রাত গভীর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাত গভীর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রাত_গভীর সাহিত্য_ডাইরি পর্ব_৩

রাত_গভীর 

সাহিত্য_ডাইরি 

পর্ব_৩



তখন দেখে একটা খুব সুন্দর মেয়ে। সম্ভব প্রিন্সের চেয়ে বয়সে ৩,৪ বছরের ছোট হবে।

হাবিব বলেঃ এটা হলো ইনতিয়াজ(প্রিন্স) এর বোন।আর প্রিন্সের সবচেয়ে বড়ো দূর্বলতা! জীন মেয়ে টির নাম হচ্ছে শাম্মি। জান্নাত আর সুমি আবার খেয়াল করে দেখে। আরে এই মেয়েকে কলেজ এ দেখে ছিলাম। ইন্টারমিডিয়েট এ মেয়েটি বিজ্ঞান বিভাগের ছাএী ছিল।

লাবু বলেঃ আরে এ কি কান্ড,

জীন ও দেখি মানুষের লগে পড়া লেখা করা শুরু করছে।

অর্ক বলেঃ তাহলে এখন আমারা জেনে গেছি প্রিন্সকে আমাদের কাছে আনতে হলে তার প্রাণের প্রিয় বোন শাম্মি ই যথেষ্ট। সুমি শোন হাবিব এর কাজ কমপ্লিট। এবার কিন্তু সুমি তোর পালা!

সুমি বলে ঃ ওকে লিডার।

অর্ক বলেঃ ভালো করে দেখ।শালার প্রিন্স আসে পাশে আছে নাকি?

সুমি চোখ জোড়া বন্ধ করতেই দেখার চেষ্টা করছে আশেপাশে অশরীর বা প্যারানরমাল কিছু আছে নাকি? সুমি হঠাৎ দেখতে পেল কেউ একজন খুব চেষ্টা করছে ঘরের ভেতর প্রবেশ করার।কিন্তু সে আগন্তুক চাইছে না সে সাজিয়ে রাখা বৃত্তে তার প্রবেশ হোক!

অন্য দিকে এদের সবার কান্ড দেখতে দেখতে রিনি ঘুমিয়ে পড়লো।

রাবেয়া বলেঃ রিনি এই রিনি!!!!ঘুমাই গেলি নাকি? সারাদিন শুধু ঘুম।আমরা আছি তুর চিন্তায়। আর তুই পড়ে পড়ে ঘুমাচ্চিস?তুরে তো ঘুমের মধ্যে পানিতে ফেলে দিলে ও তুই জানবি না।

কামাল বলেঃআহ! রাবেয়া। মেয়ে টা কে কেন বকাবকি করছো?রিনি মা তুই ঘুমিয়ে পড়।তুর মার স্বভাব ই এমন জানস তো।সারাদিন খালি বকবক করা। তুমি যে বলছো পানিতে ফেলে দিলে ও রিনি জানতে পারবেনা। ওর সাথে এর চেয়ে মারাত্মক কিছু হয়েছিল এবং হচ্ছে সে তো তার ও কিছু জানে না।

না জানি আমার কোন পাপের শাস্তি আল্লাহ এইভাবে আমার আদরের মেয়ে কে দিচ্ছে।

কথায় আছে, মা বাবা কোন দোষ করলে নাকি তার প্রভাব সন্তানের উপর পড়ে।

কামার আবার বলেঃ আর রাবেয়া, একটা জিনিস লক্ষ্য করু,রিনি কিন্তু আগের মতো গুলুমুলু নেই। আমার সুন্দর দেখতে মেয়ে টার শরীর অার স্বাস্থ্য কেমন জানি হয়ে গেছে। শালা,জীন ইনতিয়াজ(প্রিন্স) কে হাতের কাছে পাইলে হবে।শেষ করে দিবো শালা কে।রাতের পর রাত, রাত যখন গভীর হয় আমার মেয়ে সাথে সে, আমার মেয়ে রিনির অজান্তেই এক নষ্টামি খেলায় মেতে উঠে। আমি না রাবেয়া একটা জিনিস কিছু তেই মিলাতে পারছিনা।রাতে এতকিছু হয় কিন্তু রিনি কিছুই জানে না কেন?

আসলে রাবেয়া মেয়ে র স্বাস্থ্যের দিকে একদম খেয়াল করেনি।কামাল বলার পর লক্ষ্য করে দেখে। আসলেই কামাল যা বলছে ভুল কিছু বলেনি। এরপর

রাবেয়া বলেঃ ওগো। আসল ব্যাপার হচ্ছে, আমরা সবাই টেনশনে আছি।খাওয়া,দাওয়া রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।আর নবাবজাদি ঘুমাচ্ছে তাই দেখে বকে দিছিলাম।আর একটা কথা কি জানো,রিনির ও জেগে থাকতে হবে, রিনির ও জানা দরকার কি হয় ওর সাথে রাতে আঁধারে।আর রাত যখন ঠিক গভীর হয়ে আসে।কামাল তুমি একটা জিনিস বুঝতে পারছো না আর আমাকে দেখ!

আমি আরও হাজার টা প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছি না।

রাহাত হুজুর বলেঃ আরে তোমরা বউ জামাই ঝগড়া বিবাদ কেন বাধাচ্ছো?রিনি এখন ঘুমাক।প্রিন্স আসলেই।এমনিতে ও স্বজাগ হবে।আর তোমাদের সব প্রশ্নের উত্তর প্রিন্স কে হাতের মুঠোয় করে নিতে পারলে পেয়ে যাবে।আর কামাল আপনি আর ভাবি আর ঝামেলা করিয়েন না।লাবু ভাবির মত চুপ করে বসে থাকেন।

লাবু বলেঃ হুহ্ কি করবো?কি বলবো? বুঝতে না পেরে চেয়ে আছি। আপনাদের সবার দিকে।

অর্ক বলে উঠলো ঃসুমি তোর কাজ শেষ। জান্নাত তোর কাজের পালা।কাজ শুরু করে দে।

জান্নাত বলেঃতাহলে তুরা সবাই চুপ থাক।আমি জীন রাজা কে ডাকার চেষ্টা করি।

জান্নাত অনেকক্ষণ চোখ জোড়া বন্ধ করে জীনের রাজার নাম ধরে ডাকে। জীনের রাজা রশিদ। আপনি কি আমাকে শুনতে পারছেন?

শুনতে পেলে আমার ডাকে সাড়া দিন।আমার খুব জরুরি কাজে আপনাকে দরকার। বেশ কিছু সময় চলে গেল ।আর জান্নাত হতাশ হয়ে যাই। কেন সাড়া দিচ্ছে না জীন রাজা।

রাহার হুজুর বলেঃ ধৈর্য রাখতে। তিনি আরও বলেছেন,

কথায় আছে, আল্লাহ পাক ধৈর্য শীল ব্যক্তিকে বেশি পছন্দ করে।

জান্নাত আবার ধৈর্য ধরে আবার ডাকতে শুরু করে।

আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে জান্নাত।

রাহাত হুজুর বলেঃ আপনার ডাকে কি সাড়া দিচ্ছে?

জান্নাত বলে ঃ উনি এখন আমাদের সামনে আসবেন। আর যথা সম্ভব সাহায্য করবেন বলেছে।

একটু পর জীন রাজা।উপস্থিত হয়ে গেল।

জীন রাজা রশিদ বলে ঃ কী হলো জান্নাত?সমস্যা টা বলো?আর কি করতে পারি তোমার জন্য?

জান্নাত একে একে সব বলে।

আর হাবিব বলেঃ ওই জীন প্রিন্স এর ছবি আমার স্ফটিকে আছে। দেখেন যাহা পনা????

রাজা রশিদ যেন অবাকের চূড়ান্ত সীমাই পৌঁছে যায়।

রাজা বলেঃ এটা আমার ছেলে প্রিন্স ইনতিয়াজ।সে এত নিচু কাজ করতে পারে আমি ভাবতেই পারছিনা

আমি ওকে সুশিক্ষা দিয়েছি।নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে না হয় সে এমন করার কথা নয় বরং প্রশ্ন ও উঠে না।

রাজা রশিদ বেশ কয়েক বার তার ছেলে কে ডাক দেই। কিন্তু সাড়া দিচ্ছে না।

তখনই হাবিব বলেঃজীন যাহা পনা গোস্তাকি মাফ করবেন। আমরা আপনার ছেলের দূর্বলতা জানি।আর তার দূর্বলতা তার আদরের বোন শাম্মি।শাম্মি তো আপনার মেয়ে।যদি আপনার মেয়ে কে এখানে আনা হয় তাহলে প্রিন্স নিজে থেকে ধরা দিবে।

রাজা রশিদ বলেন ঃ আমি ও চাই সে তোমাদের কাছে আসুক।

রাজা রশিদ তার মেয়ে শাম্মি কে ডাক দেই। সাথে সাথে চলে আসলো।

হাবিব মনে মনে বলে বাহ! মেয়ে টা দেখি বাবার বাধ্য মেয়ে। হাবিব আরেক পলকে শাম্মির দিকে ফিরে তাকাই।

হাবিব মনে মনে বলছে ঃবাহ! বেশ সুন্দর জীন মেয়ে টা।কোমর অবধি ছুয়ে আছে কালো কালো চুল। আর গাঁয়ের রং হালকা গোলাপি। যেন আল্লাহ ওকে বানানোর সময় দুধের সাদা রঙের মধ্যে হালকা গোলাপি রঙ ডেলে দিয়ে ছিল ।বেশ সুন্দর। আর নীল রঙের শাড়িতে আরও আকৃষ্ট করেছে। এককথায় মেয়ে টা যেন একটা অপরূপা সুন্দরী।

তখনই,

জান্নাত কে দেখে শাম্মি অবাক।

শাম্মি বলেঃবাবা উনি তো আমার কলেজ এর batchmate।!!! আমি বিজ্ঞানে ছিলাম আর জান্নাত ব্যবসায়ি বিভাগে।

উনি কেন এখানে?আর তোমার না এখন রেস্ট নেওয়ার কথা ছিল। তুমি কেন এখানে? আর এই মানুষ গুলো কারা?আর আমরা এই বৃত্তের ভেতরে ঢুকে আছি কেন?

রাজা রশিদ বলেন ঃ মা তুই এতগুলো প্রশ্ন করতে থাকলে উত্তর কেমনে দিবো?

হঠাৎ অর্ক বলেঃ আমি বলছি আপনাকে পুরো ব্যাপার।পুরো ব্যপার শুনে,

শাম্মি যেন অবাক হয়ে যাই। আমার ভাই ইনতিযাজ এমন করতেই পারেনা।It's just impossible....

অর্ক বলেঃ আপনার ভাই এমনটাই করেছে। তাই আমাদের মেয়ে রিনির এই পরিস্থিতির স্বীকার।

শাম্মি বলেঃwait wait... আপনারা এতক্ষণ মেয়ে মেয়ে বলে কাহিনী টা বুঝালেন? নামটা বলেননি কেন?রিনি আমার পরিচিত। মেয়ে টা অনেক ভালো। আমি মাঝে মধ্যে ওকে দেখতেই আমার রাজ্য থেকে এখানে আসতাম। রিনি আমাকে একদিন বিপদ থেকে রক্ষা করে ছিলো।তাই রিনির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।আমি ওকে সাহায্য করবো।আর আমিও জানতে চায় আমার ভাই কেন এমন করছে? আমি ভাইকে ডাক দিচ্ছি।

রাজা বলেঃ আমি ডাকলাম। তুর বজ্জাত, হতচ্ছাড়া, কেয়ার লেস,বান্দর ভাই সাড়া দেয় নি।

শাম্মি অনেকক্ষণ ডাকলো।সে জানে তার ভাই কারো ডাকে সাড়া না দিলে ও তার ডাকে সাড়া দিবে। কারণ প্রিন্স তার বোনকে তার প্রাণের ছেয়ে বেশি ভালবাসে। আসলে ভাই বোনের ভালোবাসা গুলো এমনই হয়ে থাকে।


তখন সবাই দেখে। লালচে বৃত্ত টি আস্তে আস্তে সেই ঘরে প্রবেশ করছে। একটু পরে,লালচে বৃত্ত টি জীন প্রিন্স এর রুপ নেয়। মাথা নিচু করে বসে আছে প্রিন্স।

আর অন্য দিকে প্রিন্স রুমে প্রবেশ করার সাথে সাথে রিনি জেগে ওঠে।

আর প্রিন্স কে দেখে আঁতকে ওঠে।এতো মনে হচ্ছে স্বপ্নের সেই মানুষ।

রিনি মনে মনে বলছেঃ এই ছেলে তাহলে প্রিন্স।এই ছেলে তো আমার স্বপ্নে আসতো।আর স্বপ্নে দেখতাম আমার সাথে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যেতো। আর যার ফলে মিলন হয়ে যায় ।

তবে আমি যখন চোখ জোড়া খুললি,তখন কিছুই দেখতে পেতামনা। আর স্বপ্নে দেখতাম প্রতিদিন আমাদের মিলন হতো।

আচ্ছা, এমন মিলন স্বপ্নে হলে বাস্তবে কি কষ্ট হয়? আমার মাঝে মধ্যে অনেক কষ্ট হতো।তাই মাঝে মধ্যে বলে উঠতাম, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও।আমার কষ্ট হচ্ছে।

আর মাঝে মধ্যে দেখতাম আমি কোন এক সুখের দুনিয়ায় ভেসে যাচ্ছি। আর অনেক ভালো লাগা কাজ করতো!

আচ্ছা তাহলে কি যা স্বপ্নে দেখতাম! এগুলো কি আমার সাথে বাস্তবে হতো?

আর অন্য দিকে প্রিন্সের অবস্থা কিছু টা এমন যে,সে

তার মনে মনে খুব রাগ জারছে। তার বোন শাম্মি যদি না ডাকতো তাহলে সে কোন ভাবেই এখানে আসতো না।সে বোনের জন্য সব করতে পারে। এমনকি নিজের জীবন দিতে দ্বিতীয় বার চিন্তা করবেনা।এতটাই বোন শাম্মিকে ভালোবাসে।

আজ প্রিন্সের,

আত্মসম্মানে খুব লাগছে। কারণ সে একটা রাজ্যের ভবিষ্যতের রাজা।আর অপার শক্তির অধিকারি।মা বাবা ২ জনের শক্তি ই তার কাছে আছে।

তার পর ও কিছু মানুষ এর সামনে অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে বসে থাকতে হচ্ছে। বরাবরই তার ইগো তে লাগছে!

তখনই

প্রিন্স মনে মনে বলছে ঃ আমার কি এমন দোষ ছিলো। যে আমার বাবা আর বোনের সামনে আমার আত্মসম্মান একদম মাটির সাথে মিলিয়ে দিলো এই মানুষ গুলো ।আর যদি এই বৃত্তের ভেতরে না থাকতাম তাহলে ওদের সবাইকে মেরে শেষ করে দিতাম।আর এই রিনি কে ও শেষ করে দিতাম।

অনেক্ক্ষণ ধরে চেষ্টা করছিলাম,এই বাসায় প্রবেশ করার। কিন্তু অর্ক,আর রাহাত হুজুর দোয়া পানির কারণে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। আর রিনি নামাজ ঘরে থাকাতে তার উপর ভর করতে পারিনি।

আসলে আসল কথা কি জানেন, মানুষ যত দোষ করুক না কেন অন্যের দোষ বেশি দেখতে পাই।আর নিজেকে ধোঁয়ার তুলসী পাতা মনে করে।

ঠিক প্রিন্স ও নিজেকে ধোঁয়ার তুলসী পাতা মনে করচ্ছে।একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করে ও তার যেন একটু ও অনুতপ্ত হচ্ছে না।

লাবু বলেঃ আচ্ছা রাবেয়া ভাবি, এই প্রিন্সের চোখ এত লাল হয়ে গেছে কেন? আর মনে হচ্ছে যেন বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই আমাদের সবাই কে মেরে ফেলতো।

রাবেয়া বলে ঃ প্রিন্স কি করতো জানি না।তবে আমি হাতের কাছে পেলে। বেয়াদব কে আস্ত রাখতাম না।

কামাল বলে ঃ আহা! শান্ত হও।দেখি ওরা কি করে।

জান্নাত বলেঃপ্রিন্স সুন্দর করে বলবে কি কারণে রাত যখন গভীর হতো এমন অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হতে?না হয় আমাদের জানা আছে, তোমাকে ঠিক কি করতে হবে।

সুমি বলেঃ ভালো ভালো, সব স্বীকার করে নাও।

হাবিব বলেঃ অন্যতাই তোমার সাথে আমরা এমন কিছু করবো যা তুমি ইমাজিন ও করতে পারবে না। অবশ্য স্বীকার করলে শাস্তি কমে যাবে।

রাজা মশাই বলেঃ সব সত্যি কথা বল।তুরে সুশিক্ষা দিয়েছিলাম কেন এমন আহাম্মক এর কাজ করলি?

শাম্মি বলেঃ ভাই তুর বিয়ে করতে মন চাইলে আমাকে বলতি?মা বাবার সাথে এই নিয়ে কথা বলতাম।আর আমাদের রাজ্যের সেরা সুন্দরী তুর বউ করে আনতাম।উওর দে????

অর্ক বলেঃ প্রিন্স

তুমি কি জনো না রিনির একটা ভবিষ্যত আছে!

কেন মেয়েটার জীবন অল্প বয়সে ধ্বংস করে দিচ্ছো।

হঠাৎ প্রিন্স বলে উঠেঃ উফ! আপনারা কিন্তু আমাকে বড্ড জ্বালাচ্ছেন।চুপ করে আছি তার মানে এই না, যা ইচ্ছা বলবেন। আর আমি হলাম প্রিন্স আমাকে বকা দেয়ার অধিকার আপনাদের নেই।আপনারা ভুলে যাচ্ছেন আমি জীন রাজ্যের প্রিন্স। আর এই বৃত্ত টি না থাকলে বুঝতে পারতেন সবাই কত ধানের, কত চাল।আমার বাবা, বোনের সামনে আমার অপমান করা।তখন হারে হারে টের পেতেন এই অপমানির ফল।

রাজা ( রশিদ) বলেঃ বড্ড বেয়াদব হয়ে গেছস!আমার মানসম্মান মাটির সাথে মিশিয়ে দিলি।আর এই ভাবে কেন কথা বলতেচস?।সত্যি করে বল, রিনির সাথে এমন করলি কেন?

তোর তো কোন ক্ষতি করে নি ও।

প্রিন্স ( ইনতিয়াজ) বলেঃ বলবো না আমি। কাউকে জবাব দিতে বাধ্য নই আমি।

তখনই শাম্মি বলেঃ আজ যদি তুই সব খুলে না বলিস।কসম।আমি এমন জায়গাতে যাবো খুঁজে ও পাবি না।আর মনে রাখবি তুর কোন বোন নেই!!!আজ যদি সব স্বীকার না করিস তাহলে মনে করবি তোর শাম্মি নামে কোন বোন ই আর কখনো ছিলোই না!!!

প্রিন্স বলেঃ আমি কার জন্য আসছি এখানে ? তুই না ডাকলে আমি জীবনে ও আসতাম না এখানে। বাবার ডাকে ও সাড়া দেয়নি।দেখিস নি। জানিস তো।।প্লিজ বোন এমন করিস না।আমি বাঁচতে পারবোনা তুই বিনা।

শাম্মি বলেঃ তাহলে সব স্বীকার কর???কিন্তু

তবু ও বেশ কিছুক্ষণ প্রিন্স চুপ ছিল।

অর্ক বলেঃ কি হলো বল?প্রিন্স!

কামাল বলেঃ প্রিন্স ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছো মনে হয় আমাদের। সব বল না হয় তোমার অবস্থা খুব খারাপ হবে।

রাবেয়া বলেঃ এখন চুপ কেন? রাতের পর রাত আমার মেয়ে কে নিয়ে নষ্ট খেলাই মেতে উঠচস।ফস্টিনস্টি করচস।আমার নির্দোষ মেয়ে টা কিছুই জানতো না । আর এখন স্বীকার করতে বলছি,মুখে তালা দি রাকছস কেন?

লাবু বলেঃ শান্ত হন ভাবি। আপনি এমন করলে নিজেভ অসুস্থ হয়ে যাবেন।

হাবিব বলেঃ আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবো।না বললে তোমার উপর আমরা যে কোন সময় যে কোন action নিতে বাধ্য হব।

রাহাত হুজুর বলেঃ আমার রাগ উঠলে তোমাকে শেষ করে ফেলবো কিন্তু প্রিন্স ?তুমি জানো এটা করা আমার জন্য বড় ব্যাপার নই। যা বলার তাড়াতাড়ি বলো!!!

প্রিন্স তখন ও চুপ ছিল। তখনই হঠাৎ

জান্নাত বলেঃ শাম্মি তুমি বরং যেখানে যাবে বলছিলে চলেই যাও।তোমার ভাইয়ের মুখে তালা দিয়ে আছে। আর তোমার ভাই তোমাকে ভালোবাসে না। তাই এখন ও চুপ।চলে যাও।যত তাড়াতাড়ি পারো!!!!

শাম্মি বলেঃ এখনই চলে যাচ্ছি।ভাই তুই আমাকে জীবনে ও আর খুঁজে পাবি না

প্রিন্সের চোখ জোড়া অশ্রুতে টলমল করছে। আর চোখ জোড়া আগুনের গুলাগ এর মতো লাল হয়ে আছে ।ওদের প্রতি তিব্র রাগের বহিঃপ্রকাশ তার চোখ জোড়া দেখলেই বুঝা যাচ্ছে।

কথায় আছে, ভাইয়েরা হচ্ছে আল্লাহ পাক এর এক বড় নিয়ামত। বোনের সুখের জন্য, বোনের মুখে হাসি ফুটাতে তারা সব করতে পারে। সে কাজ যত কঠিন হোক না কেন। ভাইয়েরা সে কাজ অনায়াসে বোনের জন্য করে পেলে।

বিনিময়ে তাদের বোনের মুখে এক টুকরো হাসি। ভাইদের সব গ্লানি মোচন করে দেয়।

আসলে প্রিন্স ও বোনকে মারাত্মক ভালবাসে।

আর তাইতো,

শাম্মি যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই প্রিন্স চিৎকার দেয়। আর,

প্রিন্স বলেঃ আমি প্রতিশোধ নিছিলাম!!!!

প্রতিশোধ।।।।।

শাম্মি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রিন্সের দিকে।

শাম্মি বলেঃ তুই একটা জীন?

আর রিনি একটা মানুষ। আর তুই নরমাল কোন জীন নই।জীন রাজ্যের প্রিন্স। তোর সাথে ওর কিসের শত্রু থামি?

প্রিন্স দির্ঘ নিঃশ্বাস নেই।।

তখন অন্য দিকে রিনি সব শুনছিলো।কে কি বলছে, কি করছে!

তবে সে চুপ ছিল।

কারণ সে ও জানতে চায়। কেন রাতের গভীরে এমন একটা ঘৃণার কাজ প্রিন্স তার সাথে করলো।

আসলে বিয়ে পর স্বামী, স্ত্রির সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ হওয়া হালাল।এটা সবার কাছে গ্রহণনীয়।

কিন্তু বিয়ে আগে এরকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ হারাম।সকলের নিকট দৃষ্টি কোটো। আর সবাই ঘৃণার চোখে দেখে।

ঠিক তাই রিনির কাছে ও এটা একটা ঘৃণিত কাজ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

তখনই প্রিন্স চোখ জোড়া বন্ধ করে আর বলতে শুরু করে ঃআমি আর আমার বোন খুব ঘুরে বেড়াতাম। ২ জনে ভ্রমণ পিপাসু।আর আমাদের যখন যেখানে ইচ্ছা চোখের পলক ফেলতেই চলে যেতে পারি।সব জায়গায় তো জীন থাকে ।

বাবা খুব ভালো রাজা তাই সবাই বাবা কে অনেক সম্মান করে,ভালোবাসে।

আর যেখানে যেতাম সেখানকার জীনেরা আমাদের খেয়াল রাখতেন। আর যেকোনো সমস্যার মধ্যে পড়লে।যেখানে যেতাম সেখানের জীনেরা সামলে

নিতো।তাই মা বাবা ও নিশ্চিন্তে আমাদের ভাই, বোনকে ঘুরতে দিতো।কোন বাঁধা দিতো না।

কিন্তু একদিন বোন বলে।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঘুরবে।

তাই

একদিন আমি, আর বোন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসি। ২ জনে নির্ঝন

জায়গায় বসে ছিলাম।

কিন্তু একটু পর শাম্মি আমাদের বাসায় মানে আমাদের রাজ্যে ফিরে যাবে বলে।তার নাকি কি কাজ বাকি আছে।

আমাকে ও চলে যেতে বলে।কিন্তু আমি প্রকৃতির সুন্দর এই রুপকে আরোও উপভোগ করতে চাইছিলাম।

তাই বলি,তুই যা।আমি কিছুক্ষণ থাকি এখানে?

শাম্মি বলেঃ বুঝেছি তুই এই রোমাঞ্চকর সময় টা আরো উপভোগ করতে চাচ্ছিস?

প্রিন্স বলেঃ কেমনে বুঝস মনের কথা?

শাম্মি বলেঃ কিস কা বেহেন দেখনা পাড়ে গা!

এই বলে শাম্মি আমাকে রেখে চলে গেল।অল্প সময়ে নিমিষেই হাওয়ার সাথে মিলিয়ে গেলো।

আমি বসে ছিলাম একা। ঠান্ডা হাওয়া, নির্জন একটা জায়গা। সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন।

এক কথায় অসাধারণ একটা মূহুর্ত।আর অসাধারণ পরিবেশ।

কিন্তু ঠিক কিছুক্ষণ পরে আমি যেনো একটা কিসের শোরগোল এর শব্দ শুনতে পেলাম।এই শোরগোল কোথায় হচ্ছে তা দেখার জন্য

সমুদ্রের ধারে যে গাছ আছে। সে গাছের সারিতে খুজতে লাগলাম।

আর ঠিক তখনই একটা মিষ্টি গানের গলা শুনতে পেলাম।আমার মন সেই সুরে মাতাল হয়ে যাই ।

আরও দ্রুত খুঁজতে থাকি।

সেই কন্ঠ কে সে কন্ঠ রিতিমতো আমার হৃদয় কে ঘায়েল করে দিলো!

খুঁজতে খুঁজতে সমুদ্রের গাছের সারির একটু গভীরে গেলাম। তখন একটা গান গাইছিল সে ঘায়েল করা কন্ঠ সেটা ছিলোঃ

অনেক সাধনার পরে,

আমি পেলাম তোমার মন।

তুমি বুকে টেনে নাও না প্রিয় আমাকে,

আমি ভালোবাসি ভালোবাসি, ভালোবাসি তোমাকে।।।।

গানটা শুনছিলাম আর অবিরত খুঁজেতে থাকি।

ঠিক সেই মূহুর্তে দেখলাম,একটা মেয়ে কে বেশ কয়েক জন ছেলে মেয়ে চারপাশে ঘিরে বসে আছে। আর তাদের মধ্যে বসা।সে-ই মেয়ে টি গান গাইছে।

আমি মেয়ে টাকে ভালোভাবে দেখতে পারছিলাম না।

আমি তো অদৃশ্য আমি ওদের দেখতে পেলে ও ওরা কেউ আমার ইচ্ছে ছাড়া আমাকে দেখতে পাবে না।

তাই আমি আরেক টু কাছে গেলাম। যাতে আমার হৃদয় ঘায়েল করা কন্ঠের অধিকারিনীকে এক ঝলক দেখতে পারি।

ঠিক তখনই আমি দেখলাম,,,,,,,,,,

চলবে...

রাত_গভীর পর্ব_২ সহিত্য ডাইরি

রাত_গভীর 

পর্ব_২

সহিত্য ডাইরি



তখন রাবেয়া দেখলো, উজ্জ্বল একটা লালচে বৃত্তা কার কি যেন রিনির রুমে প্রবেশ করেছে জানালার ছিদ্র দিয়ে । এই লালচে বৃত্তটির উজ্জ্বলতা আসতে আসতে বেশি হতে লাগলো।আর বৃত্তের আকার ও বড়ো হতে লাগলো। আর এটা যেন লালচে রংয়ের কোন বৃত্ত নয়।এই যেন আগুনের তৈরি একটা বৃত্ত । রাবেয়া স্পষ্ট দেখতে পেল না।তবু মেয়ের জন্য তার কষ্ট হলেও দেখার চেষ্টা করছে। আসলে সন্তান এর জন্য মা বাবা সব কিছু করতে পারে। অবশেষে অস্পষ্ট ভাবে দেখলো লালচে বৃত্তাকার জিনিসটা একটা সুদর্শন যুবকে রুপান্তর হয়ে যাই। 

রাবেয়ার চোখ জ্বলে উঠে।আর সম্ভব হচ্ছে না তাকিয়ে থাকা।আর চোখ বন্ধ হয়ে আসে। আর সাথে সাথে ঘুম চলে আসে। রাবেয়া গভীর ঘুমে মগ্ন। বেশ কিছু সময় পর রাবেয়ার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আর দেখে ঘুমন্ত অবস্থায় রিনি বাথরুমে গিয়ে গোসল করে। তবে পানি কখন বালতিতে পুরাই ? 

শব্দ হয়নি কেন পানি পড়ার?

আর ও অবাক হয়ে যাই, যখন দেখে ঘুমন্ত অবস্থায় রিনি বাথরুম থেকে বেরিয়ে পড়ে। আর সেইম কাপড় পড়ে বেরিয়ে আসে। যে কাপড় পড়ে ঘুমিয়ে ছিল এই কাপড় পড়ে আবার বাথরুম থেকে বেরিয়ে পড়ে তাহলে ভেজা কাপড় গুলো কই?

আর চুল ও শুকণো কেন?

রাবেয়ার মাথা আর কাজ করছে না।

একসময় সেন্স লেস হয়ে পড়ে। সকাল এ সূর্যের প্রথম কিরণে তার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আর দেখে রিনি ঘুমাচ্ছে। খুব সাবধানে লুকিয়ে রিনি র রুম থেকে বেরিয়ে আসে। 

রিনি র বাবা কামাল কে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। আর বলে অফিসে যাবে না? 

রেডি হয়ে নাও।কিন্তু রাবেয়া কাল রাতে কি হলো কিছু ত বলো?

রাবেয়া বলে বলবো আগে অফিস থেকে আসো।

রাবেয়া রিনি কে ডেকে দেয়। রিনিঃ মা উঠ?

রিনিঃ মা আরেক টু ঘুমায়। কেন জানি সমস্ত শরীর ব্যথা করছে! 

রাবেয়া কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। রান্না করে। আর নাস্তা করতে রিনি আর কামাল কে ডাকে। কামাল নাস্তা করে অফিসে চলে গেল। 

আর রিনি নাস্তা করে কলেজ যাবে বলে রেডি হতে লাগলো। রাবেয়া বলে কলেজে আজ যেতে হবে না। 

রিনি বলে ঃ কেন?

তখন হঠাৎ রাবেয়া,, ,,,,, 


হঠাৎ রাবেয়া তার মেয়ে রিনিকে দুইটা ওষুধ খেতে দিল।রিনি বলে মা এগুলো কিসের ওষুধ, রাবেয়া বলে,একটা pain Killer, আর অন্য টা জ্বর না হয় মতো।রিনি বলেঃ আমার তো শুধু শরীর ব্যথা। এগুলো কি অবশ্যই খেতে হবে।

রাবেয়া বলেঃ must be খেতে হবে!!! রাবেয়া মনে মনে বলছে সরি মা।তোকে মিথ্যা বললাম। একটা pain killer কিন্তু অন্য টা প্রেগন্যান্ট না হওয়ার।আর মা তুই জানিসই না,কিন্তু আমি তো জানি তুর সাথে প্রতিদিন কেউ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে।কিন্তু কে সে?আর তাই চাইনা কোন অঘটন ঘটুক।আর অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে তুই প্রেগন্যান্ট হয়ে যাস,বাচ্চার বাবা কে হবে? কি পরিচয়ে বড় হবে বাচ্চা টা।অবশ্য নিজের মেয়ে মা হওয়ার ছেয়ে খুশির খবর আর কোন কিছু হয়তো পৃথিবীতে হয়না।কিন্তু মা তুই নিজে ও জানিস না তুর সাথে কি হয়।আর আমি ও বুঝতে পারছি না এগুলো কেমনে সম্ভব? তাই মিথ্যা বললাম।রাবেয়া এগুলো ভাবতে ভাবতে রিনির রুম থেকে বেরিয়ে আসে। আর রিনি ওষুধ খেয়ে গাঁ টা এলিয়ে দেয়। আর রাজ্যের ঘুম তার চোখে চলে আসে।

বিকালে কামাল সাহেব বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে যাই। আর কফি খেতে বসে বেলকনিতে। আর রাবেয়া সব বলছে কাল রাতে তাদের মেয়ের সাথে কি হয়ে ছিল। কামাল বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করে। বলে চলো।তোমাদের নিয়ে একটু দেশের বাড়ি যাবো। রাবেয়া বলে ঃ রিনির কলেজ?

কামাল বলে ঃ মেয়ে থাকলেই তো কলেজ যাবে। মেয়ের ভালো চাও তো ওকে রাজি করিয়ে রেডি হয়ে যাও as soon as.

রাবেয়া অনেক কষ্টে রিনিকে রাজি করিয়ে পেলে।বিনিময়ে রিনি ৩০০০ টাকা বকশিস নেই। রিনি অনেক খুশি টাকা পেল আর ঘুরতে যাবে।

রাত ৮ টায় গ্রামে পৌঁছে যায়। তবে কামাল এক মূহুর্ত দেরি না করে রিনি আর তার মাকে নিয়ে গেল অর্ক এর কাছে। অর্ক কামালের কলেজ ফ্রেন্ড। প্যারানরমাল ব্যাপারে কাজ করে।গ্রামে থাকে বলে তার কাছে গ্রামে আসা।আর তার সহকারী হচ্ছে রাহাত হুজুর। খুব নাম করা একজন হুজুর। কামালের সাথে রাহাত হুজুরের পরিচয় অর্ক এর মাধ্যমে।কামাল রাবেয়ার কাছ থেকে যা শুনলো তা থেকে বুঝে গেছে অর্ক আর রাহাত হুজুর ছাড়া কেউ এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেনা। কামাল, রাবেয়া, রিনি বসে আছে অর্কের সামনে।

অর্ক বলেঃ মা,রিনি কেমন আছো?তুমি বাসার ভিতরে যাও।আমি তোমার আম্মু আব্বুর সাথে কিছু জরুরি কথা আছে ওগুলো নিয়ে আলোচনা করবো। আর হা,বাসার ভিতরে তোমার লাবু আন্টি আছে। কি যেনো রান্না করছে!যাও গিয়ে তোমার লাবু আন্টির সাথে গল্প কর।

অর্ক তাদের পাশের ফ্ল্যাট থেকে রাহাত হুজুরকে ডেকে আনে।

অবশ্য কামাল অর্ক কে আগে বলে রেখেছে। তার পুরো পরিবার অর্ক এর বাসায় রাতে আসছে।

অর্ক জানে কোন জরুরি ব্যাপারে কামাল আসছে।কারণ এখন অফিসে কামাল এর কোন ছুটি নেই। বেড়াতে আসলে ছুটি পেলে আসতো। আর গ্রামে এসে তড়িঘড়ি করে তার বাসায় চলে আসে। তাই অর্কের মনে হচ্ছে ব্যাপারটা মারাত্মক কিছু হবে। তাই অর্ক সময় নষ্ট না করে মূল কথার প্রসঙ্গে ছলে আসে।

অবশেষে রাবেয়া, কামাল,অর্ক আর রাহাত হুজুর মিলে বসে আছে। আর রাবেয়া সব বলছে।অর্ক আর হুজুর সব মনোযোগ দিয়ে শুনেছে সবকিছু । হঠাৎ করে,

বেশ কিছুক্ষণ পর!!

লাবু এসে বলেঃ বাহ রে! রাবেয়া ভাবি আমার সাথে একটু দেখা ও করেননি অভিমানী কন্ঠে। হুহ্ চলেন।চলেন।ডিনার করে নি।

অর্ক বলেঃ লাবু তুমি রেডি কর খাবার আমরা আসছি। আর রিনি মাকে নিয়ে আসো।একসাথে সবাই বসে ডিনার টা করে ফেলি।

সবাই ডিনার শেষে। অর্ক বলে,রাবেয়া ভাবি আপনি আর লাবু ঘুমিয়ে পড়েন।

লাবু বলেঃ একদম না।আমি ও দেখতে চাই।রিনি মা কে কোন বান্দর এইভাবে ডিস্টার্ব করে!!!

অর্ক বলে ঃ যাও। বেশি কথা বলিও না।ভাবিকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়।

রাবেয়া কিছু বলছে না।কিন্তু তার ও ইচ্ছে মেয়ের কাছাকাছি থাকার। কামাল আগেই বলে দিয়ে ছিল অর্ক যেমন বলবে তেমন ই করবে।তাই রাবেয়া চুপচাপ থেকে লাবুর সাথে ঘুমাতে যাই।

কিন্তু লাবু বা রাবেয়া কারোর চোখে ঘুম ছিল না।রিনির চিন্তায় মন অস্থির হয়ে আছে।

অর্ক,কামাল,রাহাত হুজুর আর রিনি একটা রুমে গেলো।

রিনি বলেঃ বাবা আমি ঘুমাবাে।

কামাল বলেঃ অর্ক রাবেয়া আর লাবু ভাবিকে ও ডাক।তুই বকা দিয়ে ভুল করেছিস। আর ওদের দোয়া পড়ে রাহাত হুজুর ফুঁ দিয়ে দিলে কিছু হবেনা।

অর্ক লাবু কে বলেঃ সরি।রাগ করিও না।তোমাদের কিছু হবে এই ভয়ে আসতে নিষেধ করেছিলাম।

লাবু আর রাবেয়া আসলো। রাহাত হুজুর ফুঁ দিয়ে দিলেন দোয়া পড়ে। অন্য দিকে রিনি ঘুমিয়ে পড়লো।রাত তখন আস্তে আস্তে গভীর হতে থাকে ।সবাই বসে আছে। রিনি কে একটা বৃত্তের ভেতরে আবধ্য করে রাখে ঘুমন্ত অবস্থায়। অবশ্য রিনি ঘুমিয়ে পড়াতে অর্কের কাজ আরও কমে যায়।সব ভাল কিন্তু ভালো নই।কিছু করতে গেলে বাধা আসবেনা এমনকি হয় নাকি!!! ঠিকতখনই..................


ঠিক তখনই লালচে বৃত্তটির প্রবেশ ঘটে রুমে। অর্কের মুখে যেন হাসি ফুটে উঠে।সে মনে করেছি যে সে নিমিষেই লালচে বৃত্তটিকে নিজের অধীনে আনতে পারবে। কিন্ত একটু পর, হাসি মুখটা যেন নিমিষেই কালো হয়ে গেছে। লালচে বৃত্তটির তীব্রতা অনেক বেশি যার ফলে অর্ক,লাবু,রাবেয়া, রাহাত হুজুর, কামাল সবারই তাকিয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। এক পর্যায়ে তাদের সবার চোখ জোড়া জ্বলতে শুরু করে ।আর যার ফলে সবাই চোখের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে সেন্সলেস হয়ে যাই।

রাত যখন শেষের পথে সবার প্রথমে অর্কের চোখ খোলে।তখনই দেখে রিনি ঘুমাচ্ছে তবে তারা যে বৃত্তের ভেতরে রিনিকে আবদ্ধ করে রেখেছিল সেই বৃত্তের অস্তিত্ব আর নেই। তাহলে তাদের সবার চোখের আড়ালে আবার সেই এসে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে।অথচ রিনি বেচারি কিছুই জানেনা।কিন্তু রিনিকে দেখে একদম বুঝা সম্ভব হচ্ছে না যে তার সাথে কেউ কাল রাতে অবিশ্বাস্য কিছু করেছে।অথচ মেয়ে টি যেভাবে ঘুমিয়ে ছিল ঠিক একইভাবে এখনো শুয়ে আছে। অর্ক যেন আর কিছু ভাবতেই পারছে না।

এর কিছু সময় পর সবাই জেগে ওঠে। অর্ক লাবুকে নাস্তা রেডি করতে বলে। আর কামাল আর রাবেয়া কে রেস্ট নিতে বলে। আর রিনি কে ঘুম থেকে না জাগাতে বলে।

আর অর্ক বলেঃ রাহাত হুজুর আসেন।আমাদের ওয়ার্কিং রুমে যাই।খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে।

অর্ক আর রাহাত হুজুর এখন বসে আছে। একটা অন্ধকার রুমে।যেটা তাদের কাজ করার রুম।

তারা ধ্যান করছে।অর্ক বিড়বিড় করে মন্ত্র উচ্চারণ করেছে। আর রাহাত হুজুর কুরআন শরীফ পড়ে।তার অনুগত জীনকে ডাক দিচ্ছে।

অর্ক তার শক্তি দিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে কি হয়েছে।

আর রাহাত হুজুর জীনকে উপস্থিত করার চেষ্টা করছে। অতঃপর রাহাত হুজুরের জীন হাজির হয়।

আর রাহাত হুজুর জিগ্যেস করলো ঃ রিনির সাথে এমন কেন হচ্ছে? আর কি হচ্ছে?

আর আমরা কিছু করতে পারছিনা কেন?এই এত বছর হলো এই পেশাতে যুক্ত আছি ।এমন কখনো হয়নি বরং সব কেইস আমি আর অর্ক খুব ভালো ভাবে সমাধান করতে পেরেছি ।তাহলে রিনির কেইসের ক্ষেত্রে এমন হচ্ছে কেন?

জীন বলেঃ হুজুর মাপ চাই।আমি কিছু বলতে পারবোনা। তবে আমি জানি কি হয়! কে করছে এসব।তবুও বলতে পারবোনা।

যদি আমি মুখ খুলে ফেলি।জীন রাজ্যে প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে আমার জন্য।

রাহাত হুজুর বলেঃ তুই ও এমন করলে।আমরা রিনি কে কেমনে বাঁচাবো?

জীন বলে ঃ হুজুর গোস্তাকি মাফ করবেন। আমি আজ আসি।

রাহাত হুজুর জীন যাওয়ার পর আরো বেশ কয়েক বার ডাকলো তাকে কিন্তু জীন কোন সারা দিলো না।

রাহাত হুজুর চিন্তায় পড়ে যায়। কি করবে তারা এখন? কামাল অনেক আশা নিয়ে সাহায্য চাইলো! কিন্তু তারা কি না কিছুই করতে পারছে না।

অর্ক বলেঃ রাহাত হুজুর আমি কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছি! আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি।

অর্ক চোখ জোড়া বন্ধ অবস্থাই এসব বলছে।

রাহাত হুজুরের মুখে যেন হাসি ফুটে উঠেছে।

অর্ক বলেঃ যে রিনির সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে। সে খুব শক্তি শালী।আর সে হচ্ছে জীন রাজ্যের রাজার একমাত্র ছেলে ইনতিয়াজ।আর তার কাছে জীন রাজা আর রানীর উভয়ের শক্তি আছে। যার ফলে সে সব কিছু করতে পারে। রাহাত হুজুর আমি আর কিছু তথ্য দেখতে পাচ্ছি কিন্তু মুখ খুলে বলতে পাচ্ছি না।এমন কেন হচ্ছে!!!আর আমার শরীর অবস হয়ে যাচ্ছে।

তখনই অর্ক সেন্সলেস হয়ে পড়ে যাই। রাহাত হুজুর অর্ককে কোলে করে ড্রইং রুমে নিয়ে গেল। আর সবাইকে ডাক দিলো। এভাবে অর্কের নিথর শরীরটা বেশ কিছুক্ষণ পড়ে ছিলো।গ্রামে ডাক্তার ও তেমন নেই। কিন্তু আরও কিছু সময় পর অর্ক একটু সুস্থ হয়ে উঠলো ।

রাহাত হুজুর এখন বুঝতে পারছে। এই কারণে তার জীন তাকে কিছু বলতে নারাজ ছিল। অর্কের এই অবস্থা না জানি জীনের কি হতো!!

আর এই জন্য হয়তো পরে বেশ কয়েক বার ডেকে ও সারা দিলো না জীনটা।

অর্ক বলেঃ রাহাত হুজুর একাজে সাহায্য লাগবে। খুব জটিল একটা কাজ।আমি আর আপনি একা কিছু করতে গেলে প্রাণ যাবে নিশ্চিত।

রাহাত হুজুর বলেঃ কার থেকে সাহায্য নিবে? কে করবে সাহায্য???

অর্ক বলেঃ মনে আছে। আমার ২ টা বান্ধুবীর কথা বলছিলাম। সুমি আর জান্নাত!!!!

আর একটা বন্ধু হাবিব!!!

রাহাত হুজুর বলেঃ আরে মনে আছে। কিন্তু ওদের এমন কি power's আছে যে আমাদের সাহায্য করতে পারবে?

অর্ক বলেঃ ওদের Powers আছে শুধু আমি জানি। তবে কেউ কে না বলতে বলেছিলো।এখন এই পরিস্থিতিতে না বলে পারলাম না।

শুনেন তাহলে ওদের ৩ জনের মধ্যে কি power's আছে।১.সুমির কাছে প্যারানরমাল জিনিসের অবস্থান কোথায় তা চোখ জোড়া বন্ধ করতেই দেখার ক্ষমতা আছে। ২.জান্নাত এর কাছে জীন রাজ্যের সাথে যোগাযোগ করার ক্ষমতা আছে। আর জীন রাজার বিশেষ অতিথি।

৩.হাবিব এর কাছে একটা স্ফটিক আছে। যার দ্বারা অতীত দেখা যাই।

কামাল রিতিমত আশ্চর্য। একসাথে তাদের সাথে ভার্সিটি শেষ করেও এই বিষয়ে একদম অবগত ছিলোনা। আর লাবু তো একদম নিরব হয়ে আছে। এটা শুনে।।

রাহাত হুজুর বলেঃ আর দেরি না করে ওদের ডেকে আনো।কালকে সেই প্রিন্স অনেক রেগে ছিলো। তাই লালচে বৃত্তটির রশ্মি বেশি ছিল আমি যতোটুকু বুঝতে পারলাম । সে রাগের মাথায় রিনি মার ক্ষতি করতে পারে।

অর্ক বলেঃ আমি ওদের সকাল ৮ টার দিকে কল দিবো।তার আগে চলো সবাই কিছু খেয়ে নি।আর লাবু রিনি কে একটু ডেকে আনো। একসাথে নাস্তা করে একটু গল্প করি সবাই মনটা একটু ভালো হবে।

বিকাল ৪ টার দিকে দরজার মধ্যে কে যেন কড়া নাড়ে?

অর্ক দরজা খুলে দেখে হাবিব, জান্নাত, সুমি হাজির

সবাই মিলে রাতের খাবার শেষ করে। কাজে নেমে যাই।

তবে আজ রিনিকে আবদ্ধ করে রাখা হয়।রাহাত হুজুরের নামাজ আদায় করার ঘরে। আর সামনের জায়গায় ৩ টি বৃত্ত। একটাতে আছে কামাল,রাবেয়া, লাবু।অন্যটিতে আছে অর্ক,রাহাত হুজুর, জান্নাত, হাবিব, সুমি।আর অন্য টি খালি রাখা হয়েছে। ঘরের প্রত্যেক কোনায় কোনায় দোয়ার পানি দিয়ে সুরক্ষিত করা হলো যাতে কাউকে কোনভাবে ক্ষতি করতে না পারে।আর ঘরের কোন কোনায় যাতে লুকিয়ে না থাকে।

কিন্তু খালি বৃত্ত টিতে দোয়ার পানি দেয় নি।কারণ প্যারানরমাল যে কোন কিছু এসে ওইটাতে অবস্থান করতে পারে মতো ।

হাবিব বলেঃ আগে একটু অতীতে গিয়ে দেখে আসি প্রিন্সের(ইনতিয়

াজের) দূর্বলতা কি?না হয়।ইনতিয়াজকে(প্রিন্সকে) এখানে আনা সম্ভব হবে না।

তখই দেখে,,,,,,,,

চলবে,,,,,,,