নাটকীয় গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নাটকীয় গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আপু থেকে বউ পর্ব ১১ ✍️ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব 

✍️ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ



**পাঁচ বছর পর**

শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটা পাহাড়ি এলাকায় ছোট্ট একটা স্কুল। ছোট রিজভী রোদে দাঁড়িয়ে একটা চার্ট বানাচ্ছে — “আমার হিরো আমার বাবা”। তার পেছনে, ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে এক নারী — **জারা**, এখন পুলিশ কমিশনার।


হঠাৎ... তার ফোনে নোটিফিকেশন:


> “**স্কর্পিয়ন কোড** এক্টিভ হয়েছে।”


জারার মুখ থমকে যায়।




**ঢাকার কেন্দ্রীয় জেল**

সুমিতকে ট্রান্সফার করা হচ্ছে হাই সিকিউরিটি ব্লকে। সে মাথা নিচু করে হাঁটছে। হঠাৎ এক গার্ড ফিসফিস করে বলে,


> “তোর ছেলে... আবার কোড চালু করছে!”

> সুমিত থমকে যায়, চোখে একরাশ অদ্ভুত স্নেহ আর ভয়।



**ফ্ল্যাশব্যাক – ৫ বছর আগে, গিয়াসের শেষ মিশন**

গিয়াস অ্যান্টিডোটের খোঁজে ঢুকে পড়ে সোহেলের ল্যাবরেটরিতে। সময় বেঁধে রেখেছে ৭ মিনিট।

একটা হিমঘরে রক্তাক্ত অবস্থা... গিয়াসের মায়ের মৃতদেহের পাশে একটা চিপ পড়ে আছে। তাতে লেখা –


> “**Azizul’s Son = Giyas**”


সে বোঝে—পুরো জীবন সে যাকে বাবা ভাবেছে, সে তার শত্রু সোহেল। আসল বাবা আজিজুল হক – যে মরে গিয়েছিল সত্যের পথে।


গিয়াস কাঁপা হাতে চিপ তুলে নেয়।



**বর্তমান – গিয়াস কোথায়?**

সবাই ভাবে সে মারা গেছে... কিন্তু রিজভীর ল্যাপটপে একটা ভিডিয়ো ফাইল অটো-অন হয়:


> “আমার রক্ত শেষ হয়ে যাচ্ছে... কিন্তু রিজভী, তুই যদি কোড চালাস, আমি জানব — সত্য এখনো বেঁচে আছে।”

> “...আর যদি আমার সন্তান একদিন জেনে যায়, সে শুধু রক্ত নয়... সে মুক্তির প্রতীক।”




**রিজভীর চিহ্ন**

ছোট রিজভীর হাতে আবার দেখা যায় সেই **স্কর্পিয়ন চিহ্ন**। এবার সেটা বদলে গেছে — বিষধর বিচ্ছুর বদলে দেখা যাচ্ছে **একটি চাবি**র মতো নকশা।


জারা কেঁপে ওঠে — গিয়াসের শেষ শব্দ মনে পড়ে:


> “সে আসবে... সে নতুন গিয়াস!”




**একটি রহস্যময় পেনড্রাইভ**

ছোট রিজভী জারার অফিসে ঢুকে বলে,

“মা, এটা স্কুল প্রজেক্টের জন্য পাইছি…”

জারা পেনড্রাইভ চালু করে দেখে —


> “Project: **Phoenix Rising**”


রিজভীর চোখ চকচক করে উঠে, আর মুখে এক রহস্যময় হাসি।



একটি গোপন সেলে... একটি সিলুয়েট মাথা নিচু করে বসে আছে। হঠাৎ সে উঠে দাঁড়ায় —


> “পাঁচ বছর যথেষ্ট... এবার ফিরি।”


ক্যামেরা ঘোরে, দেখা যায় — **গিয়াস বেঁচে আছে**।


> *"মৃত্যু শেষ নয়… যদি উত্তরাধিকার এখনো হৃদয়ে বাঁধন হয়ে থাকে।"


পাঁচ বছর পর।

ঢাকার এক অভিজাত এলাকায়, ঝাঁ চকচকে করপোরেট অফিসের ছাদে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক তরুণ। মুখে স্মার্টনেস, চোখে বিদ্রোহের আগুন। তার নাম — রিজভী জুনিয়র

তার সামনে ঝুলছে একটি প্রোজেকশন স্ক্রিন। সেখানে ঘুরছে সাদা-কালো সিসিটিভি ফুটেজ — যেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন অচেনা মুখোশধারী ব্যক্তি একটি সরকারী সার্ভারে প্রবেশ করছে।

রিজভী চাপা গলায় বলে,
— "এরা ভাবে সব মুছে ফেলেছে… অথচ কিছুই ফুরায়নি।"

তার পেছনে এসে দাঁড়ায় জারা — এখন একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কমিশনার। গলায় দৃঢ়তা, চোখে অতীতের ঝলক।
— "এই খেলাটা শেষ করতে হবে, রিজভী। এবার সত্যিটা সামনে আনতে হবে।"

রিজভী হালকা হাসে।
— "আমি জানি কে ফিরেছে… এবং কেন।

"গিয়াসের পাঁচ বছরের নিখোঁজ থাকার রহস্য

একটি পাহাড়ি অঞ্চলে, গুহার ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় গিয়াসকে। তার শরীরে বিষক্রিয়ার চিহ্ন, কিন্তু বেঁচে আছে—বেঁচে ছিল কারণ রিজভী (বোন) তার জন্য রেখে গিয়েছিল 'অ্যান্টিডোট প্রোটোকল'

সেই অ্যান্টিডোট এখন আরেকজনের হাতে — সুমিত



সুমিত এখন নতুন পরিচয়ে – "মাওলা শাহ" নামে এক রহস্যময় দাতা। একদা শত্রু, এখন সহানুভূতিশীল। কিন্তু সে আসলে কি সত্যি বদলে গেছে? নাকি পুরোনো খেলায় নতুন মোড়?

জারা তাকে দেখে থেমে যায়।
— "তুমি এখনো বাঁচতে পারো, সুমিত। কিন্তু গিয়াসের জীবন এখনও তোমার হাতে কেন?"

সুমিত নরম গলায় বলে,
— "কারণ আমি জানি—গিয়াস মরলে তুমিও শেষ হয়ে যাবে।"

রিজভী হ্যাকার ডেটাবেইস থেকে একটি জেনেটিক প্যাটার্ন রিভিল করে।
— "গিয়াসের জন্ম হয়েছিল আজিজুল হক ও সোহেলের প্রেমিকা নাসরিনের মাধ্যমে। সে দুই শত্রুর উত্তরসূরি!"

জারা স্তব্ধ।
— "তাহলে গিয়াস... সে নিজেই দ্বন্দ্ব?"

রিজভী মাথা নাড়ে।
— "তাই তাকে শেষ করতে চাইছে ওরা। কারণ সে যদি বেঁচে থাকে, সিস্টেম বদলাবে।"

একটি সরকারি বৈঠকে জানা যায় — ‘স্কর্পিয়ন লেগাসি’ নামে এক হ্যাকার গ্রুপ জাতীয় নিরাপত্তা সার্ভারে ঢুকেছে।

কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে না—কারণ…
তারা একজনকেই খুঁজছে — গিয়াস।


জারা অফিসে বসে, হঠাৎ একটি অচেনা ফ্ল্যাশড্রাইভ পায়। চালু করতেই স্ক্রিনে একটি ভিডিও:

গিয়াস ধীরে ধীরে বলে,
— "আমি ফিরছি, জারা। এবার প্রতিশোধের জন্য না… উত্তরাধিকার রক্ষার জন্য।"

ভিডিও শেষে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে —
“পরবর্তী লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী।”


"রিজভী জুনিয়র কাঁপা কাঁপা গলায় বলে— ‘জারা ম্যাডাম, গিয়াস ভাই… হয়তো আমাদের রক্ষা করতে নয়… ঝড় তুলতে এসেছে!’”

অবশেষে পৌঁছেছি “বাঁধন”–এর চূড়ান্ত পর্বে
এই পর্বে থাকবে সব প্রশ্নের উত্তর, প্রতিশোধের পরিণতি, সম্পর্কের সেলাই, এবং একটি নতুন প্রজন্মের সূচনা।

হলরুমে অন্ধকার। বিশাল পর্দায় ভেসে উঠছে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সিম্বল। একে একে আলো জ্বলে ওঠে।
গিয়াস মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে। পাশে Zara, এখন পুলিশের কমিশনার।

“পাঁচ বছর আগে আমি সোহেলের রক্তে হাত ভিজিয়েছিলাম... কিন্তু আমার সত্যিকারের যুদ্ধ আজও শেষ হয়নি। আজ আমি সেই যুদ্ধের সমস্ত প্রমাণ আপনাদের সামনে তুলে ধরব।”

সবার নিঃশব্দ অপেক্ষা। একে একে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে:

  • সোহেলের ড্রাগ চেইনের নেটওয়ার্ক

  • হাসানের মৃত্যু-ভিডিও (প্রমাণ করে আত্মহত্যা নয়, গুলি)

  • সুমিতের জবানবন্দি: “সোহেল আমাকে বলেছিল, গিয়াস আমার ভাই... ও-ই মাকে মেরেছে। ভুল বুঝে ভুল করেছি।”

  • জারা ও গিয়াসের সন্তানের অশান্তি

ছোট রিজভী, এখন ৫ বছরের, টেবিলের নিচে বসে হ্যাকিং প্র্যাকটিস করছে। চোখে Zara-র স্পষ্ট ভয়।
সে গিয়াসকে বলে—

Zara:
“আমরা কি আবার তাকে সোহেলের মতো বানাচ্ছি?”
Giyas:
“না। ও সিস্টেম ভাঙবে না... ঠিক করবে।”

রিজভীর হাতে একটি ছোট ডিভাইস। ও বলছে:

"বাবা, আমি পুলিশের ডাটাবেসে ঢুকে গেছি... কিন্তু এখানে তো দুর্নীতির নামও আছে!"

Zara চমকে ওঠে।

রিজভীর কোডে একটি লুকানো ভল্ডার — নাম “Skorpion Legacy”

তাতে আছে:

  • সোহেলের অটো-মেইল:
    “যদি গিয়াস আমার মৃত্যু ঘটায়... তবেই তাকে সত্য জানতে হবে—ওর মা এখনো বেঁচে আছে। কোড: AZIZ2025”

  • গিয়াস স্তব্ধ। Zara চোখে জল।
    গিয়াস বলে—
    "আমার মা বেঁচে আছে... আর আমি জানতাম না?"



রিজভীর কোড ব্যবহার করে তারা পৌঁছে যায় এক মরুভূমি ক্যাম্পে—সেখানে বন্দি একজন বৃদ্ধা, চুল সাদা, চোখে এখনও আগুন।

তিনি চুপ করে Zara-র মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন—
“তুমি কি গিয়াসের বউ?”
Zara হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।

"তবে বলো, আমার ছেলেকে আমি শেষবার কবে ছুঁয়েছিলাম?"



সোর্স কোডের মধ্যে ট্র্যাকিং ডিভাইস ছিল।
একদল দুর্নীতিগ্রস্ত গোয়েন্দা হানা দেয় ক্যাম্পে।

তখন রিজভী ছোট্ট রিমোট টিপে সব সার্ভার উড়িয়ে দেয়।
প্লাস্টিক বোমায় ঝলসে যায় পুরো ক্যাম্প, কিন্তু গিয়াস-জারা-মা পালাতে পারে।

শেষবার রিজভীর গলা শোনা যায়:

"ভাই... বাঁচলে আমার নামে একটা প্রতিষ্ঠান খুলিও—Skorpion Killer Institute..."



ঢাকায় নতুন করে গড়ে ওঠে “Skorpion Institute for Ethical Hackers

Zara—আইজিপি
Giyas—ডিরেক্টর অফ ইথিক্যাল সিকিউরিটি
রিজভী (ছেলে)—৭ বছর বয়সেই প্রথম সরকারি হ্যাক প্রতিরোধ করে

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে—
“গিয়াস, আপনি কি এখনও প্রতিশোধে বিশ্বাস করেন?”

গিয়াস:
“না। আমি এখন বিশ্বাস করি শুধু একটা জিনিসে—
বাঁধন দিয়ে মানুষকে বেঁধে রাখা যায় না...
কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে মুক্ত করা যায়।”


🔚 শেষ দৃশ্য:

ছেলে রিজভী স্কুল প্রজেক্টে লিখছে:

“আমার বাবা একজন হিরো ছিল।
আমার মা ছিলেন মশাল।
আর আমি?
আমি সেই আগুন যা শত্রুর বাঁধন পোড়াবে...”



“বাঁধন ছিন্ন হল…
কিন্তু রক্ত, প্রেম আর ন্যায়বিচারের বাঁধন, এখন এক নতুন প্রজন্মের হাতে।”

💌সমাপ্তি



📣 পাঠকের জন্য প্রশ্ন:

  • রিজভী কি ভবিষ্যতের নায়ক হবে, নাকি আবার বাঁধনে জড়াবে?

  • Skorpion Legacy কি সত্যিই শেষ?

  • Zara আর Giyas কি একদিন শান্তির জীবন পাবে?

এই ছিল “বাঁধন”–এর শেষ,
তবুও… শেষ মানে কি সত্যিই শেষ?
🎭

আপনাদের এই গল্পের গ্রহ থাকলে “Season 2: Skorpion Legacy” শুরু করা যেতে পারে!


আপু থেকে বউ পর্ব ১০ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব ১০

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 


১৪,১৫,১৬,১৭


রাত তিনটা। নিঃস্তব্ধ হাসপাতালের করিডোরে সাদা আলো নিঃশেষ স্নিগ্ধতায় ঝরে পড়ছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে—একটি শিশুর কোলে ছোট্ট একটি ব্যাগ। সেই ব্যাগে থাকা পেনড্রাইভে লুকিয়ে আছে একটি ভবিষ্যৎ।


গিয়াস ধীরে ধীরে চোখ মেলে। শরীরের প্রতিটি পেশীতে যন্ত্রণার রেখা। পাশে জারা বসে—চোখে ক্লান্তি, ঠোঁটে ভালোবাসা।


"জাগছো?"—জারা জিজ্ঞেস করে।


গিয়াস ফিসফিস করে, "সে কি এসেছে?"


"কে?"


"আমাদের উত্তরাধিকার... রিজভী।"


---


**ফ্ল্যাশব্যাক: পাঁচ দিন আগে**


রিজভীর গুলিতে আহত গিয়াস নিজের মৃত্যু ভান করেছিল। রিজভীর সাজানো পুরো প্ল্যান, মেডিকেল রেকর্ড হ্যাক করে মৃত্যু ঘোষণার ব্যবস্থা। উদ্দেশ্য—সোহেল ও তার ছায়াদের বিভ্রান্ত করা।


সেই সময়েই সোহেল শেষ শ্বাসে বলে গিয়েছিল: “তোর রক্তে এখন আমার বিষ। আমার মতো করেই মরবি, ধীরে ধীরে।”


জারা ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু গিয়াস জানে, সোহেলের কথার মানে গভীর কিছু লুকিয়ে আছে।


---


**বর্তমান**


একটি ডার্ক ওয়ার রুম। রিজভীর রেখে যাওয়া একটি ল্যাপটপ খুলে গিয়াস পায় একটি ফোল্ডার—**SK\_ANTIDOTE**। সেই ফোল্ডারে অডিও ক্লিপ:


"গিয়াস ভাই... আমি জানতাম তুমি একদিন মরার মুখোমুখি হবে। কিন্তু আমি চাইনি তুমি পরাজিত হও। এই ফোল্ডারে আছে সেই অ্যান্টিডোটের সূত্র, যেটা তোমার শরীরে ছড়ানো বিষকে নষ্ট করতে পারবে। তবে... সেটা পাবে আজিজুল হকের পুরনো ল্যাবে।"


---


**সুমিত: জেলের ভিতর**


সুমিত এখন জেলে। কিন্তু মানসিকভাবে ধ্বংস নয়। সে চুপচাপ একটি চিঠি লেখে:


“জারা, আমি তোমার বাবাকে মারিনি। আমার মা-ই ছিল আসল ভিকটিম। আমি শুধু প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নিজের আত্মা হারিয়ে ফেলেছিলাম। যদি একদিন রিজভীর সন্তানের চোখে নিজেকে দেখতে পারি, তাহলে বুঝব আমি মানুষ ছিলাম।”


---


**জারা: কমিশনারের চেয়ারে**


পাঁচ বছর পর।


জারা এখন পুলিশের কমিশনার। তার ঘরে ঢুকে ছোট্ট রিজভী বলে, “মা, আমার প্রজেক্টের নাম রেখেছি ‘স্কর্পিয়ন কিলার’। কেমন লাগল?”


জারা তাকিয়ে থাকে তার সন্তানের চোখে। ঠিক যেন গিয়াসের চোখ। তাতে আগুন নেই, কিন্তু লুকানো আছে এক রকম সত্যের দীপ্তি।


“দারুণ। কিন্তু মনে রেখো, প্রতিশোধ নয়—প্রতিশ্রুতি বড়।”



গিয়াস এখন ‘স্কর্পিয়ন কিলার সিকিউরিটি’-এর প্রতিষ্ঠাতা। সে তার মায়ের চিঠি খোলে:


"তোর জন্ম হয়েছিল আলো আর অন্ধকারের ছায়ায়। তুই যদি একদিন আলোর পক্ষে দাঁড়াস, তাহলে আমি মরেও শান্তি পাবো।”


একটি গুলির শব্দ।


নভোশিশুর কান্না।


তারপর সব নিস্তব্ধ।



"রিজভী স্কুলের শেষ লাইন লিখে—‘আমার বাবা একজন হিরো। আমি শুধু তার গল্প শেষ করিনি... আমি তার গল্প আবার শুরু করবো।’"

হাসপাতালের নিরবতা।

গিয়াস ব্যথা নিয়েই চোখ খোলে।

তার শরীরে এখনও বিষ-নিরাময়ের মতো কাজ করছে না।

ECG মেশিনে সিগন্যাল ঝলসে আর নাইন্সূত্রে গতি পায় বিশ্রামহীন চক্রে।


> **জারা** (চাপা কণ্ঠে):

> *“তোমার অসুখ এখনও জেগে আছে... রিজভীর USB-তে সেই অ্যান্টিডোট আছে—তোমার নিজেরই শরীরে ঠিক মতো কাজ করার মতো ফরমুলা।”*


গিয়াস চেহারায় এক ফণা আশা ফুটে ওঠে, কিন্তু এক সময় ফিকে হাসি।




কমিশনার জারা ড্রাইভিং করছে এক ভয়াবহ রোজগারের রাতে।

মনেই প্রশ্ন আসে—


> *“আমি কি এখন সঠিক পথে আছি? আমার দায়িত্ব পুলিশ কমিশনার হিসেবে কি গিয়াসের পাশে থাকতে বাধা দেয়?”*


সে ফোনে বলে—


> *“ওসি নিয়াজ, আজ রাতেই আমরা আজিজুলের ল্যাবে যাবো।

> কোন ড্রাপ না করে। বুঝলে?”*


নিয়াজ মাথা হেলে নেয়।


---


রিজভী রাতে তার নিজের ঘরে বসেছে। ল্যাপে USB স্লট করে বলে—


> *“তোমার কোড নামটা নিয়ে বড় হবে তো—স্কর্পিয়ন কিলার!”*


একটা অটো-অ্যালার্ম বাজে তার ফোনে।

হঠাৎ সে টেবিলে যা দেখে চমকে ওঠে—

ADB টার্মিনালে “WARNING: Trace initiated” লেখা।


> *“তারা খুঁজে পেয়েছে! আসছে... এভাবে আমার জীবন শেষ হতে পারে কিন্তু তারা থামবে না।”*




কারাগারের একান্ত কক্ষে সুমিত জড়িয়ে আছে চার দেয়ালেই।


সে ফোনে ফিসফিস করে—


> *“জারা... আমি বলেছিলাম তোমার বাবাকে মারিনি,

> কিন্তু গিয়াসের রক্ত এখনও বিষ মিশানো আছে!”*


চোখে জল পড়ে।

“আমি আজিজুলের ল্যাবে গিয়েছি... ওখানে একটি X-ভায়াল আছে—সেই নিয়ে এসেছি।

গিয়াসের রক্তে বিষ আছে, কিন্তু সেদিন সেই ভায়াল দিয়ে আমি নিজে রক্ত দেই—ভাইয়ের মতো।”


সে নিশ্বাস নেন।


> *“আমি গিয়াস এবং জারার সন্তানের বাবাও হতে চাই... যদি তারা আমাকে মাফ করে.”*



রাত ২:০০ AM, আজিজুলের ল্যাব।


গিয়াস-জারা নিষ্পাপভাবে শাসন ভেঙ্গে তালা ভেঙে প্রবেশ করে।


মূলে রয়েছে সিসিটিভি, সেন্সর, ইলেক্ট্রনিক লক —

গিয়াস ডায়ালগ করে:


> *“এই ভায়ালটাই আমার জীবন—‘নিউট্রোলাইজার X’। আমরা যা সারাটা সময় খুঁজছিলাম।”*


হঠাৎ ডোর ক্লিক, প্রবেশ করে ওসি নিয়াজ সহ পুলিশ টিম।


> **জারা** আওয়াজ করে:

> *“এখন বুঝলে—শুধু মা-বাবার কথা নয়, এই শহরের মানুষের জীবন—আমরা বাঁচাব!”*




তারা সবাই ল্যাবের ভিতরে।

হঠাৎ সেন্সর বাজে, এলার্ম উড়ে।

দলের সবাই হইচই করে।


জগাখিচুপি শুরু।

শেষে **সুমিত** এসে ভায়ালের কাছে দাঁড়িয়ে—


> *“আমার রক্ত, আমার দায়—এবং আমার বিশ্বাস!”*


সে দ্রুত গিয়াসের IV লাইনে ওষুধ ঢেলে দেয়।

ভায়ালের মধ্যে থাকা শেষ সুরে এসে মেশে গিয়াসের শরীরে…


**সব থেমে যায়।**

শনিবারের রাত্রি শেষ হয় শান্তির আলোয়…



> **“গিয়াস চোখ খুলে ফিসফিস করে—

> ‘আমি এখন বেঁচে আছি... তোমাদের বিশ্বাসেই।’”**

নিশ্চিতভাবে! নিচে আপনার জন্য **“বাঁধন – পর্ব ১৬: নতুন শত্রু, নতুন যুদ্ধে”** — টানটান অ্যাকশন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, এবং আবেগঘন ক্লাইম্যাক্সসহ পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা দেওয়া হলো:


---


* **অভ্যন্তরে:**

  জারা, গিয়াস ও রিজভী ল্যাব থেকে বেরিয়েছে, কিন্তু রাস্তার অন্য পাশে একটা কালো ভ্যান দাঁড়িয়ে।

  ভ্যানের পেছন থেকে বেরিয়ে আসে – **দেখনোয় সুখী শিশু**, যিনি হঠাৎই জারা-গিয়াসকে লক্ষ্য করে ফিসফিস করে:


  > “মুখ থামাও, ‘স্কর্পিয়ন কিলার’ ফিরে এসেছে।”


* **সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—** ভ্যান থেকে কিছু কালো ছিন্ন পোশাক্দার লোক নামছে এবং সরাতে শুরু করছে ল্যাবের সেন্সর।

  ঐ দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়াজ কাঁপতে কাঁপতে ফোনে বলে:


  > “স্যার, এটা… সোহেলের বাৎসরিক দল!”



* **জারা:**

  একান্তে গিয়াসকে বলছে:


  > “তারা ভেবে বসেছে আমরা জয়ী... দেখিয়ে দিই, হাওয়া কেমন মুখ ফেরায়।”


* **গিয়াস:**

  বলছে,


  > “এই শহরে টক্সিন, টেকনলজি আর ট্রাস্ট—সবই আমাদের তৈরি… এখন আমরা তৈরি করব শত্রুর দানা!”


* **রিজভীর ছোট্ট মুখে:**

  সে silently পকেটে হাত দেয় —

  তাতে লুকিয়ে থাকা অ্যান্টি-হ্যাক হার্ডড্রাইভ।


---



* জেলে শোয়ারী, সুমিত নতুন করে জেগে উঠে।


* ডায়ারিশিটে লেখা:


  > “আমি পুলিশের জন্য বা প্রতিশোধের জন্য যে হয়নি… আমি গিয়াসের ভাই হয়ে ছেলেটির বাবার সুরক্ষায় আছি।”


* **গিয়াস ও জারা দু’জনকে নিয়ে এসে কাঁচের দেয়াল ভাঙিয়ে বের করে দিয়ে বলছে:**


  > “আজ থেকে তুমি আমাদের টিমের ভেতর… নিরাপত্তার বেইসবলে।”


* **জরুরী করিডরে** — সবাই এগিয়ে হাঁটছে, সামনে রিজভীর হাতে হার্ডড্রাইভ, তার পাশে গিয়াস ও জারা।




* রিজভীর চোখে আগুন—


  * সে ভ্যানে ঢুকে যায় এবং **হার্ডড্রাইভ** সংযুক্ত করে।

  * মনিটরে দেখা যায় **দলটির ফুটেজ** — SPECTRE-style ম্যানিপুলেটেড রিলে সহ: কে তারা, কোথা থেকে লাগে, মূল খলিফা কে...


* এক সেকেন্ডের মধ্যে রিজভী ফোনে বলে,


  > “মা, আমরা এখন খুঁজে পেয়েছি তাদের ঠিকানা।”


* জারা একা নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়… চোখে শক্তি লাগা একটা অদ্ভুত উর্ত্তাপ।


---



* **সিসিটিভি হালকা হাইড** —

  পুলিশ টিম, গিয়াসের নিরাপত্তা বাহিনী, রিজভী ও সুমিত একসাথে

  গোপনবাসে থাকে একটা গোপন গ্যারেজে।


* রিজভী সবার সামনে হোস্ট করে হ্যাকিং ট্যাব।


* গিয়াস বলছে,


  > “এদের নাম ‘ক্রিয়েটার্স’—তারা রাজনৈতিক, নাকি পারিবারিক?

  > আমরা একেবারে ঘাত অনা না বড়াবো…”


* ঝলসে ওঠে সিসিটিভি — দেখে তারা আগের ট্র্যাকারদের যোগাযোগ করছে **স্নাইপার, মারসিনারি**...


* জারা হাঁসফাস করে বলছে:


  > “রাতে ঢুকে, সকালে প্রকাশ্যে — ‘বাঁধন’ সংস্কার হবে আজ!”


---


### ৬️⃣ দৃশ্য: প্রথম স্ট্রাইক


* **সন্ধ্যা ১১টা** —

  বাহিরে দিয়ে গিয়াস, রিজভী, সুমিত ও নিয়াজ…

  **তারা ঢোকে** একটি গোপন বন্দরে — যেখানে ভ্যান, কিছু “কন্টেইনার”, একটা ছোট ক্যাম্প…


* **একাএक আলট্রা-হাই ভোল্টের নিয়ে ঢোকে** গুরুতর টিম —

  রিজভীর হ্যাক ডিভাইস চালু,

  গিয়াস-জারা-সুমিত টিমের পাল্টা অ্যাক্টিভেশন…


* **জঙ্গি লড়াই**, **ড্রোনস দিয়ে শনাক্ত**, **ন্যাম্রতা পূর্ণ রড** দিয়ে হামলা শুরু…



  গিয়াস নিজে **ড্রোন শ্যুট** করে পতন,

  জারা **স্ক্যান করে বোমা**,

  সুমিত দেন **ব্ল্যাক ম্যানিপ্যুলেট**,

  রিজভী হ্যাকে ভ্যানের ঈগল লোগো...


* **তাদের একসাথে কথা**:

  গিয়াস ফিসফিস করে,


  > “যুদ্ধ চালাতে পারি — যদি তুমি পাশে থাকো।”

  > জারা নির্দিষ্ট চোখে দেখে...

  > “সে পাশে থাকবে... সবসময়।”


* **শেষ মুহূর্ত** —

  তাদের রিকভারি এলাকা থেকে পড়ে গেছে একটা **USB পেনড্রাইভ**…

  রিজভী ধরল।

  সিসির ফুটে আসে **ডেপথ ক্যামেরায়** দেখা গেছে:

  একটা নাম — *"Operation DawnBreaker 002: Target – Scorpion Legacy"*



* এই ডকুমেন্টে USB ড্রাইভে **“Operation DawnBreaker”** কি আছে?

* **নতুন শত্রু এই ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারলে** কোন ভয়ানক পরিণতি?

* **জারা-গিয়াস-সুমিত-রিজভী** দল কীভাবে তা রুখবে?

* **শহরের রাজনীতিতেও** ঢুকছে তারা — কমিশনার ও সাইবার আর্টিস্টের দাপট…




আপনার ওয়ার্কশপে এখন এই পর্ব শরীর খেতে চাইলে, প্রস্তুত মঞ্চে— প্রস্তুত? 😊

নিশ্চিতভাবেই! নিচে আপনার জন্য উপস্থাপন করলাম **“বাঁধন – পর্ব ১৭: ডন ব্রেকার ফেসিং”**, যা হবে এখনো পর্যন্ত আপনার সিরিজের সবচেয়ে **টানটান, অকল্পনীয় ক্লাইম্যাক্স**:




* **স্থান:** রাত্রে ‘রিকভারি রুম’—দেহাত আলো, স্ক্রীনে USB ড্রাইভের অনুভূমিক লাইন।

* **রিজভী** USB প্লাগ ইন করে, স্ক্রিনে আসে:


  ```

  OPERATION DAWNBREAKER 002

  TARGET: SCORPION LEGACY

  PAYLOAD: NEUROTOXIN DRONES

  LOCATION: UNDERGROUND WAREHOUSE 45

  ```

* সে ফিসফিস করে: “তারা নিয়েছে আমাদের সব… সময় কমে এসেছে।”





* গিয়াস, জারা, রিজভী ও সুমিত এক টেবিলে বসে স্ট্রাটেজি আলোচনা করছে।

* **জারা:**


  > “ড্রোনগুলোতে বায়োলজিক টক্সিন আছে... আমরা চাইলেই তা নিষ্ক্রিয় করতে পারি—কিন্তু।”

* **গিয়াস:**


  > “আমি রাখতে পারব না কেউ যেন শহরে বিষ বর্ষণ করে…”

* **রিজভী:**


  > “আমি টার্মিনালে ঢুকে ড্রোন কোড ঢেকে দিব মেটা-লেভেলে…”

* **সুমিত:**


  > “আমি নিরাপদ করিডোর তৈরি করবো—আমি আজ ঋণ শোধ করেছি।”

  > → \*\*পরিকল্পনা চূড়ান্ত।




* রাত ৩টা— তারা হাফ-আইডেন্টিফায়ার ক্রিকেটের ব্যাগ নিয়ে ওয়ারহাউসে যায়।

* রিজভী কোড রাইট করছে, গিয়াস ওয়াচ করে ড্রোন প্লাটফর্ম, জারা বাহির দিয়ে নিয়ন্ত্রণ, সুমিত প্রটেকশন রোডস্ক্যান।



* **অন্য দিকে:** ওই গুদামে ঢুকছে **কন্টেইনারস**—সোহেলের নতুন দল।

* তারা বায়ো-ড্রোন পরীক্ষা করছেন, হামলার প্রস্তুতিতে।




* বাইরে বৃষ্টির শব্দ, ভিতরে টিম পজিশন নিচ্ছে।

* রিজভী হঠাৎ ফিসফিস করে:


  > “গিয়াস ভাই—তারার মতো লাল আলো… ক্র্যাশ কোড 47!”

* তখনই বৈদ্যুতিক আউটেজ—পুরো ওয়ারহাউস অন্ধকারে প্লাটি।




* **ড্রোন উড়ে**, ভূতলার ঘোড়ার মতো ব্যাল করে অ্যাটাক শুরু—

* গিয়াস ছুটে ছুটে সিগনেল জ্যাম সিরিজে ঢুকান, ড্রোন ভেঙে যায়।

* **জারা** বাধা দিচ্ছে দোষ হোল্ডার—সুমিত বাইরে করে সেকশন ক্লিয়ার।

* **রিজভী** কোড ইনজেক্ট করে মেটালেভেল ম্যানিপুলেশন—ড্রোনগুলো নিজেদের ক্ষেত্রে ফিরে যায় এবং তারা হারিয়ে যায়।




* **ড্রোন কর্মকর্তার সাথে তীব্র সংঘর্ষ।**

* **একটি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়**, ভাঙ্গা গাছ ঘরে ঢুকায়।

* তখন… **ঘোড়া ফিরে আসে**—ড্রোন চালানোর আসল মাষ্টার/নিয়ন্ত্রক হলো… **রিজভী নিজেই এক ছোট DRONEBOT!**

  সে তার ইউনিফর্ম খুলে দেখায় – মোড়া গোড়ায় সাদামাটা এলাকা।




  > “আমাদের শহর বাঁচল... তবে একজন শহুরে খল নায়কের জন্ম হতে চলেছে!”


* **রিজভী** বলে,


  > “দেখবে না যে আমরা কি দিয়েছিলাম… দেখবে কি দিই ওদের!”


* **সুমিত** হেসে টিবি দেয় ও ফুল এক্সপ্রেশনে,


  > “আমি আর শুধু পুলিশ না—আমি তোমাদের পরিবার!”


* **গিয়াস** রিজভীর চুলে হাত বোলিয়ে বললো,


  > “সে হবে একজন হিরো… না, সে হবে রক্ষণশীলের বীর।”


* **এই মুহূর্তে** মোবাইল এলার্ম!

  স্ক্রিনে লেখাঃ

  **“DRONEBOT: MISSION SUCCESS. NEXT TARGET: 095 – CITY HALL”**


**স্ক্রিন ব্ল্যাক!**



আপু থেকে বউ পর্ব ৯ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব ৯

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 



সোহেল হাসপাতালে মৃত্যুশযায়ে পড়ে একটি স্বিকারোকতি সুচনায় দিয়েছে: “আমি মরছি... ক্যানসারে পীরি চলে গিয়াসকে একটি বিষ দেয়েছি... সে রুকতের মতো রাগে বাচবে পারবে না..."


জারা চাপ্পা হয়ে গিয়াসের চোখ দেখে মর্নিয় সবাল অপরাধ প্লান। মৃত্যু হলে। সে হেচে টেঙ্ক হেক করে একটি এসিজি মেশিন হ্যাক করে।


রিজভী শেষ হয়ে গিয়াসকে: সোহেলের পুত্রোপে বুমি পেয়েছে। সে হ্যাক করে চলে সোহেলের ল্যাব ট্র্যাক করে তার সব কাচকাছে ।


"রিজভী হাসতে হাসে স্কুলের প্রস্জেক্টে লিখলো। কাচে লিখলো। চুনি জানোর বাবা একটা হিরো... আর আমি?"


বৃষ্টি ভেজা আকাশের নিচে একটি ছোট্ট স্কুল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট রিজভী, হাতে একটি অদ্ভুত কালো রঙের ইউএসবি। তার চোখে-মুখে নিষ্পাপ কৌতূহল আর শয়তানি মিলেমিশে এক অদ্ভুত আলো। ভেতরের ক্লাসরুমে শিক্ষক বলছে, "তোমাদের প্রজেক্টের বিষয়: আমার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।"


রিজভীর গলায় খামখেয়ালি আত্মবিশ্বাস, "আমি একজন হ্যাকার হবো। আমার বাবার মতো, আর আমার খালার মতোও। কিন্তু আমি ওদের চেয়েও ভয়ংকর হবো।"


---


**ফ্ল্যাশব্যাক - পাঁচ বছর আগে:**


সোহেলের মৃত্যুর পরে হাসপাতালের করিডোরে গিয়াস দাঁড়িয়ে, বুক চিরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। পাশে জারা। গিয়াসের চোখে পানি – কিন্তু সেটা কোনো এক আনন্দ আর ভয়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।


"তুমি বাঁচবে না গিয়াস," জারা বলে। "সোহেল বলেছে, তোমার রক্তে সে বিষ ঢুকিয়েছে।"


গিয়াস চুপ করে থাকে। তার হাতে মায়ের লেখা শেষ চিঠি।


"তুই সোহেলের ছেলে না... তোর বাবা আজিজুল হক।"


গিয়াসের চোখে বিস্ময়। "আমি তোকে মেরে ফেলতাম, যদি না জানতাম তুই আমারই রক্ত... কিন্তু এখন জানি, আমি ওর রক্তই না। তাহলে আমি কে?"


জারা তার হাত ধরে। "তুমি আমার সন্তানের বাবা। সেটাই এখন সবচেয়ে বড় পরিচয়।"


---


**রিজভীর আত্মবলিদান:**


হাসপাতালের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে রিজভী তার শেষ অপারেশন চালাচ্ছে। সে সোহেলের গোপন ব্যাকআপ ফোল্ডার ডিলিট করে, গ্লোবাল ট্রান্সফার ব্লক করে দেয়। ঠিক তখনই পিছন থেকে গুলি লাগে।


রক্তাক্ত মুখে সে বলে, "গিয়াস ভাই... আমার কোডনেম ছিল স্করপিয়ন কিলার। শেষটা তোমার করতে হবে..."


---


**বর্তমান:**


গিয়াস এখনো বেঁচে। দুর্লভ এক প্রতিষেধক খুঁজে পেয়েছিল সুমিত, তার মায়ের রেখে যাওয়া গবেষণা থেকে। সে এখন একটি সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম চালায়: **Scorpion Killer Inc.**


জারা এখন শহরের পুলিশ কমিশনার। তার চোখে আগুন, কথায় বরফ। অপরাধীরা নাম শুনলেই থরথর করে। কিন্তু বাড়ি ফিরে এসে সে ছোট্ট রিজভীর আঁকা ছবি দেখে হাসে – তাতে লেখা: "আমার পরিবার: হিরো বাবা, সুপারমম, আর আমি: মিনি হ্যাকার!"


একদিন রিজভী তার ব্যাগ থেকে একটি পুরনো ইউএসবি বের করে। সেটি রিজভী (বড়) তাকে দিয়ে গিয়েছিল। সে চালু করে, স্ক্রিনে আসে এক লাইন কোড:


"If you're watching this, it means I died for love, not for revenge. Hack the world with truth."


রিজভী মুচকি হাসে। তার চোখে জ্বলে ওঠে নীল আলো। ঠিক তখনই একটি ফোন কল আসে। অপর প্রান্তে একটি রহস্যময় কণ্ঠ:


"তুমি প্রস্তুত তো, ছোট স্কর্পিয়ন? এখন খেলাটা তোমার।"



রিজভী জানালার দিকে তাকিয়ে বলে, "আমি শুধু শুরু করেছি... এবার ইতিহাস আমি লিখবো।"

চলবে.....

আপু থেকে বউ পর্ব ৮ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব ৮

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 

১০,১১

হাসপাতালের করিডোরে ছায়া আর নৈঃশব্দ্যের রাজত্ব। ডাক্তারেরা ঘর থেকে বেরিয়ে একে একে মাথা নেড়ে চলে যায়। সবাইকে জানান হয় — "গিয়াস মারা গেছে।"

জারা স্তব্ধ। তার চোখে জল নেই, কেবল এক ধরনের আতঙ্ক জমে আছে।

হঠাৎ সে গিয়াসের ঠাণ্ডা আঙুলে মৃদু কাঁপুনি টের পায়। খুব ধীরে নড়ছে আঙুলটা। তার চোখ আটকে যায় ECG মনিটরে — সোজাসাপ্টা ফ্ল্যাট লাইন! কিন্তু... সেই যন্ত্রটাও একটু অস্বাভাবিকভাবে ঝাঁপছে মাঝে মাঝে!

হাসপাতালের সিসিটিভি কন্ট্রোলে হ্যাকার রিজভী বসে আছে। মনিটরে কোডিং চলছে, আরেকটি স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে — গিয়াসের বুকে ইলেক্ট্রোডে যুক্ত একটা ছোট সার্কিট!

রিজভী ফিসফিস করে, "তুই মরিস না ভাই... এখনো যুদ্ধ বাকি।"



সোহেল তার ডার্ক ওয়েব ল্যাবে দাঁড়িয়ে। সামনে খোলা একটি ল্যাপটপে টাইমার চলছে। ২৪ ঘণ্টা পার হলেই — অটো-মেইল ছড়িয়ে যাবে সর্বত্র: "গিয়াসের মা জীবিত নয়। সে ছিল একজন পেইড অ্যাক্ট্রেস।"

কিন্তু...

সোহেল জানে এটা মিথ্যে। সত্যিটা ভয়াবহ — গিয়াসের মা এখনো জীবিত, তারই ডেনের নিচতলায় বন্দি।

সোহেল কাঁদে না, কিন্তু তার চোখে ক্রুর আত্মবিশ্বাস।

"জারা... তোমার সন্তান আমার শেষ অস্ত্র। তুমি হারবে।"



রিজভী দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকার এক গ্যারেজে। তার ফোনে সোহেলের নাম দেখা যাচ্ছে। একটানে কল করে — কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডিসকানেক্ট করে দেয়।

সে বলে ওঠে, "আমি পারবো না। তুমি আমার বাবা হলেও, আমি এখন আর অন্ধ নই।"

সে ব্যাগ থেকে তুলে আনে এক পেনড্রাইভ। তাতে থাকা কোড দিয়ে সে সোহেলের সুইস ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়।

"শুরু হলো বাবার পতন... মেয়ে হাতেই।"



হাসপাতালের রুমে গিয়াসের নিথর দেহের পাশে বসে জারা। চোখ বুজে সে একটা চিঠি বের করে। গিয়াসের হাত মুঠোয় ছিল।

"জারা... যদি কখনো আমি না ফিরি, আমাদের সন্তানকে রক্ষা করো। তার নাম রাখো 'রাহাত' — যেন সে জানে, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসাই সবশেষে জেতে।"

জারার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। সে উঠে দাঁড়ায় — গন্তব্য: কোথাও নিরাপদ। কিন্তু...

হাসপাতালের করিডোরে হঠাৎ সে থমকে যায়। সামনে দাঁড়িয়ে আছে সুমিত।

তার চোখে কোনও সহানুভূতি নেই। সে এগিয়ে আসে, হাতে ধরা একট সুই।

জারা পেছন দিকে সরতে থাকে, ফিসফিস করে: "তুমি এখনো সোহেলের হয়ে খেলছো, তাই তো?"

সুমিত বলে: "আমি কারও হয়েই খেলি না। আমি শুধু ফিরিয়ে দিচ্ছি... রক্তের ঋণ।"



ছয় বছর আগের রাত। আজিজুল হক বন্দুক নিয়ে ছুটে এসেছে গুদামে। সেখানে আছে সোহেলের ড্রাগ কার্টেল। সে হাসানকে বাঁচাতে এসেছিল। গুলির শব্দ, চিৎকার... তারপর নীরবতা।

দেয়ালে রক্ত লেখা: "অভিযানে মৃত্যু"

কিন্তু একটা ছায়া দেখছিল সবকিছু। গিয়াসের মা। চোখে ভয়ের ছাপ। আর তখনই সোহেল পেছন থেকে এসে বলে: "তুই বললে মরবি... না বললে বন্দী হবি।"



রাত গভীর। হাসপাতালের বিদ্যুৎ চলে যায়। সিকিউরিটি লাইট ঝাঁপায়।

সোহেল মুখোশ পরে, বন্দুক হাতে ঢুকে পড়ে রুমে। গিয়াসের শরীর এখনো নিথর।

সোহেল গিয়াসের দিকে বন্দুক তোলে — "তোর খেলা শেষ।"

ঠিক তখনই — গিয়াসের চোখ খুলে যায়। সে ঠান্ডা কণ্ঠে বলে:

"তুমি আমাকে মারতে পারো... কিন্তু আমার সন্তানকে নয়।"

এক গুলির শব্দ।


শেষ দৃশ্য:

জারা পেছনে ঘোরে — সুমিত দাঁড়িয়ে আছে, হাতে সিরিঞ্জ। কিন্তু সে স্থির হয়ে গেছে।

তার চোখে কান্না।

পেছন থেকে একটা কণ্ঠ:

"সুমিত, শেষ করতে চাও? না মুক্তি দেবে নিজেকেই?"

গিয়াস দাঁড়িয়ে আছে, রক্তাক্ত, কিন্তু চোখে আগুন।

"জারা নিজের গর্ভে হাত রেখে বললো — আমি কিছুতেই হারবো না। তুমি আমার রক্ত... কিন্তু সে আমার ভালোবাসা।"

 

হাসপাতালের এক কোণায় রাখা একটি লাশ। মুখ ঢাকা, চোখ বন্ধ। ডাক্তার রিপোর্ট দেয় – "গিয়াস মৃত।"

কিন্তু...

একটি ফ্ল্যাশব্যাক:
রিজভী গিয়াসকে এক অদ্ভুত ইনজেকশন দেয়। "এই ড্রাগ তোর হার্টবিট বন্ধ করে দেবে দুই ঘণ্টার জন্য, ঠিক যেন তুই মারা গেছিস।"

সেই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল হ্যাক করা ECG মেশিন, আর হাসপাতালের লাশটা ছিল মোমের মতো দেখতে একটি ডামি।

আসল গিয়াস তখনই চলে গেছে — সোজা সোহেলের ডেনের ভিতরে!


সোহেলের ডেন – নিচতলায় এক বন্দি

গিয়াস নিঃশব্দে নামছে ডেনের নিচতলায়। দেয়ালের ভেতর থেকে শুনতে পায় — কারো কাশির শব্দ।

তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেই সে থমকে যায়।

একটি বুড়ি নারী, চুল সাদা, চোখ গভীর ক্লান্ত। কিন্তু মুখটা পরিচিত।

"মা...?"

নারী তাকিয়ে বলে, "তুই... গিয়াস? ওরা বলেছিল তুই পাগল হয়ে গেছিস।"

গিয়াস ভেঙে পড়ে। কিন্তু তখনই মা বলে ওঠেন, "সোহেল কখনো শিশু মারেনি। সে নিজের সন্তানের জন্য সব করতে পারে... কিন্তু তোদের জন্য? জানি না।"



জারাকে ধরে রেখেছে সুমিত। তার হাতে সিরিঞ্জ, চোখে ভয়।

"তুমি গর্ভবতী কি না জানতে চাই... এখনই," বলে সুমিত। জারা বাধা দেয় না। ফল আসে – পজিটিভ।

সুমিত কাঁপছে। হঠাৎ তার চোখে জল।

"আমি জানতাম না... শিশু আসছে!"

একটি ফ্ল্যাশব্যাক শুরু হয়:
সুমিতের মা – গিয়াসের মায়ের বোন। সোহেল তাকে মেরে ফেলেছিল, কারণ সে আজিজুল হকের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে চেয়েছিল!



রিজভী ল্যাপটপে বসে সোহেলের ডার্ক ওয়েব অটো-মেইল সার্ভার হ্যাক করছে। তার চেহারা ঘামে ভিজে গেছে।

ঠিক হ্যাক শেষ হওয়ার মুহূর্তে পেছন থেকে গুলি — সোহেল!

রক্তাক্ত রিজভী মাটিতে পড়ে বলে:

"আমার বাবা আজ খুন হলো... তোমার হাতে। কিন্তু আমার ভাই তোমাকে থামাবে!"

সোহেল থেমে যায় — সে রিজভীর মুখে নিজেরই চোখ দেখে। পেছনে পড়ে থাকে রিজভীর পেনড্রাইভ।



একটি গোপন ঘর। সোহেল, গিয়াস, জারা এবং গিয়াসের মা মুখোমুখি। মা বন্দি, গিয়াস পিস্তল হাতে, জারা গর্ভবতী।

সোহেল গিয়াসকে বলে, "তুই নিজেকে গুলি কর... নয়তো আমি এই গর্ভবতী মেয়েকে শেষ করে দেব।"

গিয়াস থেমে যায়। তার চোখে ধূসরতা, কাঁপা হাত পিস্তল তোলে...

ঠিক তখন জারা হঠাৎই নিচু হয়ে সোহেলের পায়ে কামড় বসায়!

সোহেল চিৎকার করে পেছনে হটতেই গিয়াস পিস্তল ছুড়ে ফেলে তার গলায় ঘুষি দেয়। মা উঠে দাঁড়িয়ে যায়...



বাইরে হেলিকপ্টারের শব্দ। লাইট ঝাঁপিয়ে পড়ছে জানালায়।

সোহেল পিস্তল তোলে, গিয়াসকে লক্ষ্য করে।

ঠিক সেই মুহূর্তে গিয়াসের মা সামনে এসে দাঁড়ায়।

এক গুলির শব্দ। সোহেলের হাতে পিস্তল নড়ে না... কিন্তু গিয়াসের মা কাঁপতে কাঁপতে পড়ে যায়।

"মা!!"

মায়ের শেষ কথা:
"তুই স্বাধীন, গিয়াস... রক্তের ঋণ মেটালো ভালোবাসা।"



জারা হাসপাতালের বেডে। তার পাশে গিয়াস। নবজাতকের কান্না ঘরভরিয়ে বাজে।

পেছনে পুলিশ দাঁড়িয়ে, সুমিত হাতকড়া পরা। চোখে জল, ঠোঁটে কিছুটা হাসি।

গিয়াস ফিসফিস করে,

"ওর নাম রাখবো... রিজভী। সে-ই আমাদের বাঁচিয়েছে।"


নবজাতক চোখ মেলে তাকায়... যেন সে জানে, তার জন্ম এক যুদ্ধজয়ের মধ্য দিয়ে এসেছে!

চলবে.... 

আপু থেকে বউ পর্ব ৬ লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ

পর্ব ৬

লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ





গিয়াসের চোখ স্থির।
সে নিশানা করে ট্রিগারে চাপ দেয়—

“ডাম!!”
সোহেলের কাঁধে গুলি লাগে, সে কাঁপে উঠে, রিমোট হাত থেকে পড়ে যায়!

রিমোট মাটিতে পড়ে চারদিক লাল আলো জ্বলে ওঠে—টাইমার: 00:10… 00:09…

গিয়াস সোহেলকে ফেলে টান দিয়ে জারাকে ধরে:
— “দৌড়াও!!”

জারা-গিয়াস ছুটে বের হয়।
দরজার বাইরে লাফিয়ে পড়ার ঠিক এক সেকেন্ড পর—

“ব্বুম!!”
পুরো রুম ধ্বংস। কংক্রিট উড়ে যায়, শকওয়েভে আশপাশ কাঁপে।

জারা পড়ে যায় গিয়াসের গায়ে।
হাঁপাতে হাঁপাতে গিয়াস বলে:

— “বাঁচলে… আবার বিশ্বাস করবা?”
জারা নিরুত্তর। কিন্তু তার চোখে একটা শঙ্কা গলে গিয়ে আশা হয়ে যায়।


সুমিতের মুখোশ খুলে যায়

ডিপার্টমেন্টের শাওন বলে:

— “ম্যাডাম, আপনি যে ফাইল চেয়েছিলেন, সেটা মিলেছে।
একটা ফাইল আপনার ডেস্কে রাখছি—‘S.H. Lineage’।”

জারা দেখে, সুমিতের জন্ম সনদে ‘হাসান চৌধুরী (সোহেলের ভাই)’ লেখা।

— “ও... তো সুমিত হলো হাসানের ছেলে?”

জারা অফিসে ফিরে সুমিতকে কফির কাপ দিতে গিয়ে দেখে, তার হাতা উঠেছে…
একটি উল্কি – একটি বিষাক্ত বিচ্ছু (Scorpion)!

সোহেলের গ্যাংয়ের চিহ্ন!

জারা এবার বুঝে যায়:
সুমিত “সিস্টেম” এর মধ্যে থেকেই ধ্বংস করছে সিস্টেমকে।


গিয়াসের ট্র্যাজিক পাস্ট (ফ্ল্যাশব্যাক)

ছোট গিয়াস মাটিতে কাঁদছে।

দেয়ালের ওপাশে এক পুরুষ কণ্ঠ—

“তোমার মা চলে যাবে... কারণ সে বিশ্বাসঘাতক।
আর তুই যাবে তোর মায়ের ভালোবাসার শত্রুদের কাছে। তোর নিরাপত্তার জন্য।”

সোহেল গিয়াসের মাকে গুলি করে।
রহমত এসে গিয়াসকে নিয়ে যায়।

“এই সত্য কখনো জানতে দিবি না! বড় হলে সে আমাদের ধ্বংস করবে!”

গিয়াস বড় হয়েও সবকিছু মনে রেখেছে
সে অপেক্ষা করেছে... প্রতিশোধের জন্য, নয়তো সত্যের জন্য।


 নতুন অ্যালায়েন্স গঠিত হয়

গিয়াস ও জারা খুঁজে পায় রওশন করিমের গোপন ডায়েরি।

ডায়েরিতে আছে ৫ জন অফিসারের নাম – যাদের কেউ কেউ এখন পুলিশের উচ্চপদে!
তাদেরই কেউ রহমত-সোহেল দ্বন্দ্ব তৈরি করেছিল।

তারা এক কিশোর হ্যাকার "রিজভী" কে খুঁজে বের করে।
সে বলে—
— “সুমিত স্যারের ফোনে ক্রিপ্টো-ওয়ালেট আছে। গত ১ মাসে ১৮ লাখ টাকা ঢুকেছে, পাকিস্তানি নম্বর থেকে।”
— “এই সিস্টেমের ভিতরেই শয়তান!”


 ভয়ঙ্কর কল... গাদ্দার বাবা?

পর্বের চূড়ান্ত দৃশ্য।

সুমিত ফোনে কথা বলছে।

— “স্যার, আপনার মেয়ে এখনই মরবে… যেমন আপনি আমার বাবাকে মেরেছিলেন!”

স্ক্রিনে দেখা যায়:
জারার বাবা, রিটায়ার্ড অফিসার রহিম চৌধুরী – একটা চেয়ারে বাঁধা! মুখে রক্ত, চোখে শঙ্কা!

স্ক্রিন কাঁপে।

জারা দূরে দাঁড়িয়ে... সব শুনছে!
তখনই ফোনে তার বাবার কণ্ঠ—

“জারা, এই প্রথম গিয়াসকে বিশ্বাস করো…
সে ছাড়া তুমি বাঁচবে না।

জারা ফোনে তার বাবাকে বলতে শুনে—
"এই প্রথম গিয়াসকে বিশ্বাস করো... সে ছাড়া তুমি বাঁচবে না!"


রাত সাড়ে ১২টা।

জারা ঘরের কোণে বসে। সামনে গিয়াস দাঁড়িয়ে।

ভেতরে এক অদ্ভুত নিঃশব্দতা।
গিয়াসের গায়ে পোঁড়া ধুলা, চুল এলোমেলো। জারার ঠোঁটে রক্ত।

গিয়াস ধীরে বলে—

“জারা… ওরা তোর বাবাকে কোথায় রেখেছে, আমি জানি।”

জারা উঠে দাঁড়ায়। কণ্ঠে যেন আগুন:

“তাহলে দেরি কেনো?
আজ রাতেই আমরা তাকে ফিরিয়ে আনব।
আজ রাত… শিকল ভাঙার রাত।” রিজভী হ্যাকার প্ল্যান দেয়

রিজভী, ১৭ বছরের টিনএজার, সামনে কম্পিউটার খুলে বসে।

“ওদের লোকেশন ট্রেস করতে পারিনি। কিন্তু ‘ডিপ ব্লু নেটওয়ার্ক’-এর একটা অডিও চ্যাট লগ পেয়েছি।”
“সেখানে একজন বলেছে: ‘পুরানো মিল ঘরের নিচে, আগুনে পুড়ে যাবে রহিম চৌধুরী।’”

গিয়াস কাঁপা গলায় ফিসফিসায়—

“ওরা ওনাকে আজই মেরে ফেলবে…”


মিল ঘরের অভিযানে পুরনো একটি ময়লা মিল ঘর। চারপাশে কাঁটা তার, রক্ষী।

আকাশে বজ্রপাত।

জারা, গিয়াস ও রিজভী তিনজনে রেইডে যায়।

জারা হাতে সাইলেন্সার লাগানো গ্লক।
গিয়াস কোমরে ছুরি, কাঁধে ফার্স্ট-এইড ব্যাগ।
রিজভীর চোখে নাইট ভিশন গগলস।

তারা চুপিচুপি ঢুকে পড়ে। রক্তের সিম্বল

ঘরের একাংশে বাঁধা জারার বাবা। চোখ বন্ধ, নিঃশ্বাস ধীর।
সুমিত দাঁড়িয়ে আছে – হাতে বড় সিরিঞ্জ। সে বলে—

“এই ইনজেকশনে যাবে না... যাবে রক্তের বিচার দিয়ে।”

ঠিক তখনই জারা ঝাঁপিয়ে পড়ে!
এক গুলি, দুই ঘুষি—সুমিত পিছিয়ে যায়।

কিন্তু এক দেহরক্ষী গিয়াসের দিকে ছুরি ছুড়ে মারে—
গিয়াস বাঁধন কেটে বাবাকে ছাড়াতে গিয়েই কেটে ফেলে নিজের হাত!

রক্তে ভিজে যায় বাঁধন। জারা চোখে জল ফেলে বলে—

“তুমি… নিজের রক্ত দিয়ে বাবাকে ছাড়ালে…”

গিয়াস হাসে। চোখ ঝাপসা।  বিচ্ছু উল্কির পুনরাবৃত্তি

সুমিত আবার হামলা করে।

জারা তার হাতা ছিঁড়ে ফেলে—সবার সামনে বিচ্ছু উল্কি বেরিয়ে পড়ে।

“তুমি হাসানের ছেলে! তুমিই সেই বিষাক্ত শিকারি… তুমি তো শুধু প্রতিশোধ চেয়েছিলে!”

সুমিত চিৎকার করে:

“তোমার বাবা হাসানকে মেরেছিল! আমি শুধু রক্ত ফেরত নিতে এসেছি!”


 গিয়াসের দ্বন্দ্ব – শেষ করবে, নাকি ছাড়বে?

গিয়াস সুমিতকে কাবু করে ফেলে।
ছুরির ফল ঠিক সুমিতের গলায়।

জারা চিৎকার করে:

“গিয়াস, করো না! তুমি আর ওদের মতো হয়ে যেও না!”

গিয়াস দাঁড়িয়ে থাকে… হাত কাঁপে।

“আমার মা… আমার জীবন… আমার শৈশব সব কেড়ে নিয়েছে ওরা।
কিন্তু… আমার ভালোবাসা আমাকে পশু বানাতে পারবে না।”

সে ছুরি ফেলে দেয়। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু।সোহেলের ভয়েস ও নতুন প্যাঁচ

একটি রেকর্ডার বাজে… সুমিতের পকেট থেকে:

“সুমিত, গিয়াসকে মারো না।
সে আমার রক্ত…
কিন্তু আমি তার চোখে আমার মৃত্যু দেখতে পাই।”

জারা-গিয়াস থমকে যায়।

জারা ফিসফিসিয়ে বলে—

“সে কি... বুঝে গিয়েছে… গিয়াস ওকে ক্ষমা করবে না?”


ক্লাইম্যাক্স ক্লিফহ্যাঙ্গার: দুঃস্বপ্নের চক্র ফেরে?

সকাল।
একটি গ্যারেজের ভিতর, অন্ধকারে একজন লোক এসে দাঁড়ায়।

সে মোবাইলে কারও সাথে বলে:

“তুমি গিয়াসকে বাঁচিয়ে ফেলেছো, জারা।
কিন্তু তোমার সত্যিকারের শত্রু আমি...
কারণ আমি সোহেলের ভাই নই।
আমি... তোমার হারানো ভাই, রাহাত।

স্ক্রিন ব্ল্যাক।

"জারা অজ্ঞান হওয়ার আগে দেখে... গিয়াস সুমিতের গলা কাটছে না, বরং তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে!"

চলবে....

আপু থেকে বউ পর্ব ৫ লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ

পর্ব ৫

লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ



[দৃশ্য ১: গুলি – অজ্ঞানতা – জেগে ওঠা]

আলো নিভে যাওয়ার পরপরই একটা বিকট শব্দ—
"ডাম!"

জারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পড়ে যায় মেঝেতে। মাথায় আঘাত।


[দৃশ্য ২: ধোঁয়াশা আর আবির্ভাব]

চোখ খুলে দেখে, সে একটা অজানা ঘরে। দেওয়ালগুলো ধূসর, ছাদে ক্যামেরা। সামনে দাঁড়িয়ে সোহেল চৌধুরী

সে হেসে বলে—

“সবসময় ভাবছিলে আমি শত্রু... কিন্তু শত্রুতো তোমার পাশেই ঘুমাতো, তাই না?”

জারা ঝিমঝিম চোখে তাকায়।

— “তুমি কি...?”

সোহেল হাত উঁচিয়ে থামায়।

“তোমার স্বামী... গিয়াস... সে কেবল তোমার নয়।
সে আমারও রক্ত… আমার ছেলে।”

[ক্যামেরা প্যান – দরজায় দাঁড়িয়ে গিয়াস – হাতে পিস্তল]


[দৃশ্য ৩: ফ্ল্যাশব্যাক – গিয়াসের শ্যাডো পাস্ট]

পাঁচদিন আগে...
রাতে গিয়াস সেই চাবি ব্যবহার করে সোহেলের পুরনো অফিসে ঢুকে পড়ে।
সে দেয়ালের পেছনের সিন্দুক থেকে পায় একটি পুরনো চুক্তিনামা

“Sohail & Rahmat Group – Partnership Deed – Confidential”
(রহমত = গিয়াসের বাবা)

গিয়াস থমকে যায়।

— “তাহলে বাবা আর সোহেল একসাথে কাজ করত?”
— “আর এখন... কেউ কাউকে বিশ্বাস করত না।”

ডায়েরির পেছনে লেখা:

“Sohail will destroy me... but not my son.”


[দৃশ্য ৪: সুমিতের খেলা জমে]

সুমিত, পুলিশের ফাইল ঘেঁটে, জারাকে দেখায়:

— “দেখুন, গিয়াসের নামে ছোটবেলায় এক মারামারির কেস ছিল। ছেলেটিকে কোমায় পাঠায়!”

জারা স্তব্ধ।

পেছনে সুমিত এক সিনিয়র অফিসারকে মেসেজ করে:

“স্যার, জারা নিজেই গিয়াসকে কভার করছে। আর্মড ইউনিট পাঠান।”

সুমিত ক্যামেরার সামনে শুদ্ধ, কিন্তু ভিতরে মাফিয়ার চৌকস কুকুর


[দৃশ্য ৫: জারার মানসিক ভাঙন]

জারা একসময় গিয়াসের বানানো সিক্রেট রুমে ঢোকে।

সেখানে দেয়ালে সে দেখে—
নিজের ছবি, GPS ট্র্যাকিং ডেটা, এক্সিডেন্ট লোকেশন... এমনকি সেই সিলেটের ছবিও যেটা তার অজান্তে তোলা।

সে দমবন্ধ হয়ে পড়ে।

হঠাৎই দেয়ালের ছায়ায় হাসান (সোহেলের মৃত ভাই) দাঁড়িয়ে।

“তুই এখনও গিয়াসকে বিশ্বাস করিস?
সে তো শুধুই একটা ছদ্মবেশ!”

জারা চিৎকার দিয়ে উঠে পড়ে—কিন্তু কেউ নেই।


[দৃশ্য ৬: ক্লাইম্যাক্স – সত্য উন্মোচনের মুহূর্ত]

ফের ফিরে আসা সেই ঘরে—

সোহেল বলে,
— “গিয়াস জানে না আমি ওর বাবা। সে কেবল প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল বাবার খুনের। কিন্তু এখন সময় খেলাটা শেষ করার।”

গিয়াস ধীরে বলে,
— “আমি জানতাম সব। কিন্তু আমি জারাকে ভালোবেসে ফেলেছি।”

সোহেল হেসে ওঠে—
— “তোমার ভালোবাসা... ওকে বাঁচাবে না।”

সোহেল পকেট থেকে একটা রিমোট তোলে।

— “তোমার সেই সিক্রেট রুম, যেটা তুমি জারার জন্য বানিয়েছো?

সেখানে আমি আগে থেকেই একটা বোমা বসিয়েছি।”

“টাইমার চলছে—৩ মিনিট বাকি।”


[শেষ দৃশ্য – পিস্তল উঠলো]

গিয়াস পিস্তল তোলে।
দেখায় সে জারাকে নয়, তাক করেছে সোহেলের দিকে!

“তোমার সময় শেষ, আব্বা...”

"ডাম!!"
(স্ক্রিন ব্ল্যাক)

“জারা চোখ মেলে দেখে—গিয়াসের পিস্তল তার দিকে না… সোহেলের দিকে তাক করা!”


🔥 পাঠকদের জন্য পরের পর্বে কিছু প্রশ্ন:

  • গিয়াস কি আসলেই গুলি করল? কাকে?

  • বোমা কি সত্যি ফাটবে?

  • জারা কি গিয়াসকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা করতে পারবে?

  • সুমিত কি শেষ পর্যন্ত ধরা পড়বে না?

  • সোহেল যদি গিয়াসের বাবা হয়, তাহলে সে কেন নিজের ছেলেকে মারতে চায়?

আপু থেকে বউ পর্ব ৪ লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ

পর্ব ৪

লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ




রাত ৩:১১

ছাদে একপাশে চুপচাপ বসে আছে গিয়াস।
হাতে একটা লোহার ছোট বাক্স। ভিতরে কি?

কেউ জানে না, এমনকি জারা-ও না।

সে বাক্সটি খুলে ভেতর থেকে বের করে ছোটখাটো কিছু যন্ত্রপাতি—কিছু অস্ত্রর অংশ, আর কিছু ইলেকট্রনিক সেন্সর।
তার চোখে চাপা গম্ভীরতা, ঠোঁটে মৃদু বিড়বিড়ানি—
"এবার যদি আসে... কাউকে ছেড়ে দেবো না।"

দূরে, ছাদের এক কোণে সে নিজের হাতে বানিয়ে রেখেছে একটি ছোট রুম—কনক্রিট, ইস্পাত আর লুকোনো ক্যামেরায় ভর্তি।
কেউ ভাববেই না এটি জারার জন্য প্রস্তুত এক নিরাপদ আশ্রয়
কিন্তু সে এটা জানে না...


সকাল জারা ঘুম ভেঙে দেখে গিয়াস নেই।

টেবিলে পড়ে আছে গিয়াসের মোবাইল।
অজান্তেই স্ক্রিন ট্যাপ করে ফেলে—
ওপেন হয় একটি পুরনো গ্যালারির ফোল্ডার

ছবিগুলো দেখে জারা হকচকিয়ে যায়।

একটি ছবি—তার ৩ বছর আগের, যখন সে সিলেটে এক্সিডেন্টে পড়েছিল।
তখন তার আশেপাশে কেউ ছিল না—তবু ছবিটা কেউ তুলেছে।

— “এই ছবি এখানে কীভাবে?”

সে আবার খেয়াল করে—পেছনে, দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছায়ামূর্তি। ফেস ব্লারড, কিন্তু গড়ন... গিয়াস?

জারার মনজুড়ে এক নতুন ভয়।


ডিপার্টমেন্ট এসআই সুমিত ফাইল হাতে হাসিমুখে হাজির।

— “ম্যাডাম, সোহেল চৌধুরী সম্পর্কে নতুন তথ্য। লোকটা বাম হাতি। সে সব সময় বাঁ হাতে অস্ত্র ধরত।”

— “তুমি নিশ্চিত?”
— “ডিবির ফাইল বলছে তাই।”

জারা মাথা নাড়লো।

কিন্তু ভিডিও ফ্রেমে সে যেটা দেখেছিল... সেখানে সোহেল স্পষ্টভাবে ডান হাতে বন্দুক ধরেছিল
কিছু একটা মিলছে না।

সুমিত কফি টেবিলের নিচে চুপিচুপি গিয়াসের একটি চাবির রিং ফেলে রেখে দেয়

সে জানে, একদিন কেউ এই চাবি খুঁজে পাবে… সোহেলের পুরনো অফিসে।


রওশন করিম

সন্ধ্যায় ফোন আসে—
রওশন করিম মারা গেছেন।

জারা স্তব্ধ হয়ে যায়।
হাসপাতাল বলে হৃদরোগে মৃত্যু

কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জারা নিজে চোখে দেখে গলায় হালকা ইনজেকশনের চিহ্ন

সে যেন কেঁপে ওঠে।

— “রওশন ভাই তো একদম ঠিক ছিলেন কাল! ইনজেকশন কেন?”

তদন্তে নেমে জারা বুঝতে পারে—হাসপাতালের CCTV ফুটেজ ডিলিট করা
যেই রাতের ঘটনা, সেই ফাইল গায়েব!


অতীত: ডায়েরির পাতা রাতে বিছানায় ফিরে এসে জারা তার পুরনো ডায়েরির পাতা উল্টাতে থাকে।

একটি পাতায় চোখ আটকে যায়—

“২০০৯, স্কুলে সোহেলের ভাই হাসানকে মারধর করেছিলাম।
সে নাকি আমাদের বাসায় চুরি করতে এসেছিল।
পরে বাবা চেপে যেতে বলেছিল।
কিন্তু সোহেল আমাকে হুমকি দিয়েছিল—‘তোর জীবনটা আমি চুরি করব একদিন’।
হাসান মারা গেছে। আমি জানি না সেটা কাকতালীয় না পরিকল্পিত।”

আরেকটি পাতায়—

“সোহেলের নামে একবার আমি হেডমাস্টারকে গোপনে চিঠি দিয়েছিলাম।
সে নাকি গাঁজা খায়, বলেছিলাম। সে তখন স্কুল থেকে সাসপেন্ড হয়।”

জারা থমকে যায়।

সে জানতো না, এতকিছুর শেকড় এত পেছনে।


রাত গিয়াস এসে দেখে, টেবিলে খোলা জারার ডায়েরি।

সে এগিয়ে গিয়ে পড়ে—

“গিয়াস কি সত্যি বলছে?
আমি তাকে বিশ্বাস করি… নাকি করি না?”

তার মুখে মৃদু হাসি, আবার চাপা কষ্ট।

ঠিক তখনই, জারার ফোনে আসে এক ইনকামিং কল।
অপর প্রান্ত থেকে কণ্ঠ ভেসে আসে—

"তুমি তোমার বরের গোপন পেনড্রাইভ দেখেছো...
এবার দেখো আমারটাও।"

স্ক্রিনে ভেসে ওঠে জারা-গিয়াসের বিয়ের ভিডিও ফুটেজ

ক্যামেরা ধীরে ধীরে প্যান করে এক কোণে দাঁড়ানো এক মানুষকে ফোকাস করে।

সোহেল চৌধুরী!

সে সেই সময়ও ওদের আশেপাশে ছিল!


ক্লিফহ্যাঙ্গার গিয়াস জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল।

জারা ধীরে ধীরে পেছনে ঘুরে বলে—
— “তুমি আমার ছায়ার নিচে ছিলে সব সময়… নাকি আমি তোমার নিশানায়?”

গিয়াস চোখ বন্ধ করে ধীরে উত্তর দেয়—
— “জারা, তুমি কি আমাকে সত্যি চিনতে চাও?”

পরবর্তী সেকেন্ডেই আলো নিভে যায়।
বাইরে গুলির শব্দ।
ছাদের দিক থেকে ভেসে আসে চিৎকার:

— “তাকে ধরো! সে পালাচ্ছে!”


চলবে…

৫ম পর্ব লিংক 

https//wwwnexstpartfiverepisot.com

আপু থেকে বউ 

পর্ব ৩

লেখা: গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ



রাত ১টা।

জারা ঘুমিয়ে পড়েছে। গিয়াস চুপচাপ বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়।
সে ধীরে ধীরে আলমারির গোপন চেম্বার খুলে একটা ছোট বাক্স বের করে।

বাক্সের ভিতরে থাকা পুরনো চিঠিগুলোতে ধুলোর স্তর।
তবে একটির খাম ভাঙা—যেটার উপরে লেখা, "S.C. will act soon. Burn after reading."

গিয়াস সেটা আবার আগের জায়গায় লুকিয়ে রাখে।
তার চোখে একধরনের তীক্ষ্ণতা… যেন সে কিছু জানে, কিছু লুকাচ্ছে।


সকাল জারা ডিপার্টমেন্টে যায়।

ওসি আকবর তাকে ডেকে নেয় কনফারেন্স রুমে।

— “তোমার দেওয়া ভিডিও, অডিও আমরা এনালাইসিস করেছি। গলার সেই ব্যক্তির নাম সোহেল চৌধুরী, পুরনো ক্রিমিনাল রেকর্ডে আছে। তবে মুখ দেখা যায়নি।”

— “আমরা কি তার ছবি পেতে পারি?”
— “চেষ্টা করছি… তবে সাবধান, এরা খেলো না।”

জারার সহকর্মী এসআই সুমিত দরজা খুলে ভেতরে আসে।
হালকা হাসি দিয়ে বলে,

— “ম্যাডাম, আপনি চাইলে আমি লোকেশন ট্র্যাকিংয়ে হেল্প করতে পারি।”

জারা মাথা নাড়ে।
— “থ্যাঙ্কস, সুমিত। তুমি খুব রিলায়েবল।”

পাঠক জানে না, সুমিত হাসির আড়ালে কী ভয়ঙ্কর ছায়া লুকিয়ে রেখেছে...


অন্যদিকে গিয়াস বাসায় ফিরে এসে তার ল্যাপটপে বসে।

অন্য আরেকটি পেনড্রাইভ খুলে সে একটি ভিডিও চালায়।
ভিডিওতে দেখা যায়—

সোহেল চৌধুরী স্পষ্টভাবে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলছে:

“তোমার বাপ এতদিন ধরে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে। এখন সময় বদলাবার।
একটা দুর্ঘটনা হবে—তুমি জানবা না, কারা করল।
কিন্তু গিয়াস, তুমি যদি জিভ বেশি চালাও, তোমার বউও থাকবে না।”

গিয়াস ভিডিও বন্ধ করে।
তার মুখে ভয় নেই… বরং জ্বলন্ত ক্রোধ।

সে জানে, জারাকে এ ভিডিও এখনই দেখানো ঠিক হবে না।


সন্ধ্যা জারা আর গিয়াস ছাদে বসে।

আকাশে অন্ধকার নামছে। বাতাস ভারী।

— “তুমি সারাদিন কি করেছো?”
— “একটা পুরনো বই পড়ছিলাম,” গিয়াস হেসে উত্তর দেয়।

জারা মনেই করে না কিছু সন্দেহ করার মতো কিছু আছে।
তবে তার ফোনে একটা বার্তা আসে—

"Beware of the closest. They may burn you first."
(সাবধান থাকো, যারা সবচেয়ে কাছে... তারাই আগে পোড়ায়।)

জারা চমকে যায়। নম্বর আননোন।

— “কিছু হয়েছে?”
— “না, কিছু না,” বলে ফোন অফ করে দেয়।


গভীর রাত জারার ঘুম ভেঙে যায় এক অদ্ভুত শব্দে।

বের হয়ে দেখে, গিয়াস রুমে নেই।

সে নিচে নামে—দেখে গিয়াস কাউকে ভিডিও কলে কথা বলছে।

দূর থেকে দেখা যায় ভিডিও স্ক্রিনে সোহেল চৌধুরীর সম্পূর্ণ মুখ!
গালে পুরনো কাটার দাগ, চোখে চাপা ভয় আর অভিজ্ঞতার ছাপ।

“তুমি এখনো সিদ্ধান্ত নিওনি?”
“আমার সময় দরকার,” গিয়াস ফিসফিস করে বলে।
“তুমি জানো, সময় শেষ হয়ে আসছে। জারাকে সরিয়ে ফেল… না হয় আমরা সরিয়ে ফেলবো।”

জারা দূর থেকে দেখে—কিন্তু চেহারা ভালোভাবে দেখতে পায় না।

গিয়াস হঠাৎই ফোন বন্ধ করে দেয়, ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকায়।

কিন্তু জারা তখন ছায়ায় মিশে গিয়েছে।


পরদিন ওসি আকবর ডেকে নেয় জারাকে।

— “নতুন একটা ফুটেজ পেয়েছি। সোহেলের স্পষ্ট মুখ।”
— “আমাকে দেখান।”

ফুটেজে দেখা যায়—একটা গ্যারেজে দাঁড়িয়ে আছে তিনজন। একজন সোহেল।

জারা তাকিয়ে থাকে, কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারে না সে এই চেহারা কোথায় দেখেছে।

পাঠক কিন্তু জানে—এই চেহারা সে আগেই দেখেছে... তবে স্বপ্নে নয়, বাস্তবেই, গিয়াসের ল্যাপটপে।


গল্পের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত

ওসি আকবর নতুন ডিউটির দায়িত্ব দিচ্ছেন।

— “সোহেলকে ধরার জন্য তুমি আর এসআই সুমিত যৌথভাবে কাজ করবে।”
জারা অবাক হয়।
— “আমি একা কাজ করতে চাই...”
— “না, এখন সুমিতকেই দায়িত্ব দেওয়া হলো।”

দরজা বন্ধ হওয়ার পর সুমিত ধীরে ধীরে ফোনে মেসেজ করে:

“সে এখনো কিছু বুঝে ওঠেনি। পরের ধাপ কখন?”

মেসেজের ওপরে যে নামটা ঝলকে উঠে আসে…

S.C.


চলবে...


🔥 টুইস্ট রিভিল

  • গিয়াস নিজেই সোহেলের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত ছিল বা ব্ল্যাকমেইল হচ্ছিল।

  • সোহেল চৌধুরীর মুখ আমরা এখন দেখেছি, কিন্তু জারা এখনো চিনতে পারছে না।

  • এসআই সুমিত সোহেল চৌধুরীর পেইড ইনফরম্যান্ট, কিন্তু এখনো কেউ জানে না।

  • পরবর্তী পর্বে জারা ধীরে ধীরে গিয়াসকে সন্দেহ করতে শুরু করবে… এবং সুমিতকে বিশ্বাস করবে—যা আরও ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।