পর্ব :৫
তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর
গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ
ঘরের দেয়ালগুলো এখন নীরব।
আয়না ভাঙা, ফুলদানি নেই, বিছানায় শুয়ে ডালি—ঘুমিয়ে আছে শান্তভাবে।
তবুও আমার মনটা অশান্ত।
কেন যেন মনে হচ্ছে, **সব কিছু শেষ হয়নি।**
স্বপ্নের রাত...
সেই রাতে আমি ঘুমোতে পারিনি।
ডালির শরীর নিস্তেজ, কিন্তু মুখটা অদ্ভুত ম্লান।
হঠাৎ ঘরের বাতি একবার টিমটিম করে নিভে গেল —
তারপর আবার জ্বলে উঠল...
ঠিক তখনই ডালির মুখে ভেসে উঠল এক ছায়া—চেনা, পরিচিত, ভয়ংকর...
**মঞ্জুরা!**
তার চোখে এবার আগুন নয়—জল।
— “আমি হার মেনেছি।
আমি প্রতিশোধ চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি অভিশাপ।
ভালোবাসা চেয়েছিলাম, পেলাম বিষ।
কিন্তু এক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে...”
আমি অস্পষ্ট স্বরে জিজ্ঞেস করলাম,
— “কি প্রশ্ন?”
সে বলল,
— “আমি কি সত্যিই খারাপ ছিলাম?
নাকি শুধু ভুল সময়ে ভালোবাসতাম?”
আমি থেমে যাই।
ও বললো আরও একবার…
> “ডালির শরীর আমি ছেড়ে দিচ্ছি।
> কিন্তু এই ভালোবাসার ছায়া আমি রেখে গেলাম...
> আমি ফিরব না। তবে আমি রয়ে যাব।”
---
সকাল...
ডালি ঘুম ভাঙে।
ওর মুখে প্রশান্তি। ঠোঁটে হালকা হাসি।
আমি ওর কপালে চুমু খাই, বলি —
— “সব ঠিক হয়ে গেছে। তুমি ফিরে এসেছো।”
ডালি ধীরে ধীরে বলে,
— “আমি একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম।
আমি এক পুরনো প্রাসাদে দাঁড়িয়ে আছি।
এক মেয়ে আমার পেটের কাছে হাত রাখছে, আর বলছে,
> ‘এইটুকু রেখে গেলাম। ও জানবে আমি শুধু প্রতিশ্রুতি ভাঙতে শিখিনি… জন্ম দিতেও পারি।’”
আমি স্তব্ধ।
— “তোমার পেটের কাছে?”
ডালি বিস্মিত চোখে আমার দিকে তাকায়।
হঠাৎ ওর মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়।
আমরা দুজনে নিচে ছুটে যাই পিসিমার কাছে।
---
চিকিৎসকের কাছে…
চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন:
— “অভিনন্দন! ডালি গর্ভবতী। মাত্র কয়েক সপ্তাহ হয়েছে।”
— “আপনারা জানতেন না?”
আমরা স্তব্ধ। একে অপরের দিকে তাকাই।
তবে প্রশ্ন জেগে থাকে...
**এই সন্তান কার? আমি আর ডালি যে…**
তখনো সেই স্বপ্নের কথা ঘুরছে মাথায়—
> ‘ও জানবে আমি জন্ম দিতেও পারি।’
বছরখানেক পর।
আমি, ডালি, আর আমাদের এক কন্যাসন্তান —
নাম রেখেছি **"মনজিলা"**, মঞ্জুরার নামে নয়, কিন্তু তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে।
মেয়ের চোখে এক অপার্থিব দীপ্তি।
সে মাঝে মাঝে আয়নার দিকে চুপ করে তাকিয়ে থাকে।
একদিন হঠাৎ সে বললো—
— “বাবা, জানো? এক খালা বলেন, তিনি আমায় দেখছেন।
আমি যেন তার ভুল শুধরাই…”
আমি বুকের ভেতর একটা কাঁপুনি অনুভব করি।
> মঞ্জুরা হয়তো পরিত্রাণ পেয়েছে,
> কিন্তু সে তার উত্তরাধিকার রেখে গেছে...
ভালোবাসা কেবলই মধুর না,
কখনো সে অভিশপ্ত হয়, অতৃপ্ত আত্মার রূপ নেয়।
তবে ভালোবাসা যদি সত্য হয়—
সে শেষ হয় না, সে বদলায়।
জন্ম নেয় নতুন রূপে, নতুন শরীরে…
আর রেখে যায় এক **অমোচনীয় ছায়া**।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটি কথা**
ভালোবাসা শুধু ফুল আর গান নয়।
কখনো তা হয় অপেক্ষা, অন্ধকার, অভিশাপ…
আবার কখনো তা হয় আত্মা হয়ে ফিরে আসা—প্রমাণ দিতে, দাবি জানাতে, অথবা ক্ষমা চাইতে।
**এই গল্পটা ছিল তেমনই এক ভালোবাসার গল্প।**
একটা ফুলসজ্জা, এক নববধূ, আর এক আত্মার মধ্যকার সংঘর্ষ।
কে কার? কে প্রেমিক, আর কে প্রতারক?
এই জিজ্ঞাসা নিয়েই শুরু হয়েছিল “তুমি আমার ছিলে”।
ধীরে ধীরে আবিষ্কার করলাম,
ভালোবাসা শুধু দেহে হয় না—**ভালোবাসা আত্মায় জন্ম নেয়**।
আর একবার সেখানে বাসা বাঁধলে, সে হয় অমর। হয়তো রক্তে, হয়তো সন্তানরূপে।
---
❤️ **এই গল্প পড়ে যদি একটুও কাঁটা দেয় শিরায়, বা চোখে জমে অদৃশ্য জল,**
তবে বুঝে নিও—ভালোবাসা এখনও বেঁচে আছে তোমার ভিতরেও।
🔔 **আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?**
কমেন্টে লিখে জানাবেন, কাহিনির কোন পর্ব বা দৃশ্য আপনাকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে?
আপনার প্রতিক্রিয়া আমাকে আরও লেখার অনুপ্রেরণা দেবে।
---
**আরও এমন গল্প পেতে পেজে লাইক দিন / ব্লগে চোখ রাখুন।**
আগামী গল্পে দেখা হবে… হয়তো আবার কোনো অলৌকিক ভালোবাসায়।
----------------------------সমাপ্ত--------------------------------

0 Post a Comment:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন