওরা দেখা করত এই ঘরেই। ফুলদানি, আয়না, সেই চিঠিগুলো— সব সেই সময়ের।

> কিন্তু নাসির শেষ পর্যন্ত বিয়ে করে অন্যকে… তোর মাকে।”


> “মঞ্জুরা তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিল।

> কিন্তু নাসির মানেনি।

> এক রাতে ঝড়ের সময়… সে ওই ঘরের জানালার পাশে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়…”


আমার পায়ের নিচে থেকে যেন মাটি সরে যায়।


আমার বউ ডালি,

আমার ফুলসজ্জা,

আমার ভালোবাসা —

সবই কি সেই পুরোনো প্রতিশ্রুতি ভাঙার খেসারত?


পিসিমা চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন,

— “এই ঘর আমরা তালা দিয়ে রেখেছিলাম।

তুই আসার কথা শুনে খুলেছিলাম।

আমি ভাবিনি… মঞ্জুরা এখনো এখানে থাকবে।

তবু থেকে গেছে সে… প্রতীক্ষা করে।”


📿 আমি কাঁপতে কাঁপতে বলি,

— “তাহলে আমি কী করবো? ডালিকে কি হারাতে হবে?”


পিসিমা একটানা তাকিয়ে থাকেন আমার দিকে।

তার চোখে তখন শুধুই একটা কথা জ্বলজ্বল করে—


> **“তুই যদি নিজের রক্ত, নিজের বাবার অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত না করিস—

> তাহলে ডালিকে সে আর ফিরিয়ে দেবে না।”**



আমি ফিরে আসি ঘরে।

ঘর জুড়ে অন্ধকার, শুধু জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ডালি।


কিন্তু আমি জানি,

**এ ডালি না... এটা মঞ্জুরা।**


সে মুখ ঘুরিয়ে তাকায়, ঠোঁটে সেই বিদ্রুপের হাসি।

— “শেষবারের মতো বলছি... আমার জায়গা ছেড়ে দে। নয়তো তুই হারাবি সব... সবকিছু।”


চলবে.....



মঞ্জুরাকে তাড়াতে পারবে কি?

নাকি ভালোবাসার নামে আত্মা চাইছে নতুন শিকার?

শুরু হবে মৃত্যুর সঙ্গে এক অলৌকিক দ্বন্দ্ব।

৪থ পর্ব লিংক 

https.www.partfourrshdhfzhgshjv.com 


আপু থেকে বউ পর্ব ১১ ✍️ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব 

✍️ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ



**পাঁচ বছর পর**

শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটা পাহাড়ি এলাকায় ছোট্ট একটা স্কুল। ছোট রিজভী রোদে দাঁড়িয়ে একটা চার্ট বানাচ্ছে — “আমার হিরো আমার বাবা”। তার পেছনে, ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে এক নারী — **জারা**, এখন পুলিশ কমিশনার।


হঠাৎ... তার ফোনে নোটিফিকেশন:


> “**স্কর্পিয়ন কোড** এক্টিভ হয়েছে।”


জারার মুখ থমকে যায়।




**ঢাকার কেন্দ্রীয় জেল**

সুমিতকে ট্রান্সফার করা হচ্ছে হাই সিকিউরিটি ব্লকে। সে মাথা নিচু করে হাঁটছে। হঠাৎ এক গার্ড ফিসফিস করে বলে,


> “তোর ছেলে... আবার কোড চালু করছে!”

> সুমিত থমকে যায়, চোখে একরাশ অদ্ভুত স্নেহ আর ভয়।



**ফ্ল্যাশব্যাক – ৫ বছর আগে, গিয়াসের শেষ মিশন**

গিয়াস অ্যান্টিডোটের খোঁজে ঢুকে পড়ে সোহেলের ল্যাবরেটরিতে। সময় বেঁধে রেখেছে ৭ মিনিট।

একটা হিমঘরে রক্তাক্ত অবস্থা... গিয়াসের মায়ের মৃতদেহের পাশে একটা চিপ পড়ে আছে। তাতে লেখা –


> “**Azizul’s Son = Giyas**”


সে বোঝে—পুরো জীবন সে যাকে বাবা ভাবেছে, সে তার শত্রু সোহেল। আসল বাবা আজিজুল হক – যে মরে গিয়েছিল সত্যের পথে।


গিয়াস কাঁপা হাতে চিপ তুলে নেয়।



**বর্তমান – গিয়াস কোথায়?**

সবাই ভাবে সে মারা গেছে... কিন্তু রিজভীর ল্যাপটপে একটা ভিডিয়ো ফাইল অটো-অন হয়:


> “আমার রক্ত শেষ হয়ে যাচ্ছে... কিন্তু রিজভী, তুই যদি কোড চালাস, আমি জানব — সত্য এখনো বেঁচে আছে।”

> “...আর যদি আমার সন্তান একদিন জেনে যায়, সে শুধু রক্ত নয়... সে মুক্তির প্রতীক।”




**রিজভীর চিহ্ন**

ছোট রিজভীর হাতে আবার দেখা যায় সেই **স্কর্পিয়ন চিহ্ন**। এবার সেটা বদলে গেছে — বিষধর বিচ্ছুর বদলে দেখা যাচ্ছে **একটি চাবি**র মতো নকশা।


জারা কেঁপে ওঠে — গিয়াসের শেষ শব্দ মনে পড়ে:


> “সে আসবে... সে নতুন গিয়াস!”




**একটি রহস্যময় পেনড্রাইভ**

ছোট রিজভী জারার অফিসে ঢুকে বলে,

“মা, এটা স্কুল প্রজেক্টের জন্য পাইছি…”

জারা পেনড্রাইভ চালু করে দেখে —


> “Project: **Phoenix Rising**”


রিজভীর চোখ চকচক করে উঠে, আর মুখে এক রহস্যময় হাসি।



একটি গোপন সেলে... একটি সিলুয়েট মাথা নিচু করে বসে আছে। হঠাৎ সে উঠে দাঁড়ায় —


> “পাঁচ বছর যথেষ্ট... এবার ফিরি।”


ক্যামেরা ঘোরে, দেখা যায় — **গিয়াস বেঁচে আছে**।


> *"মৃত্যু শেষ নয়… যদি উত্তরাধিকার এখনো হৃদয়ে বাঁধন হয়ে থাকে।"


পাঁচ বছর পর।

ঢাকার এক অভিজাত এলাকায়, ঝাঁ চকচকে করপোরেট অফিসের ছাদে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক তরুণ। মুখে স্মার্টনেস, চোখে বিদ্রোহের আগুন। তার নাম — রিজভী জুনিয়র

তার সামনে ঝুলছে একটি প্রোজেকশন স্ক্রিন। সেখানে ঘুরছে সাদা-কালো সিসিটিভি ফুটেজ — যেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন অচেনা মুখোশধারী ব্যক্তি একটি সরকারী সার্ভারে প্রবেশ করছে।

রিজভী চাপা গলায় বলে,
— "এরা ভাবে সব মুছে ফেলেছে… অথচ কিছুই ফুরায়নি।"

তার পেছনে এসে দাঁড়ায় জারা — এখন একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কমিশনার। গলায় দৃঢ়তা, চোখে অতীতের ঝলক।
— "এই খেলাটা শেষ করতে হবে, রিজভী। এবার সত্যিটা সামনে আনতে হবে।"

রিজভী হালকা হাসে।
— "আমি জানি কে ফিরেছে… এবং কেন।

"গিয়াসের পাঁচ বছরের নিখোঁজ থাকার রহস্য

একটি পাহাড়ি অঞ্চলে, গুহার ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় গিয়াসকে। তার শরীরে বিষক্রিয়ার চিহ্ন, কিন্তু বেঁচে আছে—বেঁচে ছিল কারণ রিজভী (বোন) তার জন্য রেখে গিয়েছিল 'অ্যান্টিডোট প্রোটোকল'

সেই অ্যান্টিডোট এখন আরেকজনের হাতে — সুমিত



সুমিত এখন নতুন পরিচয়ে – "মাওলা শাহ" নামে এক রহস্যময় দাতা। একদা শত্রু, এখন সহানুভূতিশীল। কিন্তু সে আসলে কি সত্যি বদলে গেছে? নাকি পুরোনো খেলায় নতুন মোড়?

জারা তাকে দেখে থেমে যায়।
— "তুমি এখনো বাঁচতে পারো, সুমিত। কিন্তু গিয়াসের জীবন এখনও তোমার হাতে কেন?"

সুমিত নরম গলায় বলে,
— "কারণ আমি জানি—গিয়াস মরলে তুমিও শেষ হয়ে যাবে।"

রিজভী হ্যাকার ডেটাবেইস থেকে একটি জেনেটিক প্যাটার্ন রিভিল করে।
— "গিয়াসের জন্ম হয়েছিল আজিজুল হক ও সোহেলের প্রেমিকা নাসরিনের মাধ্যমে। সে দুই শত্রুর উত্তরসূরি!"

জারা স্তব্ধ।
— "তাহলে গিয়াস... সে নিজেই দ্বন্দ্ব?"

রিজভী মাথা নাড়ে।
— "তাই তাকে শেষ করতে চাইছে ওরা। কারণ সে যদি বেঁচে থাকে, সিস্টেম বদলাবে।"

একটি সরকারি বৈঠকে জানা যায় — ‘স্কর্পিয়ন লেগাসি’ নামে এক হ্যাকার গ্রুপ জাতীয় নিরাপত্তা সার্ভারে ঢুকেছে।

কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে না—কারণ…
তারা একজনকেই খুঁজছে — গিয়াস।


জারা অফিসে বসে, হঠাৎ একটি অচেনা ফ্ল্যাশড্রাইভ পায়। চালু করতেই স্ক্রিনে একটি ভিডিও:

গিয়াস ধীরে ধীরে বলে,
— "আমি ফিরছি, জারা। এবার প্রতিশোধের জন্য না… উত্তরাধিকার রক্ষার জন্য।"

ভিডিও শেষে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে —
“পরবর্তী লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী।”


"রিজভী জুনিয়র কাঁপা কাঁপা গলায় বলে— ‘জারা ম্যাডাম, গিয়াস ভাই… হয়তো আমাদের রক্ষা করতে নয়… ঝড় তুলতে এসেছে!’”

অবশেষে পৌঁছেছি “বাঁধন”–এর চূড়ান্ত পর্বে
এই পর্বে থাকবে সব প্রশ্নের উত্তর, প্রতিশোধের পরিণতি, সম্পর্কের সেলাই, এবং একটি নতুন প্রজন্মের সূচনা।

হলরুমে অন্ধকার। বিশাল পর্দায় ভেসে উঠছে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সিম্বল। একে একে আলো জ্বলে ওঠে।
গিয়াস মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে। পাশে Zara, এখন পুলিশের কমিশনার।

“পাঁচ বছর আগে আমি সোহেলের রক্তে হাত ভিজিয়েছিলাম... কিন্তু আমার সত্যিকারের যুদ্ধ আজও শেষ হয়নি। আজ আমি সেই যুদ্ধের সমস্ত প্রমাণ আপনাদের সামনে তুলে ধরব।”

সবার নিঃশব্দ অপেক্ষা। একে একে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে:

  • সোহেলের ড্রাগ চেইনের নেটওয়ার্ক

  • হাসানের মৃত্যু-ভিডিও (প্রমাণ করে আত্মহত্যা নয়, গুলি)

  • সুমিতের জবানবন্দি: “সোহেল আমাকে বলেছিল, গিয়াস আমার ভাই... ও-ই মাকে মেরেছে। ভুল বুঝে ভুল করেছি।”

  • জারা ও গিয়াসের সন্তানের অশান্তি

ছোট রিজভী, এখন ৫ বছরের, টেবিলের নিচে বসে হ্যাকিং প্র্যাকটিস করছে। চোখে Zara-র স্পষ্ট ভয়।
সে গিয়াসকে বলে—

Zara:
“আমরা কি আবার তাকে সোহেলের মতো বানাচ্ছি?”
Giyas:
“না। ও সিস্টেম ভাঙবে না... ঠিক করবে।”

রিজভীর হাতে একটি ছোট ডিভাইস। ও বলছে:

"বাবা, আমি পুলিশের ডাটাবেসে ঢুকে গেছি... কিন্তু এখানে তো দুর্নীতির নামও আছে!"

Zara চমকে ওঠে।

রিজভীর কোডে একটি লুকানো ভল্ডার — নাম “Skorpion Legacy”

তাতে আছে:

  • সোহেলের অটো-মেইল:
    “যদি গিয়াস আমার মৃত্যু ঘটায়... তবেই তাকে সত্য জানতে হবে—ওর মা এখনো বেঁচে আছে। কোড: AZIZ2025”

  • গিয়াস স্তব্ধ। Zara চোখে জল।
    গিয়াস বলে—
    "আমার মা বেঁচে আছে... আর আমি জানতাম না?"



রিজভীর কোড ব্যবহার করে তারা পৌঁছে যায় এক মরুভূমি ক্যাম্পে—সেখানে বন্দি একজন বৃদ্ধা, চুল সাদা, চোখে এখনও আগুন।

তিনি চুপ করে Zara-র মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন—
“তুমি কি গিয়াসের বউ?”
Zara হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।

"তবে বলো, আমার ছেলেকে আমি শেষবার কবে ছুঁয়েছিলাম?"



সোর্স কোডের মধ্যে ট্র্যাকিং ডিভাইস ছিল।
একদল দুর্নীতিগ্রস্ত গোয়েন্দা হানা দেয় ক্যাম্পে।

তখন রিজভী ছোট্ট রিমোট টিপে সব সার্ভার উড়িয়ে দেয়।
প্লাস্টিক বোমায় ঝলসে যায় পুরো ক্যাম্প, কিন্তু গিয়াস-জারা-মা পালাতে পারে।

শেষবার রিজভীর গলা শোনা যায়:

"ভাই... বাঁচলে আমার নামে একটা প্রতিষ্ঠান খুলিও—Skorpion Killer Institute..."



ঢাকায় নতুন করে গড়ে ওঠে “Skorpion Institute for Ethical Hackers

Zara—আইজিপি
Giyas—ডিরেক্টর অফ ইথিক্যাল সিকিউরিটি
রিজভী (ছেলে)—৭ বছর বয়সেই প্রথম সরকারি হ্যাক প্রতিরোধ করে

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে—
“গিয়াস, আপনি কি এখনও প্রতিশোধে বিশ্বাস করেন?”

গিয়াস:
“না। আমি এখন বিশ্বাস করি শুধু একটা জিনিসে—
বাঁধন দিয়ে মানুষকে বেঁধে রাখা যায় না...
কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে মুক্ত করা যায়।”


🔚 শেষ দৃশ্য:

ছেলে রিজভী স্কুল প্রজেক্টে লিখছে:

“আমার বাবা একজন হিরো ছিল।
আমার মা ছিলেন মশাল।
আর আমি?
আমি সেই আগুন যা শত্রুর বাঁধন পোড়াবে...”



“বাঁধন ছিন্ন হল…
কিন্তু রক্ত, প্রেম আর ন্যায়বিচারের বাঁধন, এখন এক নতুন প্রজন্মের হাতে।”

💌সমাপ্তি



📣 পাঠকের জন্য প্রশ্ন:

  • রিজভী কি ভবিষ্যতের নায়ক হবে, নাকি আবার বাঁধনে জড়াবে?

  • Skorpion Legacy কি সত্যিই শেষ?

  • Zara আর Giyas কি একদিন শান্তির জীবন পাবে?

এই ছিল “বাঁধন”–এর শেষ,
তবুও… শেষ মানে কি সত্যিই শেষ?
🎭

আপনাদের এই গল্পের গ্রহ থাকলে “Season 2: Skorpion Legacy” শুরু করা যেতে পারে!


আপু থেকে বউ পর্ব ১০ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব ১০

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 


১৪,১৫,১৬,১৭


রাত তিনটা। নিঃস্তব্ধ হাসপাতালের করিডোরে সাদা আলো নিঃশেষ স্নিগ্ধতায় ঝরে পড়ছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে—একটি শিশুর কোলে ছোট্ট একটি ব্যাগ। সেই ব্যাগে থাকা পেনড্রাইভে লুকিয়ে আছে একটি ভবিষ্যৎ।


গিয়াস ধীরে ধীরে চোখ মেলে। শরীরের প্রতিটি পেশীতে যন্ত্রণার রেখা। পাশে জারা বসে—চোখে ক্লান্তি, ঠোঁটে ভালোবাসা।


"জাগছো?"—জারা জিজ্ঞেস করে।


গিয়াস ফিসফিস করে, "সে কি এসেছে?"


"কে?"


"আমাদের উত্তরাধিকার... রিজভী।"


---


**ফ্ল্যাশব্যাক: পাঁচ দিন আগে**


রিজভীর গুলিতে আহত গিয়াস নিজের মৃত্যু ভান করেছিল। রিজভীর সাজানো পুরো প্ল্যান, মেডিকেল রেকর্ড হ্যাক করে মৃত্যু ঘোষণার ব্যবস্থা। উদ্দেশ্য—সোহেল ও তার ছায়াদের বিভ্রান্ত করা।


সেই সময়েই সোহেল শেষ শ্বাসে বলে গিয়েছিল: “তোর রক্তে এখন আমার বিষ। আমার মতো করেই মরবি, ধীরে ধীরে।”


জারা ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু গিয়াস জানে, সোহেলের কথার মানে গভীর কিছু লুকিয়ে আছে।


---


**বর্তমান**


একটি ডার্ক ওয়ার রুম। রিজভীর রেখে যাওয়া একটি ল্যাপটপ খুলে গিয়াস পায় একটি ফোল্ডার—**SK\_ANTIDOTE**। সেই ফোল্ডারে অডিও ক্লিপ:


"গিয়াস ভাই... আমি জানতাম তুমি একদিন মরার মুখোমুখি হবে। কিন্তু আমি চাইনি তুমি পরাজিত হও। এই ফোল্ডারে আছে সেই অ্যান্টিডোটের সূত্র, যেটা তোমার শরীরে ছড়ানো বিষকে নষ্ট করতে পারবে। তবে... সেটা পাবে আজিজুল হকের পুরনো ল্যাবে।"


---


**সুমিত: জেলের ভিতর**


সুমিত এখন জেলে। কিন্তু মানসিকভাবে ধ্বংস নয়। সে চুপচাপ একটি চিঠি লেখে:


“জারা, আমি তোমার বাবাকে মারিনি। আমার মা-ই ছিল আসল ভিকটিম। আমি শুধু প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নিজের আত্মা হারিয়ে ফেলেছিলাম। যদি একদিন রিজভীর সন্তানের চোখে নিজেকে দেখতে পারি, তাহলে বুঝব আমি মানুষ ছিলাম।”


---


**জারা: কমিশনারের চেয়ারে**


পাঁচ বছর পর।


জারা এখন পুলিশের কমিশনার। তার ঘরে ঢুকে ছোট্ট রিজভী বলে, “মা, আমার প্রজেক্টের নাম রেখেছি ‘স্কর্পিয়ন কিলার’। কেমন লাগল?”


জারা তাকিয়ে থাকে তার সন্তানের চোখে। ঠিক যেন গিয়াসের চোখ। তাতে আগুন নেই, কিন্তু লুকানো আছে এক রকম সত্যের দীপ্তি।


“দারুণ। কিন্তু মনে রেখো, প্রতিশোধ নয়—প্রতিশ্রুতি বড়।”



গিয়াস এখন ‘স্কর্পিয়ন কিলার সিকিউরিটি’-এর প্রতিষ্ঠাতা। সে তার মায়ের চিঠি খোলে:


"তোর জন্ম হয়েছিল আলো আর অন্ধকারের ছায়ায়। তুই যদি একদিন আলোর পক্ষে দাঁড়াস, তাহলে আমি মরেও শান্তি পাবো।”


একটি গুলির শব্দ।


নভোশিশুর কান্না।


তারপর সব নিস্তব্ধ।



"রিজভী স্কুলের শেষ লাইন লিখে—‘আমার বাবা একজন হিরো। আমি শুধু তার গল্প শেষ করিনি... আমি তার গল্প আবার শুরু করবো।’"

হাসপাতালের নিরবতা।

গিয়াস ব্যথা নিয়েই চোখ খোলে।

তার শরীরে এখনও বিষ-নিরাময়ের মতো কাজ করছে না।

ECG মেশিনে সিগন্যাল ঝলসে আর নাইন্সূত্রে গতি পায় বিশ্রামহীন চক্রে।


> **জারা** (চাপা কণ্ঠে):

> *“তোমার অসুখ এখনও জেগে আছে... রিজভীর USB-তে সেই অ্যান্টিডোট আছে—তোমার নিজেরই শরীরে ঠিক মতো কাজ করার মতো ফরমুলা।”*


গিয়াস চেহারায় এক ফণা আশা ফুটে ওঠে, কিন্তু এক সময় ফিকে হাসি।




কমিশনার জারা ড্রাইভিং করছে এক ভয়াবহ রোজগারের রাতে।

মনেই প্রশ্ন আসে—


> *“আমি কি এখন সঠিক পথে আছি? আমার দায়িত্ব পুলিশ কমিশনার হিসেবে কি গিয়াসের পাশে থাকতে বাধা দেয়?”*


সে ফোনে বলে—


> *“ওসি নিয়াজ, আজ রাতেই আমরা আজিজুলের ল্যাবে যাবো।

> কোন ড্রাপ না করে। বুঝলে?”*


নিয়াজ মাথা হেলে নেয়।


---


রিজভী রাতে তার নিজের ঘরে বসেছে। ল্যাপে USB স্লট করে বলে—


> *“তোমার কোড নামটা নিয়ে বড় হবে তো—স্কর্পিয়ন কিলার!”*


একটা অটো-অ্যালার্ম বাজে তার ফোনে।

হঠাৎ সে টেবিলে যা দেখে চমকে ওঠে—

ADB টার্মিনালে “WARNING: Trace initiated” লেখা।


> *“তারা খুঁজে পেয়েছে! আসছে... এভাবে আমার জীবন শেষ হতে পারে কিন্তু তারা থামবে না।”*




কারাগারের একান্ত কক্ষে সুমিত জড়িয়ে আছে চার দেয়ালেই।


সে ফোনে ফিসফিস করে—


> *“জারা... আমি বলেছিলাম তোমার বাবাকে মারিনি,

> কিন্তু গিয়াসের রক্ত এখনও বিষ মিশানো আছে!”*


চোখে জল পড়ে।

“আমি আজিজুলের ল্যাবে গিয়েছি... ওখানে একটি X-ভায়াল আছে—সেই নিয়ে এসেছি।

গিয়াসের রক্তে বিষ আছে, কিন্তু সেদিন সেই ভায়াল দিয়ে আমি নিজে রক্ত দেই—ভাইয়ের মতো।”


সে নিশ্বাস নেন।


> *“আমি গিয়াস এবং জারার সন্তানের বাবাও হতে চাই... যদি তারা আমাকে মাফ করে.”*



রাত ২:০০ AM, আজিজুলের ল্যাব।


গিয়াস-জারা নিষ্পাপভাবে শাসন ভেঙ্গে তালা ভেঙে প্রবেশ করে।


মূলে রয়েছে সিসিটিভি, সেন্সর, ইলেক্ট্রনিক লক —

গিয়াস ডায়ালগ করে:


> *“এই ভায়ালটাই আমার জীবন—‘নিউট্রোলাইজার X’। আমরা যা সারাটা সময় খুঁজছিলাম।”*


হঠাৎ ডোর ক্লিক, প্রবেশ করে ওসি নিয়াজ সহ পুলিশ টিম।


> **জারা** আওয়াজ করে:

> *“এখন বুঝলে—শুধু মা-বাবার কথা নয়, এই শহরের মানুষের জীবন—আমরা বাঁচাব!”*




তারা সবাই ল্যাবের ভিতরে।

হঠাৎ সেন্সর বাজে, এলার্ম উড়ে।

দলের সবাই হইচই করে।


জগাখিচুপি শুরু।

শেষে **সুমিত** এসে ভায়ালের কাছে দাঁড়িয়ে—


> *“আমার রক্ত, আমার দায়—এবং আমার বিশ্বাস!”*


সে দ্রুত গিয়াসের IV লাইনে ওষুধ ঢেলে দেয়।

ভায়ালের মধ্যে থাকা শেষ সুরে এসে মেশে গিয়াসের শরীরে…


**সব থেমে যায়।**

শনিবারের রাত্রি শেষ হয় শান্তির আলোয়…



> **“গিয়াস চোখ খুলে ফিসফিস করে—

> ‘আমি এখন বেঁচে আছি... তোমাদের বিশ্বাসেই।’”**

নিশ্চিতভাবে! নিচে আপনার জন্য **“বাঁধন – পর্ব ১৬: নতুন শত্রু, নতুন যুদ্ধে”** — টানটান অ্যাকশন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, এবং আবেগঘন ক্লাইম্যাক্সসহ পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা দেওয়া হলো:


---


* **অভ্যন্তরে:**

  জারা, গিয়াস ও রিজভী ল্যাব থেকে বেরিয়েছে, কিন্তু রাস্তার অন্য পাশে একটা কালো ভ্যান দাঁড়িয়ে।

  ভ্যানের পেছন থেকে বেরিয়ে আসে – **দেখনোয় সুখী শিশু**, যিনি হঠাৎই জারা-গিয়াসকে লক্ষ্য করে ফিসফিস করে:


  > “মুখ থামাও, ‘স্কর্পিয়ন কিলার’ ফিরে এসেছে।”


* **সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—** ভ্যান থেকে কিছু কালো ছিন্ন পোশাক্দার লোক নামছে এবং সরাতে শুরু করছে ল্যাবের সেন্সর।

  ঐ দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়াজ কাঁপতে কাঁপতে ফোনে বলে:


  > “স্যার, এটা… সোহেলের বাৎসরিক দল!”



* **জারা:**

  একান্তে গিয়াসকে বলছে:


  > “তারা ভেবে বসেছে আমরা জয়ী... দেখিয়ে দিই, হাওয়া কেমন মুখ ফেরায়।”


* **গিয়াস:**

  বলছে,


  > “এই শহরে টক্সিন, টেকনলজি আর ট্রাস্ট—সবই আমাদের তৈরি… এখন আমরা তৈরি করব শত্রুর দানা!”


* **রিজভীর ছোট্ট মুখে:**

  সে silently পকেটে হাত দেয় —

  তাতে লুকিয়ে থাকা অ্যান্টি-হ্যাক হার্ডড্রাইভ।


---



* জেলে শোয়ারী, সুমিত নতুন করে জেগে উঠে।


* ডায়ারিশিটে লেখা:


  > “আমি পুলিশের জন্য বা প্রতিশোধের জন্য যে হয়নি… আমি গিয়াসের ভাই হয়ে ছেলেটির বাবার সুরক্ষায় আছি।”


* **গিয়াস ও জারা দু’জনকে নিয়ে এসে কাঁচের দেয়াল ভাঙিয়ে বের করে দিয়ে বলছে:**


  > “আজ থেকে তুমি আমাদের টিমের ভেতর… নিরাপত্তার বেইসবলে।”


* **জরুরী করিডরে** — সবাই এগিয়ে হাঁটছে, সামনে রিজভীর হাতে হার্ডড্রাইভ, তার পাশে গিয়াস ও জারা।




* রিজভীর চোখে আগুন—


  * সে ভ্যানে ঢুকে যায় এবং **হার্ডড্রাইভ** সংযুক্ত করে।

  * মনিটরে দেখা যায় **দলটির ফুটেজ** — SPECTRE-style ম্যানিপুলেটেড রিলে সহ: কে তারা, কোথা থেকে লাগে, মূল খলিফা কে...


* এক সেকেন্ডের মধ্যে রিজভী ফোনে বলে,


  > “মা, আমরা এখন খুঁজে পেয়েছি তাদের ঠিকানা।”


* জারা একা নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়… চোখে শক্তি লাগা একটা অদ্ভুত উর্ত্তাপ।


---



* **সিসিটিভি হালকা হাইড** —

  পুলিশ টিম, গিয়াসের নিরাপত্তা বাহিনী, রিজভী ও সুমিত একসাথে

  গোপনবাসে থাকে একটা গোপন গ্যারেজে।


* রিজভী সবার সামনে হোস্ট করে হ্যাকিং ট্যাব।


* গিয়াস বলছে,


  > “এদের নাম ‘ক্রিয়েটার্স’—তারা রাজনৈতিক, নাকি পারিবারিক?

  > আমরা একেবারে ঘাত অনা না বড়াবো…”


* ঝলসে ওঠে সিসিটিভি — দেখে তারা আগের ট্র্যাকারদের যোগাযোগ করছে **স্নাইপার, মারসিনারি**...


* জারা হাঁসফাস করে বলছে:


  > “রাতে ঢুকে, সকালে প্রকাশ্যে — ‘বাঁধন’ সংস্কার হবে আজ!”


---


### ৬️⃣ দৃশ্য: প্রথম স্ট্রাইক


* **সন্ধ্যা ১১টা** —

  বাহিরে দিয়ে গিয়াস, রিজভী, সুমিত ও নিয়াজ…

  **তারা ঢোকে** একটি গোপন বন্দরে — যেখানে ভ্যান, কিছু “কন্টেইনার”, একটা ছোট ক্যাম্প…


* **একাএक আলট্রা-হাই ভোল্টের নিয়ে ঢোকে** গুরুতর টিম —

  রিজভীর হ্যাক ডিভাইস চালু,

  গিয়াস-জারা-সুমিত টিমের পাল্টা অ্যাক্টিভেশন…


* **জঙ্গি লড়াই**, **ড্রোনস দিয়ে শনাক্ত**, **ন্যাম্রতা পূর্ণ রড** দিয়ে হামলা শুরু…



  গিয়াস নিজে **ড্রোন শ্যুট** করে পতন,

  জারা **স্ক্যান করে বোমা**,

  সুমিত দেন **ব্ল্যাক ম্যানিপ্যুলেট**,

  রিজভী হ্যাকে ভ্যানের ঈগল লোগো...


* **তাদের একসাথে কথা**:

  গিয়াস ফিসফিস করে,


  > “যুদ্ধ চালাতে পারি — যদি তুমি পাশে থাকো।”

  > জারা নির্দিষ্ট চোখে দেখে...

  > “সে পাশে থাকবে... সবসময়।”


* **শেষ মুহূর্ত** —

  তাদের রিকভারি এলাকা থেকে পড়ে গেছে একটা **USB পেনড্রাইভ**…

  রিজভী ধরল।

  সিসির ফুটে আসে **ডেপথ ক্যামেরায়** দেখা গেছে:

  একটা নাম — *"Operation DawnBreaker 002: Target – Scorpion Legacy"*



* এই ডকুমেন্টে USB ড্রাইভে **“Operation DawnBreaker”** কি আছে?

* **নতুন শত্রু এই ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারলে** কোন ভয়ানক পরিণতি?

* **জারা-গিয়াস-সুমিত-রিজভী** দল কীভাবে তা রুখবে?

* **শহরের রাজনীতিতেও** ঢুকছে তারা — কমিশনার ও সাইবার আর্টিস্টের দাপট…




আপনার ওয়ার্কশপে এখন এই পর্ব শরীর খেতে চাইলে, প্রস্তুত মঞ্চে— প্রস্তুত? 😊

নিশ্চিতভাবেই! নিচে আপনার জন্য উপস্থাপন করলাম **“বাঁধন – পর্ব ১৭: ডন ব্রেকার ফেসিং”**, যা হবে এখনো পর্যন্ত আপনার সিরিজের সবচেয়ে **টানটান, অকল্পনীয় ক্লাইম্যাক্স**:




* **স্থান:** রাত্রে ‘রিকভারি রুম’—দেহাত আলো, স্ক্রীনে USB ড্রাইভের অনুভূমিক লাইন।

* **রিজভী** USB প্লাগ ইন করে, স্ক্রিনে আসে:


  ```

  OPERATION DAWNBREAKER 002

  TARGET: SCORPION LEGACY

  PAYLOAD: NEUROTOXIN DRONES

  LOCATION: UNDERGROUND WAREHOUSE 45

  ```

* সে ফিসফিস করে: “তারা নিয়েছে আমাদের সব… সময় কমে এসেছে।”





* গিয়াস, জারা, রিজভী ও সুমিত এক টেবিলে বসে স্ট্রাটেজি আলোচনা করছে।

* **জারা:**


  > “ড্রোনগুলোতে বায়োলজিক টক্সিন আছে... আমরা চাইলেই তা নিষ্ক্রিয় করতে পারি—কিন্তু।”

* **গিয়াস:**


  > “আমি রাখতে পারব না কেউ যেন শহরে বিষ বর্ষণ করে…”

* **রিজভী:**


  > “আমি টার্মিনালে ঢুকে ড্রোন কোড ঢেকে দিব মেটা-লেভেলে…”

* **সুমিত:**


  > “আমি নিরাপদ করিডোর তৈরি করবো—আমি আজ ঋণ শোধ করেছি।”

  > → \*\*পরিকল্পনা চূড়ান্ত।




* রাত ৩টা— তারা হাফ-আইডেন্টিফায়ার ক্রিকেটের ব্যাগ নিয়ে ওয়ারহাউসে যায়।

* রিজভী কোড রাইট করছে, গিয়াস ওয়াচ করে ড্রোন প্লাটফর্ম, জারা বাহির দিয়ে নিয়ন্ত্রণ, সুমিত প্রটেকশন রোডস্ক্যান।



* **অন্য দিকে:** ওই গুদামে ঢুকছে **কন্টেইনারস**—সোহেলের নতুন দল।

* তারা বায়ো-ড্রোন পরীক্ষা করছেন, হামলার প্রস্তুতিতে।




* বাইরে বৃষ্টির শব্দ, ভিতরে টিম পজিশন নিচ্ছে।

* রিজভী হঠাৎ ফিসফিস করে:


  > “গিয়াস ভাই—তারার মতো লাল আলো… ক্র্যাশ কোড 47!”

* তখনই বৈদ্যুতিক আউটেজ—পুরো ওয়ারহাউস অন্ধকারে প্লাটি।




* **ড্রোন উড়ে**, ভূতলার ঘোড়ার মতো ব্যাল করে অ্যাটাক শুরু—

* গিয়াস ছুটে ছুটে সিগনেল জ্যাম সিরিজে ঢুকান, ড্রোন ভেঙে যায়।

* **জারা** বাধা দিচ্ছে দোষ হোল্ডার—সুমিত বাইরে করে সেকশন ক্লিয়ার।

* **রিজভী** কোড ইনজেক্ট করে মেটালেভেল ম্যানিপুলেশন—ড্রোনগুলো নিজেদের ক্ষেত্রে ফিরে যায় এবং তারা হারিয়ে যায়।




* **ড্রোন কর্মকর্তার সাথে তীব্র সংঘর্ষ।**

* **একটি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়**, ভাঙ্গা গাছ ঘরে ঢুকায়।

* তখন… **ঘোড়া ফিরে আসে**—ড্রোন চালানোর আসল মাষ্টার/নিয়ন্ত্রক হলো… **রিজভী নিজেই এক ছোট DRONEBOT!**

  সে তার ইউনিফর্ম খুলে দেখায় – মোড়া গোড়ায় সাদামাটা এলাকা।




  > “আমাদের শহর বাঁচল... তবে একজন শহুরে খল নায়কের জন্ম হতে চলেছে!”


* **রিজভী** বলে,


  > “দেখবে না যে আমরা কি দিয়েছিলাম… দেখবে কি দিই ওদের!”


* **সুমিত** হেসে টিবি দেয় ও ফুল এক্সপ্রেশনে,


  > “আমি আর শুধু পুলিশ না—আমি তোমাদের পরিবার!”


* **গিয়াস** রিজভীর চুলে হাত বোলিয়ে বললো,


  > “সে হবে একজন হিরো… না, সে হবে রক্ষণশীলের বীর।”


* **এই মুহূর্তে** মোবাইল এলার্ম!

  স্ক্রিনে লেখাঃ

  **“DRONEBOT: MISSION SUCCESS. NEXT TARGET: 095 – CITY HALL”**


**স্ক্রিন ব্ল্যাক!**



আপু থেকে বউ পর্ব ৯ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব ৯

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 



সোহেল হাসপাতালে মৃত্যুশযায়ে পড়ে একটি স্বিকারোকতি সুচনায় দিয়েছে: “আমি মরছি... ক্যানসারে পীরি চলে গিয়াসকে একটি বিষ দেয়েছি... সে রুকতের মতো রাগে বাচবে পারবে না..."


জারা চাপ্পা হয়ে গিয়াসের চোখ দেখে মর্নিয় সবাল অপরাধ প্লান। মৃত্যু হলে। সে হেচে টেঙ্ক হেক করে একটি এসিজি মেশিন হ্যাক করে।


রিজভী শেষ হয়ে গিয়াসকে: সোহেলের পুত্রোপে বুমি পেয়েছে। সে হ্যাক করে চলে সোহেলের ল্যাব ট্র্যাক করে তার সব কাচকাছে ।


"রিজভী হাসতে হাসে স্কুলের প্রস্জেক্টে লিখলো। কাচে লিখলো। চুনি জানোর বাবা একটা হিরো... আর আমি?"


বৃষ্টি ভেজা আকাশের নিচে একটি ছোট্ট স্কুল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট রিজভী, হাতে একটি অদ্ভুত কালো রঙের ইউএসবি। তার চোখে-মুখে নিষ্পাপ কৌতূহল আর শয়তানি মিলেমিশে এক অদ্ভুত আলো। ভেতরের ক্লাসরুমে শিক্ষক বলছে, "তোমাদের প্রজেক্টের বিষয়: আমার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।"


রিজভীর গলায় খামখেয়ালি আত্মবিশ্বাস, "আমি একজন হ্যাকার হবো। আমার বাবার মতো, আর আমার খালার মতোও। কিন্তু আমি ওদের চেয়েও ভয়ংকর হবো।"


---


**ফ্ল্যাশব্যাক - পাঁচ বছর আগে:**


সোহেলের মৃত্যুর পরে হাসপাতালের করিডোরে গিয়াস দাঁড়িয়ে, বুক চিরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। পাশে জারা। গিয়াসের চোখে পানি – কিন্তু সেটা কোনো এক আনন্দ আর ভয়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।


"তুমি বাঁচবে না গিয়াস," জারা বলে। "সোহেল বলেছে, তোমার রক্তে সে বিষ ঢুকিয়েছে।"


গিয়াস চুপ করে থাকে। তার হাতে মায়ের লেখা শেষ চিঠি।


"তুই সোহেলের ছেলে না... তোর বাবা আজিজুল হক।"


গিয়াসের চোখে বিস্ময়। "আমি তোকে মেরে ফেলতাম, যদি না জানতাম তুই আমারই রক্ত... কিন্তু এখন জানি, আমি ওর রক্তই না। তাহলে আমি কে?"


জারা তার হাত ধরে। "তুমি আমার সন্তানের বাবা। সেটাই এখন সবচেয়ে বড় পরিচয়।"


---


**রিজভীর আত্মবলিদান:**


হাসপাতালের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে রিজভী তার শেষ অপারেশন চালাচ্ছে। সে সোহেলের গোপন ব্যাকআপ ফোল্ডার ডিলিট করে, গ্লোবাল ট্রান্সফার ব্লক করে দেয়। ঠিক তখনই পিছন থেকে গুলি লাগে।


রক্তাক্ত মুখে সে বলে, "গিয়াস ভাই... আমার কোডনেম ছিল স্করপিয়ন কিলার। শেষটা তোমার করতে হবে..."


---


**বর্তমান:**


গিয়াস এখনো বেঁচে। দুর্লভ এক প্রতিষেধক খুঁজে পেয়েছিল সুমিত, তার মায়ের রেখে যাওয়া গবেষণা থেকে। সে এখন একটি সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম চালায়: **Scorpion Killer Inc.**


জারা এখন শহরের পুলিশ কমিশনার। তার চোখে আগুন, কথায় বরফ। অপরাধীরা নাম শুনলেই থরথর করে। কিন্তু বাড়ি ফিরে এসে সে ছোট্ট রিজভীর আঁকা ছবি দেখে হাসে – তাতে লেখা: "আমার পরিবার: হিরো বাবা, সুপারমম, আর আমি: মিনি হ্যাকার!"


একদিন রিজভী তার ব্যাগ থেকে একটি পুরনো ইউএসবি বের করে। সেটি রিজভী (বড়) তাকে দিয়ে গিয়েছিল। সে চালু করে, স্ক্রিনে আসে এক লাইন কোড:


"If you're watching this, it means I died for love, not for revenge. Hack the world with truth."


রিজভী মুচকি হাসে। তার চোখে জ্বলে ওঠে নীল আলো। ঠিক তখনই একটি ফোন কল আসে। অপর প্রান্তে একটি রহস্যময় কণ্ঠ:


"তুমি প্রস্তুত তো, ছোট স্কর্পিয়ন? এখন খেলাটা তোমার।"



রিজভী জানালার দিকে তাকিয়ে বলে, "আমি শুধু শুরু করেছি... এবার ইতিহাস আমি লিখবো।"

চলবে.....

আপু থেকে বউ পর্ব ৮ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব ৮

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 

১০,১১

হাসপাতালের করিডোরে ছায়া আর নৈঃশব্দ্যের রাজত্ব। ডাক্তারেরা ঘর থেকে বেরিয়ে একে একে মাথা নেড়ে চলে যায়। সবাইকে জানান হয় — "গিয়াস মারা গেছে।"

জারা স্তব্ধ। তার চোখে জল নেই, কেবল এক ধরনের আতঙ্ক জমে আছে।

হঠাৎ সে গিয়াসের ঠাণ্ডা আঙুলে মৃদু কাঁপুনি টের পায়। খুব ধীরে নড়ছে আঙুলটা। তার চোখ আটকে যায় ECG মনিটরে — সোজাসাপ্টা ফ্ল্যাট লাইন! কিন্তু... সেই যন্ত্রটাও একটু অস্বাভাবিকভাবে ঝাঁপছে মাঝে মাঝে!

হাসপাতালের সিসিটিভি কন্ট্রোলে হ্যাকার রিজভী বসে আছে। মনিটরে কোডিং চলছে, আরেকটি স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে — গিয়াসের বুকে ইলেক্ট্রোডে যুক্ত একটা ছোট সার্কিট!

রিজভী ফিসফিস করে, "তুই মরিস না ভাই... এখনো যুদ্ধ বাকি।"



সোহেল তার ডার্ক ওয়েব ল্যাবে দাঁড়িয়ে। সামনে খোলা একটি ল্যাপটপে টাইমার চলছে। ২৪ ঘণ্টা পার হলেই — অটো-মেইল ছড়িয়ে যাবে সর্বত্র: "গিয়াসের মা জীবিত নয়। সে ছিল একজন পেইড অ্যাক্ট্রেস।"

কিন্তু...

সোহেল জানে এটা মিথ্যে। সত্যিটা ভয়াবহ — গিয়াসের মা এখনো জীবিত, তারই ডেনের নিচতলায় বন্দি।

সোহেল কাঁদে না, কিন্তু তার চোখে ক্রুর আত্মবিশ্বাস।

"জারা... তোমার সন্তান আমার শেষ অস্ত্র। তুমি হারবে।"



রিজভী দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকার এক গ্যারেজে। তার ফোনে সোহেলের নাম দেখা যাচ্ছে। একটানে কল করে — কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডিসকানেক্ট করে দেয়।

সে বলে ওঠে, "আমি পারবো না। তুমি আমার বাবা হলেও, আমি এখন আর অন্ধ নই।"

সে ব্যাগ থেকে তুলে আনে এক পেনড্রাইভ। তাতে থাকা কোড দিয়ে সে সোহেলের সুইস ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়।

"শুরু হলো বাবার পতন... মেয়ে হাতেই।"



হাসপাতালের রুমে গিয়াসের নিথর দেহের পাশে বসে জারা। চোখ বুজে সে একটা চিঠি বের করে। গিয়াসের হাত মুঠোয় ছিল।

"জারা... যদি কখনো আমি না ফিরি, আমাদের সন্তানকে রক্ষা করো। তার নাম রাখো 'রাহাত' — যেন সে জানে, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসাই সবশেষে জেতে।"

জারার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। সে উঠে দাঁড়ায় — গন্তব্য: কোথাও নিরাপদ। কিন্তু...

হাসপাতালের করিডোরে হঠাৎ সে থমকে যায়। সামনে দাঁড়িয়ে আছে সুমিত।

তার চোখে কোনও সহানুভূতি নেই। সে এগিয়ে আসে, হাতে ধরা একট সুই।

জারা পেছন দিকে সরতে থাকে, ফিসফিস করে: "তুমি এখনো সোহেলের হয়ে খেলছো, তাই তো?"

সুমিত বলে: "আমি কারও হয়েই খেলি না। আমি শুধু ফিরিয়ে দিচ্ছি... রক্তের ঋণ।"



ছয় বছর আগের রাত। আজিজুল হক বন্দুক নিয়ে ছুটে এসেছে গুদামে। সেখানে আছে সোহেলের ড্রাগ কার্টেল। সে হাসানকে বাঁচাতে এসেছিল। গুলির শব্দ, চিৎকার... তারপর নীরবতা।

দেয়ালে রক্ত লেখা: "অভিযানে মৃত্যু"

কিন্তু একটা ছায়া দেখছিল সবকিছু। গিয়াসের মা। চোখে ভয়ের ছাপ। আর তখনই সোহেল পেছন থেকে এসে বলে: "তুই বললে মরবি... না বললে বন্দী হবি।"



রাত গভীর। হাসপাতালের বিদ্যুৎ চলে যায়। সিকিউরিটি লাইট ঝাঁপায়।

সোহেল মুখোশ পরে, বন্দুক হাতে ঢুকে পড়ে রুমে। গিয়াসের শরীর এখনো নিথর।

সোহেল গিয়াসের দিকে বন্দুক তোলে — "তোর খেলা শেষ।"

ঠিক তখনই — গিয়াসের চোখ খুলে যায়। সে ঠান্ডা কণ্ঠে বলে:

"তুমি আমাকে মারতে পারো... কিন্তু আমার সন্তানকে নয়।"

এক গুলির শব্দ।


শেষ দৃশ্য:

জারা পেছনে ঘোরে — সুমিত দাঁড়িয়ে আছে, হাতে সিরিঞ্জ। কিন্তু সে স্থির হয়ে গেছে।

তার চোখে কান্না।

পেছন থেকে একটা কণ্ঠ:

"সুমিত, শেষ করতে চাও? না মুক্তি দেবে নিজেকেই?"

গিয়াস দাঁড়িয়ে আছে, রক্তাক্ত, কিন্তু চোখে আগুন।

"জারা নিজের গর্ভে হাত রেখে বললো — আমি কিছুতেই হারবো না। তুমি আমার রক্ত... কিন্তু সে আমার ভালোবাসা।"

 

হাসপাতালের এক কোণায় রাখা একটি লাশ। মুখ ঢাকা, চোখ বন্ধ। ডাক্তার রিপোর্ট দেয় – "গিয়াস মৃত।"

কিন্তু...

একটি ফ্ল্যাশব্যাক:
রিজভী গিয়াসকে এক অদ্ভুত ইনজেকশন দেয়। "এই ড্রাগ তোর হার্টবিট বন্ধ করে দেবে দুই ঘণ্টার জন্য, ঠিক যেন তুই মারা গেছিস।"

সেই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল হ্যাক করা ECG মেশিন, আর হাসপাতালের লাশটা ছিল মোমের মতো দেখতে একটি ডামি।

আসল গিয়াস তখনই চলে গেছে — সোজা সোহেলের ডেনের ভিতরে!


সোহেলের ডেন – নিচতলায় এক বন্দি

গিয়াস নিঃশব্দে নামছে ডেনের নিচতলায়। দেয়ালের ভেতর থেকে শুনতে পায় — কারো কাশির শব্দ।

তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেই সে থমকে যায়।

একটি বুড়ি নারী, চুল সাদা, চোখ গভীর ক্লান্ত। কিন্তু মুখটা পরিচিত।

"মা...?"

নারী তাকিয়ে বলে, "তুই... গিয়াস? ওরা বলেছিল তুই পাগল হয়ে গেছিস।"

গিয়াস ভেঙে পড়ে। কিন্তু তখনই মা বলে ওঠেন, "সোহেল কখনো শিশু মারেনি। সে নিজের সন্তানের জন্য সব করতে পারে... কিন্তু তোদের জন্য? জানি না।"



জারাকে ধরে রেখেছে সুমিত। তার হাতে সিরিঞ্জ, চোখে ভয়।

"তুমি গর্ভবতী কি না জানতে চাই... এখনই," বলে সুমিত। জারা বাধা দেয় না। ফল আসে – পজিটিভ।

সুমিত কাঁপছে। হঠাৎ তার চোখে জল।

"আমি জানতাম না... শিশু আসছে!"

একটি ফ্ল্যাশব্যাক শুরু হয়:
সুমিতের মা – গিয়াসের মায়ের বোন। সোহেল তাকে মেরে ফেলেছিল, কারণ সে আজিজুল হকের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে চেয়েছিল!



রিজভী ল্যাপটপে বসে সোহেলের ডার্ক ওয়েব অটো-মেইল সার্ভার হ্যাক করছে। তার চেহারা ঘামে ভিজে গেছে।

ঠিক হ্যাক শেষ হওয়ার মুহূর্তে পেছন থেকে গুলি — সোহেল!

রক্তাক্ত রিজভী মাটিতে পড়ে বলে:

"আমার বাবা আজ খুন হলো... তোমার হাতে। কিন্তু আমার ভাই তোমাকে থামাবে!"

সোহেল থেমে যায় — সে রিজভীর মুখে নিজেরই চোখ দেখে। পেছনে পড়ে থাকে রিজভীর পেনড্রাইভ।



একটি গোপন ঘর। সোহেল, গিয়াস, জারা এবং গিয়াসের মা মুখোমুখি। মা বন্দি, গিয়াস পিস্তল হাতে, জারা গর্ভবতী।

সোহেল গিয়াসকে বলে, "তুই নিজেকে গুলি কর... নয়তো আমি এই গর্ভবতী মেয়েকে শেষ করে দেব।"

গিয়াস থেমে যায়। তার চোখে ধূসরতা, কাঁপা হাত পিস্তল তোলে...

ঠিক তখন জারা হঠাৎই নিচু হয়ে সোহেলের পায়ে কামড় বসায়!

সোহেল চিৎকার করে পেছনে হটতেই গিয়াস পিস্তল ছুড়ে ফেলে তার গলায় ঘুষি দেয়। মা উঠে দাঁড়িয়ে যায়...



বাইরে হেলিকপ্টারের শব্দ। লাইট ঝাঁপিয়ে পড়ছে জানালায়।

সোহেল পিস্তল তোলে, গিয়াসকে লক্ষ্য করে।

ঠিক সেই মুহূর্তে গিয়াসের মা সামনে এসে দাঁড়ায়।

এক গুলির শব্দ। সোহেলের হাতে পিস্তল নড়ে না... কিন্তু গিয়াসের মা কাঁপতে কাঁপতে পড়ে যায়।

"মা!!"

মায়ের শেষ কথা:
"তুই স্বাধীন, গিয়াস... রক্তের ঋণ মেটালো ভালোবাসা।"



জারা হাসপাতালের বেডে। তার পাশে গিয়াস। নবজাতকের কান্না ঘরভরিয়ে বাজে।

পেছনে পুলিশ দাঁড়িয়ে, সুমিত হাতকড়া পরা। চোখে জল, ঠোঁটে কিছুটা হাসি।

গিয়াস ফিসফিস করে,

"ওর নাম রাখবো... রিজভী। সে-ই আমাদের বাঁচিয়েছে।"


নবজাতক চোখ মেলে তাকায়... যেন সে জানে, তার জন্ম এক যুদ্ধজয়ের মধ্য দিয়ে এসেছে!

চলবে.... 

আপু থেকে বউ পর্ব ৬ লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ

পর্ব ৬

লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ





গিয়াসের চোখ স্থির।
সে নিশানা করে ট্রিগারে চাপ দেয়—

“ডাম!!”
সোহেলের কাঁধে গুলি লাগে, সে কাঁপে উঠে, রিমোট হাত থেকে পড়ে যায়!

রিমোট মাটিতে পড়ে চারদিক লাল আলো জ্বলে ওঠে—টাইমার: 00:10… 00:09…

গিয়াস সোহেলকে ফেলে টান দিয়ে জারাকে ধরে:
— “দৌড়াও!!”

জারা-গিয়াস ছুটে বের হয়।
দরজার বাইরে লাফিয়ে পড়ার ঠিক এক সেকেন্ড পর—

“ব্বুম!!”
পুরো রুম ধ্বংস। কংক্রিট উড়ে যায়, শকওয়েভে আশপাশ কাঁপে।

জারা পড়ে যায় গিয়াসের গায়ে।
হাঁপাতে হাঁপাতে গিয়াস বলে:

— “বাঁচলে… আবার বিশ্বাস করবা?”
জারা নিরুত্তর। কিন্তু তার চোখে একটা শঙ্কা গলে গিয়ে আশা হয়ে যায়।


সুমিতের মুখোশ খুলে যায়

ডিপার্টমেন্টের শাওন বলে:

— “ম্যাডাম, আপনি যে ফাইল চেয়েছিলেন, সেটা মিলেছে।
একটা ফাইল আপনার ডেস্কে রাখছি—‘S.H. Lineage’।”

জারা দেখে, সুমিতের জন্ম সনদে ‘হাসান চৌধুরী (সোহেলের ভাই)’ লেখা।

— “ও... তো সুমিত হলো হাসানের ছেলে?”

জারা অফিসে ফিরে সুমিতকে কফির কাপ দিতে গিয়ে দেখে, তার হাতা উঠেছে…
একটি উল্কি – একটি বিষাক্ত বিচ্ছু (Scorpion)!

সোহেলের গ্যাংয়ের চিহ্ন!

জারা এবার বুঝে যায়:
সুমিত “সিস্টেম” এর মধ্যে থেকেই ধ্বংস করছে সিস্টেমকে।


গিয়াসের ট্র্যাজিক পাস্ট (ফ্ল্যাশব্যাক)

ছোট গিয়াস মাটিতে কাঁদছে।

দেয়ালের ওপাশে এক পুরুষ কণ্ঠ—

“তোমার মা চলে যাবে... কারণ সে বিশ্বাসঘাতক।
আর তুই যাবে তোর মায়ের ভালোবাসার শত্রুদের কাছে। তোর নিরাপত্তার জন্য।”

সোহেল গিয়াসের মাকে গুলি করে।
রহমত এসে গিয়াসকে নিয়ে যায়।

“এই সত্য কখনো জানতে দিবি না! বড় হলে সে আমাদের ধ্বংস করবে!”

গিয়াস বড় হয়েও সবকিছু মনে রেখেছে
সে অপেক্ষা করেছে... প্রতিশোধের জন্য, নয়তো সত্যের জন্য।


 নতুন অ্যালায়েন্স গঠিত হয়

গিয়াস ও জারা খুঁজে পায় রওশন করিমের গোপন ডায়েরি।

ডায়েরিতে আছে ৫ জন অফিসারের নাম – যাদের কেউ কেউ এখন পুলিশের উচ্চপদে!
তাদেরই কেউ রহমত-সোহেল দ্বন্দ্ব তৈরি করেছিল।

তারা এক কিশোর হ্যাকার "রিজভী" কে খুঁজে বের করে।
সে বলে—
— “সুমিত স্যারের ফোনে ক্রিপ্টো-ওয়ালেট আছে। গত ১ মাসে ১৮ লাখ টাকা ঢুকেছে, পাকিস্তানি নম্বর থেকে।”
— “এই সিস্টেমের ভিতরেই শয়তান!”


 ভয়ঙ্কর কল... গাদ্দার বাবা?

পর্বের চূড়ান্ত দৃশ্য।

সুমিত ফোনে কথা বলছে।

— “স্যার, আপনার মেয়ে এখনই মরবে… যেমন আপনি আমার বাবাকে মেরেছিলেন!”

স্ক্রিনে দেখা যায়:
জারার বাবা, রিটায়ার্ড অফিসার রহিম চৌধুরী – একটা চেয়ারে বাঁধা! মুখে রক্ত, চোখে শঙ্কা!

স্ক্রিন কাঁপে।

জারা দূরে দাঁড়িয়ে... সব শুনছে!
তখনই ফোনে তার বাবার কণ্ঠ—

“জারা, এই প্রথম গিয়াসকে বিশ্বাস করো…
সে ছাড়া তুমি বাঁচবে না।

জারা ফোনে তার বাবাকে বলতে শুনে—
"এই প্রথম গিয়াসকে বিশ্বাস করো... সে ছাড়া তুমি বাঁচবে না!"


রাত সাড়ে ১২টা।

জারা ঘরের কোণে বসে। সামনে গিয়াস দাঁড়িয়ে।

ভেতরে এক অদ্ভুত নিঃশব্দতা।
গিয়াসের গায়ে পোঁড়া ধুলা, চুল এলোমেলো। জারার ঠোঁটে রক্ত।

গিয়াস ধীরে বলে—

“জারা… ওরা তোর বাবাকে কোথায় রেখেছে, আমি জানি।”

জারা উঠে দাঁড়ায়। কণ্ঠে যেন আগুন:

“তাহলে দেরি কেনো?
আজ রাতেই আমরা তাকে ফিরিয়ে আনব।
আজ রাত… শিকল ভাঙার রাত।” রিজভী হ্যাকার প্ল্যান দেয়

রিজভী, ১৭ বছরের টিনএজার, সামনে কম্পিউটার খুলে বসে।

“ওদের লোকেশন ট্রেস করতে পারিনি। কিন্তু ‘ডিপ ব্লু নেটওয়ার্ক’-এর একটা অডিও চ্যাট লগ পেয়েছি।”
“সেখানে একজন বলেছে: ‘পুরানো মিল ঘরের নিচে, আগুনে পুড়ে যাবে রহিম চৌধুরী।’”

গিয়াস কাঁপা গলায় ফিসফিসায়—

“ওরা ওনাকে আজই মেরে ফেলবে…”


মিল ঘরের অভিযানে পুরনো একটি ময়লা মিল ঘর। চারপাশে কাঁটা তার, রক্ষী।

আকাশে বজ্রপাত।

জারা, গিয়াস ও রিজভী তিনজনে রেইডে যায়।

জারা হাতে সাইলেন্সার লাগানো গ্লক।
গিয়াস কোমরে ছুরি, কাঁধে ফার্স্ট-এইড ব্যাগ।
রিজভীর চোখে নাইট ভিশন গগলস।

তারা চুপিচুপি ঢুকে পড়ে। রক্তের সিম্বল

ঘরের একাংশে বাঁধা জারার বাবা। চোখ বন্ধ, নিঃশ্বাস ধীর।
সুমিত দাঁড়িয়ে আছে – হাতে বড় সিরিঞ্জ। সে বলে—

“এই ইনজেকশনে যাবে না... যাবে রক্তের বিচার দিয়ে।”

ঠিক তখনই জারা ঝাঁপিয়ে পড়ে!
এক গুলি, দুই ঘুষি—সুমিত পিছিয়ে যায়।

কিন্তু এক দেহরক্ষী গিয়াসের দিকে ছুরি ছুড়ে মারে—
গিয়াস বাঁধন কেটে বাবাকে ছাড়াতে গিয়েই কেটে ফেলে নিজের হাত!

রক্তে ভিজে যায় বাঁধন। জারা চোখে জল ফেলে বলে—

“তুমি… নিজের রক্ত দিয়ে বাবাকে ছাড়ালে…”

গিয়াস হাসে। চোখ ঝাপসা।  বিচ্ছু উল্কির পুনরাবৃত্তি

সুমিত আবার হামলা করে।

জারা তার হাতা ছিঁড়ে ফেলে—সবার সামনে বিচ্ছু উল্কি বেরিয়ে পড়ে।

“তুমি হাসানের ছেলে! তুমিই সেই বিষাক্ত শিকারি… তুমি তো শুধু প্রতিশোধ চেয়েছিলে!”

সুমিত চিৎকার করে:

“তোমার বাবা হাসানকে মেরেছিল! আমি শুধু রক্ত ফেরত নিতে এসেছি!”


 গিয়াসের দ্বন্দ্ব – শেষ করবে, নাকি ছাড়বে?

গিয়াস সুমিতকে কাবু করে ফেলে।
ছুরির ফল ঠিক সুমিতের গলায়।

জারা চিৎকার করে:

“গিয়াস, করো না! তুমি আর ওদের মতো হয়ে যেও না!”

গিয়াস দাঁড়িয়ে থাকে… হাত কাঁপে।

“আমার মা… আমার জীবন… আমার শৈশব সব কেড়ে নিয়েছে ওরা।
কিন্তু… আমার ভালোবাসা আমাকে পশু বানাতে পারবে না।”

সে ছুরি ফেলে দেয়। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু।সোহেলের ভয়েস ও নতুন প্যাঁচ

একটি রেকর্ডার বাজে… সুমিতের পকেট থেকে:

“সুমিত, গিয়াসকে মারো না।
সে আমার রক্ত…
কিন্তু আমি তার চোখে আমার মৃত্যু দেখতে পাই।”

জারা-গিয়াস থমকে যায়।

জারা ফিসফিসিয়ে বলে—

“সে কি... বুঝে গিয়েছে… গিয়াস ওকে ক্ষমা করবে না?”


ক্লাইম্যাক্স ক্লিফহ্যাঙ্গার: দুঃস্বপ্নের চক্র ফেরে?

সকাল।
একটি গ্যারেজের ভিতর, অন্ধকারে একজন লোক এসে দাঁড়ায়।

সে মোবাইলে কারও সাথে বলে:

“তুমি গিয়াসকে বাঁচিয়ে ফেলেছো, জারা।
কিন্তু তোমার সত্যিকারের শত্রু আমি...
কারণ আমি সোহেলের ভাই নই।
আমি... তোমার হারানো ভাই, রাহাত।

স্ক্রিন ব্ল্যাক।

"জারা অজ্ঞান হওয়ার আগে দেখে... গিয়াস সুমিতের গলা কাটছে না, বরং তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে!"

চলবে....

আপু থেকে বউ পর্ব ৫ লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ

পর্ব ৫

লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ



[দৃশ্য ১: গুলি – অজ্ঞানতা – জেগে ওঠা]

আলো নিভে যাওয়ার পরপরই একটা বিকট শব্দ—
"ডাম!"

জারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পড়ে যায় মেঝেতে। মাথায় আঘাত।


[দৃশ্য ২: ধোঁয়াশা আর আবির্ভাব]

চোখ খুলে দেখে, সে একটা অজানা ঘরে। দেওয়ালগুলো ধূসর, ছাদে ক্যামেরা। সামনে দাঁড়িয়ে সোহেল চৌধুরী

সে হেসে বলে—

“সবসময় ভাবছিলে আমি শত্রু... কিন্তু শত্রুতো তোমার পাশেই ঘুমাতো, তাই না?”

জারা ঝিমঝিম চোখে তাকায়।

— “তুমি কি...?”

সোহেল হাত উঁচিয়ে থামায়।

“তোমার স্বামী... গিয়াস... সে কেবল তোমার নয়।
সে আমারও রক্ত… আমার ছেলে।”

[ক্যামেরা প্যান – দরজায় দাঁড়িয়ে গিয়াস – হাতে পিস্তল]


[দৃশ্য ৩: ফ্ল্যাশব্যাক – গিয়াসের শ্যাডো পাস্ট]

পাঁচদিন আগে...
রাতে গিয়াস সেই চাবি ব্যবহার করে সোহেলের পুরনো অফিসে ঢুকে পড়ে।
সে দেয়ালের পেছনের সিন্দুক থেকে পায় একটি পুরনো চুক্তিনামা

“Sohail & Rahmat Group – Partnership Deed – Confidential”
(রহমত = গিয়াসের বাবা)

গিয়াস থমকে যায়।

— “তাহলে বাবা আর সোহেল একসাথে কাজ করত?”
— “আর এখন... কেউ কাউকে বিশ্বাস করত না।”

ডায়েরির পেছনে লেখা:

“Sohail will destroy me... but not my son.”


[দৃশ্য ৪: সুমিতের খেলা জমে]

সুমিত, পুলিশের ফাইল ঘেঁটে, জারাকে দেখায়:

— “দেখুন, গিয়াসের নামে ছোটবেলায় এক মারামারির কেস ছিল। ছেলেটিকে কোমায় পাঠায়!”

জারা স্তব্ধ।

পেছনে সুমিত এক সিনিয়র অফিসারকে মেসেজ করে:

“স্যার, জারা নিজেই গিয়াসকে কভার করছে। আর্মড ইউনিট পাঠান।”

সুমিত ক্যামেরার সামনে শুদ্ধ, কিন্তু ভিতরে মাফিয়ার চৌকস কুকুর


[দৃশ্য ৫: জারার মানসিক ভাঙন]

জারা একসময় গিয়াসের বানানো সিক্রেট রুমে ঢোকে।

সেখানে দেয়ালে সে দেখে—
নিজের ছবি, GPS ট্র্যাকিং ডেটা, এক্সিডেন্ট লোকেশন... এমনকি সেই সিলেটের ছবিও যেটা তার অজান্তে তোলা।

সে দমবন্ধ হয়ে পড়ে।

হঠাৎই দেয়ালের ছায়ায় হাসান (সোহেলের মৃত ভাই) দাঁড়িয়ে।

“তুই এখনও গিয়াসকে বিশ্বাস করিস?
সে তো শুধুই একটা ছদ্মবেশ!”

জারা চিৎকার দিয়ে উঠে পড়ে—কিন্তু কেউ নেই।


[দৃশ্য ৬: ক্লাইম্যাক্স – সত্য উন্মোচনের মুহূর্ত]

ফের ফিরে আসা সেই ঘরে—

সোহেল বলে,
— “গিয়াস জানে না আমি ওর বাবা। সে কেবল প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল বাবার খুনের। কিন্তু এখন সময় খেলাটা শেষ করার।”

গিয়াস ধীরে বলে,
— “আমি জানতাম সব। কিন্তু আমি জারাকে ভালোবেসে ফেলেছি।”

সোহেল হেসে ওঠে—
— “তোমার ভালোবাসা... ওকে বাঁচাবে না।”

সোহেল পকেট থেকে একটা রিমোট তোলে।

— “তোমার সেই সিক্রেট রুম, যেটা তুমি জারার জন্য বানিয়েছো?

সেখানে আমি আগে থেকেই একটা বোমা বসিয়েছি।”

“টাইমার চলছে—৩ মিনিট বাকি।”


[শেষ দৃশ্য – পিস্তল উঠলো]

গিয়াস পিস্তল তোলে।
দেখায় সে জারাকে নয়, তাক করেছে সোহেলের দিকে!

“তোমার সময় শেষ, আব্বা...”

"ডাম!!"
(স্ক্রিন ব্ল্যাক)

“জারা চোখ মেলে দেখে—গিয়াসের পিস্তল তার দিকে না… সোহেলের দিকে তাক করা!”


🔥 পাঠকদের জন্য পরের পর্বে কিছু প্রশ্ন:

  • গিয়াস কি আসলেই গুলি করল? কাকে?

  • বোমা কি সত্যি ফাটবে?

  • জারা কি গিয়াসকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা করতে পারবে?

  • সুমিত কি শেষ পর্যন্ত ধরা পড়বে না?

  • সোহেল যদি গিয়াসের বাবা হয়, তাহলে সে কেন নিজের ছেলেকে মারতে চায়?

আপু থেকে বউ পর্ব ৪ লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ

পর্ব ৪

লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ




রাত ৩:১১

ছাদে একপাশে চুপচাপ বসে আছে গিয়াস।
হাতে একটা লোহার ছোট বাক্স। ভিতরে কি?

কেউ জানে না, এমনকি জারা-ও না।

সে বাক্সটি খুলে ভেতর থেকে বের করে ছোটখাটো কিছু যন্ত্রপাতি—কিছু অস্ত্রর অংশ, আর কিছু ইলেকট্রনিক সেন্সর।
তার চোখে চাপা গম্ভীরতা, ঠোঁটে মৃদু বিড়বিড়ানি—
"এবার যদি আসে... কাউকে ছেড়ে দেবো না।"

দূরে, ছাদের এক কোণে সে নিজের হাতে বানিয়ে রেখেছে একটি ছোট রুম—কনক্রিট, ইস্পাত আর লুকোনো ক্যামেরায় ভর্তি।
কেউ ভাববেই না এটি জারার জন্য প্রস্তুত এক নিরাপদ আশ্রয়
কিন্তু সে এটা জানে না...


সকাল জারা ঘুম ভেঙে দেখে গিয়াস নেই।

টেবিলে পড়ে আছে গিয়াসের মোবাইল।
অজান্তেই স্ক্রিন ট্যাপ করে ফেলে—
ওপেন হয় একটি পুরনো গ্যালারির ফোল্ডার

ছবিগুলো দেখে জারা হকচকিয়ে যায়।

একটি ছবি—তার ৩ বছর আগের, যখন সে সিলেটে এক্সিডেন্টে পড়েছিল।
তখন তার আশেপাশে কেউ ছিল না—তবু ছবিটা কেউ তুলেছে।

— “এই ছবি এখানে কীভাবে?”

সে আবার খেয়াল করে—পেছনে, দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছায়ামূর্তি। ফেস ব্লারড, কিন্তু গড়ন... গিয়াস?

জারার মনজুড়ে এক নতুন ভয়।


ডিপার্টমেন্ট এসআই সুমিত ফাইল হাতে হাসিমুখে হাজির।

— “ম্যাডাম, সোহেল চৌধুরী সম্পর্কে নতুন তথ্য। লোকটা বাম হাতি। সে সব সময় বাঁ হাতে অস্ত্র ধরত।”

— “তুমি নিশ্চিত?”
— “ডিবির ফাইল বলছে তাই।”

জারা মাথা নাড়লো।

কিন্তু ভিডিও ফ্রেমে সে যেটা দেখেছিল... সেখানে সোহেল স্পষ্টভাবে ডান হাতে বন্দুক ধরেছিল
কিছু একটা মিলছে না।

সুমিত কফি টেবিলের নিচে চুপিচুপি গিয়াসের একটি চাবির রিং ফেলে রেখে দেয়

সে জানে, একদিন কেউ এই চাবি খুঁজে পাবে… সোহেলের পুরনো অফিসে।


রওশন করিম

সন্ধ্যায় ফোন আসে—
রওশন করিম মারা গেছেন।

জারা স্তব্ধ হয়ে যায়।
হাসপাতাল বলে হৃদরোগে মৃত্যু

কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জারা নিজে চোখে দেখে গলায় হালকা ইনজেকশনের চিহ্ন

সে যেন কেঁপে ওঠে।

— “রওশন ভাই তো একদম ঠিক ছিলেন কাল! ইনজেকশন কেন?”

তদন্তে নেমে জারা বুঝতে পারে—হাসপাতালের CCTV ফুটেজ ডিলিট করা
যেই রাতের ঘটনা, সেই ফাইল গায়েব!


অতীত: ডায়েরির পাতা রাতে বিছানায় ফিরে এসে জারা তার পুরনো ডায়েরির পাতা উল্টাতে থাকে।

একটি পাতায় চোখ আটকে যায়—

“২০০৯, স্কুলে সোহেলের ভাই হাসানকে মারধর করেছিলাম।
সে নাকি আমাদের বাসায় চুরি করতে এসেছিল।
পরে বাবা চেপে যেতে বলেছিল।
কিন্তু সোহেল আমাকে হুমকি দিয়েছিল—‘তোর জীবনটা আমি চুরি করব একদিন’।
হাসান মারা গেছে। আমি জানি না সেটা কাকতালীয় না পরিকল্পিত।”

আরেকটি পাতায়—

“সোহেলের নামে একবার আমি হেডমাস্টারকে গোপনে চিঠি দিয়েছিলাম।
সে নাকি গাঁজা খায়, বলেছিলাম। সে তখন স্কুল থেকে সাসপেন্ড হয়।”

জারা থমকে যায়।

সে জানতো না, এতকিছুর শেকড় এত পেছনে।


রাত গিয়াস এসে দেখে, টেবিলে খোলা জারার ডায়েরি।

সে এগিয়ে গিয়ে পড়ে—

“গিয়াস কি সত্যি বলছে?
আমি তাকে বিশ্বাস করি… নাকি করি না?”

তার মুখে মৃদু হাসি, আবার চাপা কষ্ট।

ঠিক তখনই, জারার ফোনে আসে এক ইনকামিং কল।
অপর প্রান্ত থেকে কণ্ঠ ভেসে আসে—

"তুমি তোমার বরের গোপন পেনড্রাইভ দেখেছো...
এবার দেখো আমারটাও।"

স্ক্রিনে ভেসে ওঠে জারা-গিয়াসের বিয়ের ভিডিও ফুটেজ

ক্যামেরা ধীরে ধীরে প্যান করে এক কোণে দাঁড়ানো এক মানুষকে ফোকাস করে।

সোহেল চৌধুরী!

সে সেই সময়ও ওদের আশেপাশে ছিল!


ক্লিফহ্যাঙ্গার গিয়াস জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল।

জারা ধীরে ধীরে পেছনে ঘুরে বলে—
— “তুমি আমার ছায়ার নিচে ছিলে সব সময়… নাকি আমি তোমার নিশানায়?”

গিয়াস চোখ বন্ধ করে ধীরে উত্তর দেয়—
— “জারা, তুমি কি আমাকে সত্যি চিনতে চাও?”

পরবর্তী সেকেন্ডেই আলো নিভে যায়।
বাইরে গুলির শব্দ।
ছাদের দিক থেকে ভেসে আসে চিৎকার:

— “তাকে ধরো! সে পালাচ্ছে!”


চলবে…

৫ম পর্ব লিংক 

https//wwwnexstpartfiverepisot.com

রম্য কাহিনীর পর্ব: ৯(শেষ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

রম্য কাহিনীর

পর্ব: ৯ (শেষ)

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ



রম্য কাহিনী 

পর্ব: ৯ 

লেখক: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ


পরিবারের সবাই এখনও আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্ত। কিন্তু আমি কোনো এক ঝুঁকি নিয়ে বাঁচতে চাই, নিজেকে অন্যায় ভুক্তভোগী হিসেবে ভাবতে চাই না।



বাবার সঙ্গে কথা বলার সাহস জুগিয়ে, আমি সামনে গিয়ে বললাম,

“বাবা, আমি এই সিদ্ধান্তে অনড়। আমি সেই একজনকে বিয়ে করব।”



বাবার চোখে আঘাত আর হতাশা দেখা গেল, কিন্তু তিনি আমার সিদ্ধান্তের সম্মান জানালেন,

“যেখানে তোমার মন আছে, আমি তোমার পাশে আছি।”



এই কথাগুলো শুনে আমার মনে এক অদ্ভুত শক্তি আসল। সেই দিন থেকে পরিবারের সদস্যরাও ধীরে ধীরে আমার পাশে দাঁড়াতে শুরু করল।



আর সেই ছেলেটা—তারও পরিবর্তন শুরুর দিকে। ওর চোখে আগের ঘৃণা ধীরে ধীরে গলে যেতে শুরু করল।



আমাদের জীবন এখন নতুন মোড় নিচ্ছে। এই যাত্রা কঠিন হবে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি আমরা একসঙ্গে এই অন্ধকার পেরিয়ে আলো খুঁজে পাব।





দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, আমার ও ওর মধ্যে ছোট ছোট বিশ্বাসের সেতু গড়ে উঠতে শুরু করল। সে আমাকে বোঝার চেষ্টা করছিল, আর আমি ওর মানুষের রূপ দেখতে চেয়েছিলাম।



আমাদের কথা হলো স্বচ্ছ, কোনো ছলছুদের ছায়া ছিল না। প্রতিটি দিন আমাকে নতুন শক্তি দেয়, আর তার কাছ থেকে আমি সাহস পাই।



আমার পরিবারও ধীরে ধীরে মেনে নিচ্ছে, আর বাবার চোখে সে কঠোর কড়া ছাপ কমছে। তিনি বুঝতে শুরু করেছেন, এই বিয়ে শুধু আমার জন্য নয়, আমাদের সবার জন্য একটি মুক্তির গল্প।



আমি জানি, ভবিষ্যতে অনেক বাধা আসবে, কিন্তু এখন আমার ভেতরে এক আশার আলোকিত স্রোত বইছে।



আমি আর ভয়ে নড়ব না, আর বাঁচব নিজের মতো করে।



আমাদের গল্পের এই অধ্যায় যেন হয় বিশ্বাসের জয়।





আমাদের সম্পর্কের পথে বাধা কমেনি, তবে এখন আমরা একসঙ্গে। তার চোখে আমি পেয়েছি সেই শক্তি যা আমাকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।



পরিবারের মাঝে কিছু বিরোধ এখনো রয়ে গেছে, কিন্তু তাদের রাগের পেছনে আমাকে বোঝার ইচ্ছাও লুকিয়ে আছে।



আমাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম নতুন করে আমাকে শিখিয়েছে — যুদ্ধে জেতার জন্য দরকার ধৈর্য আর সাহস।



আমি জানি, আগামী দিনগুলো কঠিন হবে, কিন্তু আমি ভয় পাই না। কারণ আমার পাশে আছে মানুষটি, যাকে আমি বিয়ে করতে চাই।



আমাদের প্রেম শুধু একটা সম্পর্ক নয়, এটা একটি যুদ্ধে জয়ী হওয়ার গল্প।







আজ সেই দিন যখন আমি মুক্তির গান গাইতে পারছি। যন্ত্রণার আঁধার পেছনে ফেলে, সামনে দেখতে পাচ্ছি নতুন এক জীবনের আলো।



আমার বিয়েটা শুধু আমার জন্য নয়, এটা আমার স্বাধীনতার প্রতীক। সে ছেলেটার সঙ্গে আমার সম্পর্ক নতুন করে গড়ে উঠেছে — বিশ্বাস আর ভালোবাসায় ভরা।



আমার পরিবার ধীরে ধীরে আমাকে বুঝতে শিখেছে, আর আমি তাদেরও ক্ষমা করেছি।



যারা আমাকে দাগিয়েছিল, তাদের সঙ্গে আমার যুদ্ধ শেষ হয়নি, তবে আমি আর তাদের ভয় পাই না। কারণ আমার ভিতরে আছে অবিচল দৃঢ়তা।



আমি জানি, জীবনের পথে অনেক বাঁক আছে, কিন্তু আমি সেই বাঁকে বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকব, নিজের অস্তিত্বের জন্য লড়ব।



এই গল্পের শেষে আমি শুধু বলব — আমি বেঁচে আছি, স্বাধীন, শক্তিশালী এবং নিজের নিয়ন্ত্রণে।



**গল্প শেষ**




রম্য কাহিনী পর্ব: ৮ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

রম্য কাহিনীর

পর্ব: ৮ 

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ



অন্ধকার সেই দিনগুলো একদম কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। আমার মনে ভাঙন ধরেছে, আর সে ফাটল বাড়ছে প্রতিনিয়ত। পরিবারের কেউ কেউ আমার সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে চায় না, কেউ আবার আমাকে ডরাতে চেষ্টা করে। বাবার চোখে ক্লান্তির ছাপ, মায়ের কাঁদার আড়ালে বেদনার ঢেউ, আর ভাইয়ের চুপচাপ চাহনি সব আমাকে ব্যাথিত করে।


রাফির সঙ্গে আমার সম্পর্কও এখন আগের মতো আর নেই। ওর গর্ব আর আমার গৌরব—দুটোরই মধ্যেই ফাটল। ও বলছে, “তুমি বুঝছো না, তোমার এই সিদ্ধান্ত শুধু তোমার নয়, পুরো পরিবারের জীবন বদলে দিচ্ছে।”


আমি বললাম, “তোমারাও কি বুঝবে? আমি এই বিয়ে শুধু আমার জন্য নই, এটা আমার পুঁজি, আমার অস্তিত্ব।”


আমার ভেতরে একটা লড়াই চলছে, একদিকে আমার মন যা চাইছে, অন্যদিকে বাস্তবের কঠিন দেওয়াল। আমি বুঝতে পারি, এই ফাটল যদি না মেরামত করি, তাহলে সবকিছু ভেঙে পড়বে।


একদিন সন্ধ্যায়, আমি একা বসে ছিলাম আমার পুরনো ঘরটার বারান্দায়। বাতাসে একটা মৃদু শীতলতা, আর আকাশে গোধূলির রং মিশে গেছে। সেই সময়ই আমার মোবাইল বেজে উঠল। কলটা রাফির। ভেতর থেকে একটা কাঁটা বেয়ে গেল। আমি রিসিভ করলাম।


“আমরা কথা বলি, ঠিকঠাক,” ও বলল। “তোমার সঙ্গে একটা দরকারি কথা আছে।”


“ঠিক আছে,” আমি বললাম, “আসো দেখা করি।”


আমি জানতাম, ওর কথাগুলো সহজ হবে না, কিন্তু জানতেও চাইছিলাম। কারণ, হয়তো এই ফাটল মেরামত হওয়ার একমাত্র সুযোগ।


রাফির কণ্ঠ ছিল কঠিন, কিন্তু ভেতর থেকে যেন একটা ঝিঁঝিঁর সুর ছুঁটে আসছিল। আমরা দুইজনই সেই ছোট্ট কফি শপে বসেছিলাম, যেখানে কতদিন আগেও আমরা একসঙ্গে স্বপ্ন গড়তাম। আজ সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেছে, তার ভিতরে শুধু প্রশ্ন আর সন্দেহ।


“তুমি জানো, আমি তোমাকে কেন এত ত্যাগ করতে বলছি?” রাফি চোখের দিকে তাকিয়ে বলল।


আমি গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে বললাম, “না, জানি না।”


“কারণ, তুমি নিজের জন্যই লড়ছো, শুধু নিজের জন্য। কিন্তু তুমি কি বুঝছো, এই লড়াই তোমার চারপাশের মানুষদের জীবনেও কতটা প্রভাব ফেলে?”


আমি চুপ করে রাফির কথা শুনতে লাগলাম। ওর কথায় এমন এক ব্যথা মিশে ছিল, যা আমি এতদিন বুঝিনি।


“আমি চাইনি তোমাকে হারাতে,” ও বলল। “কিন্তু আমরা যদি একসঙ্গে না দাঁড়াই, তাহলে কেউই বাঁচতে পারবে না।”


আমার চোখে পানি এসে গেল। আমি কাঁদছিলাম, আর সেই কাঁদায় ছিল ঘৃণা, ভালোবাসা, ব্যথা সবকিছু মিশ্রিত। “আমি তোমাকে শুধু আমার স্বপ্নের জন্য নয়, আমার বাঁচার জন্যও চাই,” আমি বললাম।


আমরা দুইজনই বুঝেছিলাম, এই মুহূর্তটা আমাদের সম্পর্কের নতুন সূচনা হতে পারে। ব্যথার মাঝেও এক ধরনের আশা জাগছে।


বাইরের আকাশে তখন মেঘ ঘনিয়ে আসছিল, ঠিক যেন আমাদের জীবনের অন্ধকারের পর প্রভাতের অপেক্ষা।


রাফির কথা মনে মনে ঘুরে ফিরে বাজছিল, যেন কোনো অজানা সুর। কফি শপ থেকে বের হয়ে আমি শহরের ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিলাম। মনটা ছিল অস্থির, চোখে মেঘের মতো ঘোর কাঁপছিল।


যতই চেষ্টা করি নিজেকে বুঝাতে, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলাম, কেন আমি তাদের একজনের সাথে বিয়ে করতে চাই, হৃদয় কাঁপতেই থাকল।


আমার মনের গভীরে লুকানো একটা অন্ধকার আলো জ্বলে উঠেছিল—ব্যথা আর আশা একসঙ্গে গড়ে তোলে এক নতুন জ্যোতি।


আমি জানতাম, এই বিয়ে আমার জন্য শুধু ব্যক্তিগত লড়াই নয়, আমার পরিবারের জন্যও এক দৃষ্টান্ত। এটা ছিল আমার সম্মানের লড়াই, রক্তাক্ত হলেও।


এক হাতে আমার বাবার হাত ছুঁই, আর অন্য হাতে সেই ছেলের নাম বারবার মনে পড়ছিল, যার সাথে আমি বিয়ে করতে চাই। সে যেই হোক, আমার জীবনের অন্ধকারে একদম আলোর রেখা।


আমার আত্মবিশ্বাস আরও শক্ত হলো, আমার পথ অন্ধকার হলেও, আমি হার মানব ন

আগামী দিনগুলো আরও কঠিন হবে, কিন্তু আমি প্রস্তুত।




চলবে...


৯পর্ব লিংক

https//www.sfcchdcmbdafhvncdj.com





রম্য কাহিনী পর্ব: ৭লেখক: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

 


 

রম্য কাহিনী
পর্ব: ৭লেখক: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ
সকাল ৯টা ৩৪ মিনিট।এক কাপ গরম কফির ধোঁয়া হালকা করে জানালার দিকে উড়ে যাচ্ছিলো।কিন্তু আমার ভিতরের আতঙ্ক ঠিক সেই ধোঁয়ার মতো করে ছড়িয়ে পড়ছিলো…সেই অজানা নম্বরের ফোন কল—আর তার মধ্যে লুকানো হুমকি যেন আমার বুকের মধ্যে এক বিষাক্ত কাঁটা গেঁথে রেখেছে।
আমি রাফিকে জানাইনি কিছু।জানালেই সে ভেঙে পড়বে, আবার নিজেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করবে।আমি জানি, ও এখনো নিজের জন্য ক্ষমা করে উঠতে পারেনি।

দুপুরের দিকে পুলিশ এসে আমাদের বাসায় গেল।তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে নতুন কোনো ক্লু মেলেনি।কিন্তু এরপর থেকে প্রতিদিনই একটা না একটা আজব ঘটনা ঘটতে লাগলো।
কারেন্ট চলে যায় শুধু আমাদের বাড়িতে।
অচেনা লোকজন দেয়ালের নিচে দাঁড়িয়ে থেকে চলে যায়।
প্রতিদিন দরজায় প্যাকেট পড়ে থাকে— কখনো মেয়েলি জামা, কখনো পুড়ানো ছবি, কখনো রক্তমাখা পুতুল!
মা আর দিদি তো আতঙ্কে নাওয়া খাওয়া ভুলে গেছে।বাবা নিজে থানায় গিয়েছিলেন— কিন্তু পুলিশ বলছে কোনো প্রমাণ নেই, তাই কিছু করা যাচ্ছে না।বাবা ফেরার সময় শুধু বলেছিলেন—“এই সমাজে নারী শক্তি বলে কিছু নেই রম্য। তুমি একা এক সংগ্রামে নেমেছো— শুধু সাহস নয়, এখন বুদ্ধিরও পরীক্ষা।”

রাত ১১টা।
হঠাৎ একটা শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো।জানালার কাঁচ ভাঙার মতো শব্দ!
চোখ মেলে দেখলাম জানালার কাঁচ ভেঙে ঘরের ভেতর একটা কাগজ পড়ে আছে।
দৌড়ে গিয়ে সেটা হাতে নিলাম—লাল রঙে লেখা:
"তোমার শুদ্ধতার নাটক বন্ধ করো। না হলে ইতিহাস আবারও ফিরে আসবে— এবার আর কেউ তোমার পাশে দাঁড়াবে না।"

পরদিন সকালে থানায় গিয়ে এসআই ফারহানাকে চিঠিটা দেখালাম।উনি সেটা হাতে নিয়ে গম্ভীর হয়ে পড়লেন।
“এটা নিছক ভয় দেখানোর চেষ্টা না, এই চিঠিতে একটা গন্ধ আছে রম্য।”
আমি অবাক হয়ে বললাম—“কোন গন্ধ?”
উনি বললেন—“চিঠির কাগজটা দামী, এই রকম কাগজ সাধারণত অভিজাত ঘরের কেউ ব্যবহার করে। আর কালি? এই কালি সরকার অনুমোদিত কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোথাও পাওয়া যায় না।”
আমি বললাম—“মানে, ওরা এখনো সমাজের অভিজাত গোষ্ঠীর ভিতরে লুকিয়ে আছে?”
উনি বললেন—“সম্ভব। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কেউ তোমার চারপাশে আছে, যিনি তোমার সবকিছু জানে।”
আমি চমকে উঠলাম।

বাড়ি ফিরে আসতেই মা বললো—“আজ সকালে রাফি এসেছিল। তোমার খোঁজ নিয়েছে, কিন্তু তোমার কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা— সেটা বারবার জানতে চাইছিলো।”
আমি চুপ করে গেলাম।রাফি এখনো জানে না আমি হুমকি পাচ্ছি।আমি তাকে এই যুদ্ধের অংশ করতে চাই না, কিন্তু সেই ছায়া আমাকে যেন ছাড়ছে না।

সন্ধ্যায় রাফির বাসায় গেলাম।
ও আমাকে দেখে হকচকিয়ে গেলো।
“তুমি! এই সময়?”
আমি বললাম—“আমাকে কিছু কথা বলতেই হবে রাফি। এই যুদ্ধে তুমি চাইলেও আলাদা থাকতে পারবে না। কারণ ‘ওরা’ ফিরে এসেছে।”
ও হতভম্ব হয়ে গেলো।
আমি সবটা বললাম— অজানা নম্বর, হুমকির চিঠি, কাঁচ ভাঙা, রাতের ছায়া, সব কিছু।
রাফি মাথা নিচু করে বসে রইলো কিছুক্ষণ।
তারপর বললো—
“আমি জানি, আমার আগে যা করেছি— তার কোনো ক্ষমা নেই। কিন্তু এখন যদি তুমি আমাকে পাশে থাকতে দাও, আমি অন্তত একজন পাহারাদার হতে পারি। আমি এখনো যুদ্ধ করতে শিখিনি রম্য, কিন্তু তোমার জন্য লড়তে চাই। এইবার আমাকে তোমার পাশে দাঁড়াতে দাও।"

আমি চুপ করে রইলাম।কিন্তু মনে মনে ঠিক করলাম—এইবার আমি আর পালিয়ে যাবো না।
এইবার শুধু "ক্ষমা" দিয়ে শেষ করবো না।এইবার বিচার করবো। শাস্তি নিশ্চিত করবো।কারণ আমি শুধু একজন ধর্ষণের শিকার নারী নই,আমি একজন যোদ্ধা। আমি রম্য।


আমার মনের ভেতর এক অসহ্য অন্ধকার বাসা বাঁধছে। প্রত্যেক মুহূর্তে মনে হচ্ছে যেনো গা ঘেঁষে বসে আছে ভয় আর সন্দেহ। বাবার কথা, পরিবারের প্রশ্ন আর সেই সাতজনের চেহারা বার বার চোখে ভেসে ওঠে। আমি জানি, এ পথে হেঁটে ফিরে আসা সহজ হবে না।
রাফি আমার জীবনে হঠাৎ ঝড়ের মত ঢুকে পড়েছে। ওর রাগ আর গোপনীয়তা আমাকে বার বার বিভ্রান্ত করে। ওর চোখের সেই তীব্রতা যেনো আমার প্রতি এক ধরনের দ্বৈত প্রেম এবং ঘৃনার মিশ্রণ। ও যখন কাছে আসে, তখন আমার হারানো নিরাপত্তার খোঁজ পাই। কিন্তু যখন ও দূরে সরে যায়, তখন আমার ভয় আবার ফিরে আসে।
আমার বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্ক এখন যেনো ক্রন্দনের ধারায় ভেসে যাচ্ছে। উনি আমার জন্য সব করতে চায়, কিন্তু আমার সিদ্ধান্তগুলোকে স্বীকার করে নিতে পারছেন না। আমি জানি, উনি চান আমার জীবনে শান্তি হোক। কিন্তু শান্তি পেতে গেলে আমাকে প্রথমে আমার অন্ধকারের মুখোমুখি হতে হবে।
একদিন বিকালে, আমি রাফির সঙ্গে শহরের এক ছোট কফি শপে বসেছিলাম। ও ধীরে ধীরে বললো, “তুমি জানো, আমি কেনো এ জগতে এত রাগে আবদ্ধ?” আমি চুপ করে ছিলাম। ও বললো, “আমার জীবনও তোমার মতোই অন্ধকারে ভরা। আমি চাই তোমাকে বাঁচাতে, কিন্তু জানি না নিজের থেকে বাঁচাতে পারব কিনা।”
আমি ওর হাতে হাত রাখলাম। প্রথমবারের মতো অনুভব করলাম, আমরা দুজনই এক রকম নিঃসঙ্গ, কিন্তু একই রকম শক্তিশালী। এই শক্তি যদি একসাথে হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাহলে হয়তো আমরা অন্ধকারকে হারাতে পারবো।
কিন্তু এই আশা কি সত্যিই মিশন সম্ভব? আমার মাথায় হাজার প্রশ্ন ঘুরছে। ওদের সাতজন, আমার পরিবার, আমার নিজের মন – সবকিছু যেনো যুদ্ধক্ষেত্র।
চলবে...




৮ম পর্ব লিংক 

https//www.fhdnkhdxbnjfsxcjifkbvm.com

রম্য কাহিনী পর্ব: ৬ লেখক: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

 

রম্য কাহিনী

পর্ব: ৬

লেখক: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ


জেলের সেই ছোট্ট রুমে রাফির চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ।

সে কিছু বলেনি, আমিও না।

শুধু নিঃশব্দে আমাদের দু’জনার চোখে যেন ঝড় বয়ে চলেছে—

সে ঝড়ের নাম **অপরাধবোধ** আর **অবিচারের অভিমান**।

সে বললো না— “ক্ষমা করো।”

আমি বললাম না— “তুমি দোষী।”

তবুও অনুভব করলাম, **সেই নীরবতা অনেক কিছু বলে দিলো**।



বাড়ি ফিরে বাবা কিছু বলেননি।

মা চোখের সামনে এসে দাঁড়িয়ে শুধু বললেন—

“তুমি কি সত্যি… ওকে বিয়ে করতে চাও?”

আমি মাথা নিচু করে বললাম—

“জানি মা, কথাটা পাপের মতো শোনায়।

কিন্তু… আমি তো অন্য কাউকে কল্পনাও করতে পারি না এখন।”

মা চোখ মুছলেন।

"সে তোমার সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে রম্য…!"

আমি বললাম—

"আর সেই ক্ষতির ভার নিয়েই সে পুড়ছে এখন।

আমার মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে কঠিন শাস্তি সে পেয়েছে—

**নিজেকে ক্ষমা করতে না পারা।**

আর আমি যদি ওকে ঘৃণা করেই যাই, তাহলে তো ওর মধ্যে ভালো কিছুর জন্মই হবে না, মা।

তাহলে কি লাভ?"



পরদিন সকালেই বিষয়টা জানাজানি হয়ে যায়।

মিডিয়া, প্রতিবেশী, আত্মীয়—

সবাই আমাদের বাড়ির সামনে ভিড় করতে লাগলো।

বাবার মুখে একটাও কথা নেই।

একটা মুহূর্তে মনে হলো, বাবা আমাকে ত্যাগ করে দেবেন।

কিন্তু হঠাৎ সবাইকে চমকে দিয়ে বাবা ডেকে বললেন—

"আমার মেয়ে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা তার ব্যক্তিগত।

আমরা বিচারক না।

আর আমি যদি আজ তাকে ত্যাগ করি, তাহলে আমি তার সেই শক্তির উৎসটাই ভেঙে ফেলবো যেটা ওকে আবার বাঁচতে শিখিয়েছে।"





সেদিন বাবা আমার জন্য প্রথমবারের মতো দাঁড়ালেন সমাজের বিরুদ্ধে।

সবার মুখ থ মেরে গেলো।





কিন্তু… সমস্যা তো এত সহজে শেষ হয় না!

রাফি এখনও জেলে।

তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন পেতে হবে।

আমার পরিবার থেকে একটা আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হলো।

বেশ কয়েকটা শুনানি চললো।

জজ সাহেব কিছুটা অবাক, কিছুটা সংশয়ে বললেন—

“এই দেশে এমন উদাহরণ নেই।

একজন ধর্ষিতা তার ধর্ষকের জন্য জামিন আবেদন করছে! এটা তো সমাজের চোখে অন্যরকম বার্তা।”

আমি বললাম—

**“সমাজ যদি ভালো দিকটা দেখতে না পারে, তাহলে আমার কিছু করার নেই।

আমি শুধু একটা মানবিকতার গল্প লিখতে চাই, যার শেষটা হোক আলোর দিকে।”**



**আদালত রায় দিলো:**

**রাফি জামিন পাবে— তবে কয়েকটি কঠোর শর্তে:**

১. সে সামাজিক পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেবে।

২. সরকার অনুমোদিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকবে ছয় মাস।

৩. আদালতের নির্দেশ ছাড়া দেশ ত্যাগ করতে পারবে না।

আমি এই রায় শুনে চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললাম।

এ যেন বিজয়ের না হলেও, **বাঁচার অধিকার ফিরে পাওয়ার এক ঘোষণা**।



শেষ রাতে মা এসে বললেন—

“তুই কি সত্যি বিশ্বাস করিস, রাফি তোকে ভালোবাসে?”

আমি বললাম—

“মা, ভালোবাসা সব সময় ফুল, ক্যান্ডি, প্রেমপত্র না…

কখনো কখনো তা **পশ্চাৎপটে দাঁড়িয়ে, নিজের শাস্তি নিজে ভোগ করার নামও।**”

মা আর কিছু বলেননি।

শুধু কপালে একটা চুমু এঁকে দিয়ে চলে গেলেন।



রাফি জামিনে মুক্তি পেলো।

ঘরভর্তি মানুষ। মিডিয়ার ক্যামেরা।

আমি চুপচাপ সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।

রাফির চোখে পানি… আর ঠোঁটে একটাই কথা—

**“তুমি নিশ্চিত? আমি তো এখনো নিজের চোখে তাকাতে পারি না…”**

আমি শুধু হাতটা বাড়িয়ে দিলাম…

আর বললাম—

**“তুমিও বাঁচো। আমিও বাঁচি।

মিলেমিশে নয়… নিজেদের সাথে মিলিয়ে, নিজেরা বাঁচি।”

রাফির জামিন হওয়ার পর পরিস্থিতি যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে ততটাই জটিল হয়ে উঠলো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে আমাদের গল্প।
প্রায় প্রতিটি নিউজ পোর্টাল শিরোনাম করেছে—
"ধর্ষিতা তার ধর্ষককে করলো ক্ষমা— বিয়ে করার ঘোষণা!"
আর সেই শিরোনামের নিচে হাজারো মন্তব্য—
“প্রপাগান্ডা”, “নাটক”, “মেয়েটা টাকার লোভে বেহায়া হয়েছে”, “ধর্ষণ নিয়ে প্রেম সম্ভব?”

আমি প্রতিটা মন্তব্য দেখছিলাম, কিন্তু ভেতরটা কেঁপে উঠছিলো না।
বরং মনে হচ্ছিল, আমি এক পরীক্ষার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে পাস বা ফেল নয়— বরং আত্মবিশ্বাসটাই চূড়ান্ত উত্তর।

বাড়ির উঠোনে সাংবাদিকদের ভিড় আর বন্ধুবান্ধবদের কৌতূহলী চোখে আমাদের পরিবারের স্বাভাবিক জীবন যেন কোথাও হারিয়ে গেছে।

বাবা মুখ বন্ধ করে রেখেছেন, কিন্তু আমি জানি, ভেতরে একটা ঝড় চলছে ওনার মধ্যে।

এক রাতে খাবার টেবিলে বাবার কথাটা স্পষ্ট শুনলাম—

"রম্য, তুমি যদি এক মুহূর্তের জন্যও মনে করো, এই সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল— তাহলে ফিরে এসো মা। ভুল সিদ্ধান্তের দাম অনেক বড় হয়।"

আমি একটু থেমে বাবার দিকে তাকালাম।

"বাবা, তুমি নিজেও জানো, আমি সিদ্ধান্ত নিইনি হঠাৎ করে।
আমি নিজেকে ধ্বংস হতে না দিয়ে, এক অপরাধীকে পরিবর্তনের সুযোগ দিতে চেয়েছি। এটাই আমার প্রতিবাদ, এটাই আমার প্রতিশোধ।"

বাবা এবার আর কিছু বললেন না।
শুধু চুপচাপ উঠে গেলেন।

এদিকে রাফির জীবনও স্বাভাবিক না।

বাড়ি ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু তার নিজের পরিবারও তাকে পুরোপুরি মেনে নেয়নি।
তার মা-ও তাকে একরকম দূরে সরিয়ে রেখেছেন।
একমাত্র ছোট বোনটাই পাশে দাঁড়িয়েছে।

রাফি এখন এক সরকারি পুনর্বাসন প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছে।
প্রতিদিন সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেয়, রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা, শিশুদের পড়ানো—
আর প্রতি সপ্তাহে কাউন্সেলিং সেশনে যেতে হয়।

সে প্রতিদিন একটা ডায়েরি লেখে—
আমার অপরাধ, আমার অনুশোচনা, আমার নতুন জীবন।

একদিন বিকেলে আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম।

সে আমাকে একটা চায়ের দোকানে নিয়ে গেলো।
আমরা দু’জন সাধারণ মানুষের মতো বসলাম, প্রথমবারের মতো।

সে বললো—
"তুমি কি জানো রম্য, আমি আজকাল ঘুমাতে পারি। কারণ তুমি আমাকে দুঃস্বপ্নে থেকেও আলোর একটা পথ দেখিয়েছো।"

আমি বললাম—
"আমি চাই তুমি বদলে যাও রাফি। আমি চাই, তুমি নিজেকে এমন এক মানুষ বানাও, যাতে অন্য এক রাফির মতো কেউ আর কোনোদিন সেই ভুলটা না করে।"

রাফি কিছু না বলে মাথা নিচু করলো।

কিন্তু... গল্প এখানেই শেষ হয় না।

সেই রাতে একটা ফোন এলো।
অজানা নাম্বার।
আমি ধরলাম।

ওপাশ থেকে একটা ভয়ানক ঠান্ডা কণ্ঠ বললো—

"ভুল করেছো রম্য। রাফি শুধু একজন ছিলো। কিন্তু আমরা তো ছিলাম সাতজন। আর তোমার সেই ‘ক্ষমা’ আমাদের জন্য নয়… আমরা ভুলিনি।"

মাথার ভেতর বাজ পড়ে গেলো।
হাত ঠান্ডা হয়ে এলো।

আমি ফোন রেখে দিলাম।
কিছু বলিনি কাউকে।
শুধু জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।

আকাশে আবার সেই লাল নীলিমা।
কিন্তু এবার বাতাসে অজানা শীতলতা।

পরদিন সকালেই থানায় গেলাম।
এসআই ফারহানা বেগম আমাকে চিনতেন।
আমি বললাম—
"আমার সন্দেহ, ওরা ফিরে এসেছে। বাকি ছয়জন।"

তিনি চোখ সরু করে জিজ্ঞেস করলেন—
"আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে?"

আমি বললাম—
"না। কিন্তু আমি ওদের ভয় পাই না।
আমি শুধু চাই, এদের খুঁজে বের করা হোক। আমি আইনি পথে লড়বো।"

চলবে…

৭ম পর্ব লিংক 

httpswww.daetujxcjjfsbiddbkigdawv.com