পর্ব :৫ তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

পর্ব :৫

তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 

ঘরের দেয়ালগুলো এখন নীরব।

আয়না ভাঙা, ফুলদানি নেই, বিছানায় শুয়ে ডালি—ঘুমিয়ে আছে শান্তভাবে।

তবুও আমার মনটা অশান্ত।

কেন যেন মনে হচ্ছে, **সব কিছু শেষ হয়নি।**


স্বপ্নের রাত...


সেই রাতে আমি ঘুমোতে পারিনি।

ডালির শরীর নিস্তেজ, কিন্তু মুখটা অদ্ভুত ম্লান।

হঠাৎ ঘরের বাতি একবার টিমটিম করে নিভে গেল —

তারপর আবার জ্বলে উঠল...

ঠিক তখনই ডালির মুখে ভেসে উঠল এক ছায়া—চেনা, পরিচিত, ভয়ংকর...


**মঞ্জুরা!**


তার চোখে এবার আগুন নয়—জল।


— “আমি হার মেনেছি।

আমি প্রতিশোধ চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি অভিশাপ।

ভালোবাসা চেয়েছিলাম, পেলাম বিষ।

কিন্তু এক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে...”


আমি অস্পষ্ট স্বরে জিজ্ঞেস করলাম,

— “কি প্রশ্ন?”


সে বলল,

— “আমি কি সত্যিই খারাপ ছিলাম?

নাকি শুধু ভুল সময়ে ভালোবাসতাম?”


আমি থেমে যাই।

ও বললো আরও একবার…


> “ডালির শরীর আমি ছেড়ে দিচ্ছি।

> কিন্তু এই ভালোবাসার ছায়া আমি রেখে গেলাম...

> আমি ফিরব না। তবে আমি রয়ে যাব।”


---


সকাল...


ডালি ঘুম ভাঙে।


ওর মুখে প্রশান্তি। ঠোঁটে হালকা হাসি।


আমি ওর কপালে চুমু খাই, বলি —

— “সব ঠিক হয়ে গেছে। তুমি ফিরে এসেছো।”


ডালি ধীরে ধীরে বলে,

— “আমি একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম।

আমি এক পুরনো প্রাসাদে দাঁড়িয়ে আছি।

এক মেয়ে আমার পেটের কাছে হাত রাখছে, আর বলছে,


> ‘এইটুকু রেখে গেলাম। ও জানবে আমি শুধু প্রতিশ্রুতি ভাঙতে শিখিনি… জন্ম দিতেও পারি।’”


আমি স্তব্ধ।


— “তোমার পেটের কাছে?”


ডালি বিস্মিত চোখে আমার দিকে তাকায়।

হঠাৎ ওর মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়।

আমরা দুজনে নিচে ছুটে যাই পিসিমার কাছে।


---

 চিকিৎসকের কাছে…


চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন:


— “অভিনন্দন! ডালি গর্ভবতী। মাত্র কয়েক সপ্তাহ হয়েছে।”

— “আপনারা জানতেন না?”


আমরা স্তব্ধ। একে অপরের দিকে তাকাই।


তবে প্রশ্ন জেগে থাকে...

**এই সন্তান কার? আমি আর ডালি যে…**


তখনো সেই স্বপ্নের কথা ঘুরছে মাথায়—


> ‘ও জানবে আমি জন্ম দিতেও পারি।’



বছরখানেক পর।


আমি, ডালি, আর আমাদের এক কন্যাসন্তান —

নাম রেখেছি **"মনজিলা"**, মঞ্জুরার নামে নয়, কিন্তু তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে।


মেয়ের চোখে এক অপার্থিব দীপ্তি।

সে মাঝে মাঝে আয়নার দিকে চুপ করে তাকিয়ে থাকে।

একদিন হঠাৎ সে বললো—


— “বাবা, জানো? এক খালা বলেন, তিনি আমায় দেখছেন।

আমি যেন তার ভুল শুধরাই…”


আমি বুকের ভেতর একটা কাঁপুনি অনুভব করি।


> মঞ্জুরা হয়তো পরিত্রাণ পেয়েছে,

> কিন্তু সে তার উত্তরাধিকার রেখে গেছে...



ভালোবাসা কেবলই মধুর না,

কখনো সে অভিশপ্ত হয়, অতৃপ্ত আত্মার রূপ নেয়।


তবে ভালোবাসা যদি সত্য হয়—

সে শেষ হয় না, সে বদলায়।

জন্ম নেয় নতুন রূপে, নতুন শরীরে…

আর রেখে যায় এক **অমোচনীয় ছায়া**।



পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটি কথা**


ভালোবাসা শুধু ফুল আর গান নয়।

কখনো তা হয় অপেক্ষা, অন্ধকার, অভিশাপ…

আবার কখনো তা হয় আত্মা হয়ে ফিরে আসা—প্রমাণ দিতে, দাবি জানাতে, অথবা ক্ষমা চাইতে।


**এই গল্পটা ছিল তেমনই এক ভালোবাসার গল্প।**

একটা ফুলসজ্জা, এক নববধূ, আর এক আত্মার মধ্যকার সংঘর্ষ।

কে কার? কে প্রেমিক, আর কে প্রতারক?

এই জিজ্ঞাসা নিয়েই শুরু হয়েছিল “তুমি আমার ছিলে”।


ধীরে ধীরে আবিষ্কার করলাম,

ভালোবাসা শুধু দেহে হয় না—**ভালোবাসা আত্মায় জন্ম নেয়**।

আর একবার সেখানে বাসা বাঁধলে, সে হয় অমর। হয়তো রক্তে, হয়তো সন্তানরূপে।


---


❤️ **এই গল্প পড়ে যদি একটুও কাঁটা দেয় শিরায়, বা চোখে জমে অদৃশ্য জল,**

তবে বুঝে নিও—ভালোবাসা এখনও বেঁচে আছে তোমার ভিতরেও।




🔔 **আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?**


কমেন্টে লিখে জানাবেন, কাহিনির কোন পর্ব বা দৃশ্য আপনাকে সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেছে?

আপনার প্রতিক্রিয়া আমাকে আরও লেখার অনুপ্রেরণা দেবে।


---


**আরও এমন গল্প পেতে পেজে লাইক দিন   / ব্লগে চোখ রাখুন।**

আগামী গল্পে দেখা হবে… হয়তো আবার কোনো অলৌকিক ভালোবাসায়।


----------------------------সমাপ্ত--------------------------------

পর্ব ৪ তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

পর্ব ৪

তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর 

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 


ডালিকে সেই অবস্থায় দেখে আমার ভিতরটা ছিঁড়ে যাচ্ছিল।

সে দাঁড়িয়ে আছে জানালার ধারে —

চুল এলোমেলো, ঠোঁটে রক্তের রেখা, আর চোখে সেই অচেনা শূন্যতা।

এটা আমার বউ না।

এটা... **মঞ্জুরা।**


— “তুই কী চাস?” আমি গর্জে উঠলাম।

— “ডালিকে ছেড়ে দে! আমি তোদের কিছু করিনি!”


সে ধীরে ধীরে ঘুরে তাকালো,

— “তুই কিছু করোনি…

কিন্তু তোর রক্ত করেছিল!

আমি তো ভালোবেসেছিলাম… আমি তো প্রতীক্ষা করেছিলাম...

কিন্তু সে গিয়েছিল অন্যের কাছে।

এবার আমার পালা, আমি সব নিয়ে নেবো!”


⚡ হঠাৎ ঘরের বাতাস দপদপিয়ে উঠলো।

জানালার পর্দা বাতাস ছাড়াই দুলছে।

আয়না থেকে মিহি কণ্ঠে একটা কর্কশ হাসি ভেসে আসে।


আমি ভয়ে কুঁকড়ে যাই —

তবু সাহস করে পিসিমার ঘরে ছুটে গিয়ে একটা পুরনো কাঠের বাক্স বের করলাম।

ওটা আমার ঠাকুরদার — একজন হোমিও ডাক্তার,

তাঁর কিছু পুরনো জিনিস ছিল।


বাক্স খুলতেই পেলাম


* একটা পুরনো **তামার মুদ্রা**,

* কিছু **পুঁতির মালা**,

* আর চামড়ায় মোড়া একটা পাতলা খাতা — তাতে লেখা:


> **"দেহ ছাড়া আত্মা তাড়ানোর বিধান (১৯৩২)"**


আমি আঁকড়ে ধরলাম সেটাই।

পিসিমা বললো,

— “তোর আত্মা তো দায়ী নয়,

তুই প্রেম করিস, তুই ভুল করোনি —

কিন্তু তোকে মঞ্জুরাকে বোঝাতে হবে,

ভালোবাসা অনুরাগ চায়, প্রতিশোধ না!”


---


দেহতাড়ানো শুরু হয়...


আমি ঘরে ফিরে আসতেই দেখি,

ডালি এখন ছটফট করছে বিছানার ওপর।

ওর মুখ থেকে ঝরছে দুটো কণ্ঠস্বর —

একটা ডালির কণ্ঠ, অন্যটা গভীর, বিষে ভরা।


আমি মন্ত্র পড়া শুরু করলাম, সেই খাতার পৃষ্ঠ থেকে:


> "যা তুই, যে ছিলি শূন্যের সন্তান,

> ফিরে যা, যেখান থেকে এসেছিলি—

> দেহ নয়, আত্মা চায় শান্তি…"


📿 হঠাৎ ডালির চোখ দিয়ে ঝরল রক্ত!

সে কাঁপতে কাঁপতে বললো,

— “আমায় কেন ফিরিয়ে দিলে না? আমি তো শুধু ভালোবেসেছিলাম!”


আমি চিৎকার করলাম —

— “তুই তো ভালোবাসিসনি, তুই দখল চাস!

ভালোবাসা মানুষকে মুক্ত করে, শেকলে বেঁধে না।

আমি ডালিকে ভালোবাসি, তুই নয়!”


তখনই ঘরের সব বাতি একসাথে ঝনঝন করে জ্বলে উঠলো।

ঘরের মাঝখানে ধোঁয়ার মতো গঠিত হতে লাগলো এক নারী-ছায়া।

মাঝরাতে, ফুলসজ্জার ঘরে —

এক দগদগে প্রেমিক আত্মার বিলাপ।


> “আমি শুধু একটু জায়গা চেয়েছিলাম... একটু মমতা।

> এখন চলে যাচ্ছি,

> কিন্তু মনে রাখিস... কেউ কথা ভাঙলে সে মাফ পায় না।”


💥 একটা বিকট শব্দে আয়নাটা চুরমার হয়ে গেল!

মেঝেতে আগুনের রেখা জ্বলে উঠে নিভে গেল…


আর আমি দেখি, ডালি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে — নিঃশ্বাস কিন্তু ধীর ও স্বাভাবিক।

আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম, ভয়ে নয় — ভালোবাসায়।

এই প্রথম ডালিকে আমি সত্যিকারের নিজের বলে অনুভব করলাম।




ঘরের জানালায় যেন এক মুহূর্তের জন্য

এক নারী ছায়া দাঁড়িয়ে রইলো।

চোখে শুধু অপূর্ণ ভালোবাসা আর না বলা প্রশ্ন...


---




ঘরটা নিঃশব্দ।

আয়না ভেঙে গেছে। বাতি নিভে গেছে।

মেঝেতে ছাইয়ের রেখা। আর আমার বুকের মাঝে ডালির নিস্তেজ শরীর।


আমি ধীরে ধীরে ওর কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললাম,

— “ডালি, ফিরে এসো। সব শেষ হয়ে গেছে।”


এক মুহূর্ত...

দুই...

হঠাৎ ডালির চোখ কাঁপল। তারপর সে ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকালো আমার দিকে।


চোখজোড়া ছিল ধকধকে ভেজা। কিন্তু এই প্রথমবার সেখানে ভয় নয় —

**ভালোবাসা**।


— “আমি... কোথায় ছিলাম?”

ডালির কণ্ঠে দুর্বলতা,

আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম,

— “তুমি আমার মধ্যে ছিলে... আর কেউ তোমাকে নিতে পারেনি।”


📿 আমরা দুজন বসে থাকলাম অনেকক্ষণ।

ঘরের বাতাস ভারী, কিন্তু শান্ত।


আমি ভাবলাম, সব শেষ।

কিন্তু শেষটা তখনও হয়নি।


---

পরদিন ভোর


পিসিমা ডাকলেন নিচে।

তার মুখ থমথমে। হাতে কিছু পুরনো নথি আর একটা **দীপ্তছবি**।


ছবিটায় এক তরুণী—মঞ্জুরা।

তার পাশেই একজন পুরুষ, হালকা দাঁড়ি, চোখে রোদচশমা।

নাম লেখা নেই।

তবে ছবির পেছনে ইংরেজিতে লেখা—


> **"To M — You are mine, no matter who I marry. —A"**


আমি অবাক হয়ে বললাম,

— “A মানে কি ‘নাসির’? আমার বাবা?”


পিসিমা মাথা নাড়লেন।

— “না। এই চিঠিগুলো তোকে দেখাইনি।”

— “তোর বাবা নয়, এই ‘A’ হচ্ছে **আজিজুল হক**।

তোর বাবার ছোটবেলার বন্ধু। এই বাড়িতেই থাকত একসময়।

আর মঞ্জুরার আসল প্রেমিক ছিল সে — আজিজ।”


আমি হতবাক।

— “তবে… বাবা কেন দায়ী হয়েছিল?”


— “কারণ আজিজ পালিয়ে যায় বিদেশে — আর তোর বাবা তখন বিষয়টা চাপা দিতে চায়।

চিঠিগুলো লুকায়, মেয়েটার গর্ভপাত ঘটায় জোর করে।

মঞ্জুরা ভেঙে পড়ে, ভাবে নাসিরই ওর প্রেমিক ছিল।

আর প্রতিশোধ নেয়... ভুল মানুষের ওপর।”


আমি চুপ।

এক ভয়ংকর বাস্তবতা ঘিরে ধরে।


> **মঞ্জুরার আত্মা ভুল মানুষের উপর প্রতিশোধ নিতে এসেছিল।

> কিন্তু সেও নিজের অতীতের অন্ধকার ভুলে গিয়েছিল।

> এক অভিশপ্ত প্রেম, যেটা কেবলই ভুলে আর রক্তে লেখা।**


---


সন্ধ্যার আগে...


আমি ডালিকে নিয়ে বসে থাকি জানালার পাশে।

ও বলে,

— “আমি যখন অজ্ঞান ছিলাম, একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম।

এক মেয়ে আমার শরীর চেয়ে বলেনি কিছু...

শুধু বলেছিল,


> ‘আমি চেয়েছিলাম শুধু একবার ভালোবাসার উত্তর… তা-ও পাইনি।’”


আমি ডালির হাত চেপে ধরি।

আমরা জানি, আমাদের জীবনে ছায়া ঘোরে —

কিন্তু এখন আমরা একসাথে।



পুরনো আলমারির পেছনে হঠাৎ একটি ছবি পড়ে যায় মেঝেতে।

ডালির চোখ পড়ে ছবির পেছনে লেখা লাইনে:


> **"আমি মরিনি।

> আমি আছি, যতদিন কারও চোখে প্রেম থাকবে—

> আর সেটা আমার নয়…"**

চলবে....

৫ম পর্ব লিংক 

https//www.sfgjkkbcshkkfashnnm

ডাইরি সাহিত্য ডাইরি দ্বিতীয়_পর্ব

ডাইরি

সাহিত্য ডাইরি 

দ্বিতীয়_পর্ব



আরিফের চোখে মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ভেসে উঠেছে। গত রাতে নিজের চোখে দেখা ঘটনা গুলো বার বার মনে পড়ছে। কিন্তু কী বলবে ? তার কাছে এই দেখার কোনো ভিত্তি নেই যে । মির্জা হারুন অর রশিদ আরিফের হাব ভাব দেখে তার দিকে ড্যাড ড্যাব করে তাকালো । "_আরিফ তোর কোনো আপত্তি নেই তো?

মির্জা হারুন এর কথা শেষ হতেই সালেহা বেগম বলে উঠেন। "_ আরিফের আপত্তির কী আছে? বাবা মায়ের কথা ও অবশ্যই রাখবে।


আরিফ এই পরিস্থিতিতে কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। বলতে যেয়েও বলতে পারছে না কিছু। কারন প্রমান তো নেই তার কাছে। হতে পারে সে মনের ভ্রমে এসব দেখেছে। আরিফের চুপ করে থাকা দেখে মির্জা সাহেব মৃদু হাসলেন । "_চুপ থাকা মানেই ও রাজি আছে   ! 

সালেহা বেগম মির্জা সাহেবের গায়ে ধাক্কা দিয়ে মুচকি হাসলেন । আরিফ চুপচাপ খাওয়া সেরে নিজের কক্ষ ঢুকে । মাথায় তার হাজারো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। আদৌও কি গত রাতে মা দেখেছে এটার কোনো সত্যতা আছে কী ?

দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে ঈশিতা। ভাবীকে দেখে আরিফ নড়েচড়ে বসে। "_ ভাবী কিছু বলবে?লাজুক হাসি দিয়ে ঈশিতা বিছানায় আরিফের পাশে লেপ্টে বসে পড়ে। "_ কী দেওরা! তুমিও তো দেখছি আমারে মনে মনে চাও । না হলে ওখানে আপত্তি না দেখিয়ে চুপ হয়ে গেলে যে।

আরিফ বিরক্তিকর চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ঈশিতা ভাবীর দিকে। "_ ভাবী দেখো আমি এখনো আমার মত জানায় নি। একটু সময় লাগবে আমার।


ঈশিতা ভ্রু কুঁচকে আরিফের দিকে হিংস্র চাহনি তে তাকায়। ঈশিতার চাহনিতে আরিফের হৃদস্পন্দন বাড়তে থাকে। এক অজানা ভয় তাকে গ্রাস করছে। ভয়ে ভীতু হয়ে যেনো বেলুনের মত চুপসে গেছে ‌। "_লক্ষি ছেলের মতো তোমার বাবা কে এখন গিয়ে বিয়ের জন্য হ্যা বলে দিবে। না হলে আমি তাদের বলবো কাল রাতে তুমি আমার সাথে জোর পূর্বক স*ঙ্গম করেছো। তখন কিন্তু বিয়ে করতে হবে সাথে সম্মান ও যাবে ‌।


নম্র ভদ্র ভেবে আসা ভাবীর মুখে এমন কথা শুনে আরিফ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঈশিতা আরিফের কপালের চুল সরিয়ে দিয়ে ঘাড়ে চুমু এঁকে দিয়ে কক্ষ থেকে বের হয়। আরিফ নির্বাক নয়নে এক স্থানে ঠাঁই বসে আছে। এ যেনো সব সপ্নের মতো দেখছে। এক রাশ নিরবতা সাথে নিয়ে ঘরে বসে পাহাড় সমান চিন্তা নিয়ে বসে আছে। হঠাৎ মনে পড়লো সেই ডাইরিটার কথা। নিরবতার অবশান ঘটিয়ে দ্রুত বিছানার নিচ হতে ডাইরিটা বের করে। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে দেখে ডাইরির প্রথম পৃষ্ঠা উল্টায় । বাহ্ অনেক সুন্দর হ্যান্ড রাইটিং।

সিয়াম মির্জা বরাবরই ক্লাস টপার ছিলো। সুন্দর হাতের লেখার জন্য কয়েকবার পুরষ্কারও পেয়েছিলো সে। ভাইয়ের কথা হঠাৎ মনে পড়ায় চোখের কোণে পানি জমে গেছে। অজান্তেই দুই ফোটা পানি ঝড়ে ডাইরিতে পড়ছে। যেহেতু পার্সোনাল ডাইরি, তাই প্রথম পৃষ্ঠায় সূচনায় নিজ পরিবার সম্পর্কে লিখেছে ।" _বাহ্ আমার কথাও দেখি লেখা আছে। 

বিড়বিড় করে বলে আরিফ মির্জা। উত্সাহ নিয়ে পড়ের পৃষ্ঠা উল্টায়। সেখানে একটা মেয়ের কথা বলেছে, কিন্তু নাম লেখা নেই।

*আজ একটা মেয়ের সাথে দেখা হয়েছে আমার। মায়ায় ভরা চাহনি তার। যদি আবার একদিন দেখা পেতাম তাহলে বিয়ের প্রস্তাব দিতাম।


ভাইয়ের এমন আবেগ ময় লিখনি দেখে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠে আরিফ মির্জার। পরের পৃষ্ঠা উল্টায়।

*আজও তার সাথে দেখা হয়েছিল। তার নামটা অনেক সুন্দর। ঈশিতা পারভিন। অনেক রোমান্টিক নামটা ‌।


আরিফ চমকে যায় । "_ তাহলে ঈশিতা ভাবীকেই দেখেছিলো সিয়াম ভাই ।

পরের পৃষ্ঠায় লেখা আছে * আজ আমি অনেক খুশি। তাকে প্রেম নিবেদন করেছি । সে রাজিও হয়েছে।


এভাবেই পর্যায়ক্রমে তাদের প্রতিদিনের প্রেম কাহিনী লেখা আছে ডাইরিটাতে । পরিবার কে না জানিয়ে বিয়ে করার কথাও লেখা আছে সেখানে। 

* আজ আমি জিবনের সব থেকে বেশি আনন্দ পেয়েছি। কারন আজ আমার পরিবার ঈশিতা এবং আমার বিয়ে মেনে নিয়েছে।


এতো টুকু বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়লো আরিফ মির্জা ‌। পরের পৃষ্ঠা উল্টাতেই আরিফের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল ‌। রক্তিম কালি  ( রক্ত মাখা হাতে কলম ধরে লিখেছে, রক্তের স্রোতে হয়তো কলম ভিজে ডাইরির খাতায় পড়েছে) রক্তের বিন্দু দিয়ে লেখা কিছু কথা। 


*আমি না বুঝে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। হয়তো এই ভুলের মাশুল আমার পরিবার কে পেতে হবে। আমার স্ত্রী ঈশিতা কোনো সাধারণ মানুষ নয়। আজ আমি  অফিস থেকে বাসায় ফিরে ঘরের সব এলোমেলো অবস্থায় দেখে ঘাবড়ে যায়।কিছুর আভাস পেয়ে নিঃশব্দে ঘরে ঢুকতে দেখি ঈশিতা একটা রক্ত মাখা লাশের পাশে বসে আছে। ঈশিতার মায়াবী মুখ খানা তখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। মুখে তার তাজা রক্ত। মৃত মানুষের ঘারে কামড়ানোর চিহ্ন ফুটে উঠেছে।আমাকে সেখানে দেখে ঈশিতা ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকায়। ভয়ে আমার শরীর অবশ হয়ে গেছে। ঈশিতা বিকট হাসি দিয়ে আমার পানে তাকিয়ে আছে। ধীর পায়ে আমার দিকে অগ্রসর হয়। আমি তার থেকে বাঁচতে এখন লুকিয়ে আছি । অনেক কষ্টে আমার ব্যাগে থাকা ডাইরিতে কথা গুলো লিখলাম। আমার হাত কাঁপছে, হয়তো এটাই আমার শেষ লেখা ডাইরি। এরপর হয়তো আমি আর বাঁচবো না। কিন্তু আমার পরিবারের লোকদের বড় বিপদ। কেউ এই ডাইরিটা হাতে পেলে তাদের রক্ষা করেন।

ইতি

মির্জা সিয়াম।

ভাইয়ের শেষ লেখাটা পড়ে আরিফের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে ‌। যাকে এতদিন সাধারণ মানুষ ভেবে এসেছে সে বাস্তবে কোনো পিচাশ!

বড় করে ঢেকুর তুলে বিছানায় থ মেরে বসে পড়ে আরিফ মির্জা। বাবা মা‌কে কিভাবে বিশ্বাস করাবে।

"_ তাদের কী এই ডাইরি টা দেখানো ঠিক হবে? যদি তারা ভয় পেয়ে যায়। কিংবা উত্তেজিত হয়ে কিছু করে দেয়। হেতে বিপরীত হতে পারে। ঈশিতা যেনো ভুলেও টের না পায় যে আমি তার আসল পরিচয় জানি।

আপন মনে বিড়বিড় করছে আরিফ মির্জা। 

সেদিন রাতে একজন কেয়ারটেকার নতুন এসেছে মির্জা বাড়িতে। রাতের আকাশে গেটের পাশে বসে সিগারেটে আগুন জ্বালিয়ে সুখ টান দিচ্ছে। হঠাৎ নুপুরের আওয়াজে চমকে যায়। এতো রাতে নুপুরের আওয়াজ বেশ অবাকের বিষয়। মির্জা বাড়ির পিছন থেকে আসছে শব্দটা । কেয়ারটেকার রহম আলী ধীর পায়ে সেদিক পানে এগোতে থাকে। বেশ সুন্দরী এক রমনী দাঁড়িয়ে আছে সেখানে।

রূপের জালে বন্দি হয়ে যায় রহম শেখ । মেয়ের নেশা বড়ই মারাত্মক। ঈশিতার পিছু পিছু ঘরে প্রবেশ করে। দরজা আটকে যায়।

সেদিন মাঝরাতে আবারো পানির শব্দ পায় আরিফ মির্জা। "_ আবারো কেউ শিকার হয়েছে ঈশিতার হাতে।


পরদিন সকালে মা সালেহা বেগম এসে আরিফের হাতে ২০ হাজার টাকা দেয় । "_ আরিফ দেখ বাবা, আমরা চাই তোর আর ঈশিতার বিয়ে আগামী দু একদিনের মধ্যেই হয়ে যাক। এখানে ২০ হাজার টাকা আছে, নিজের জন্য কিনা কাটা করে আয়।

মায়ের কথায় আরিফ মাথা নেড়ে হাতে টাকা গুলো নেয়। এখন তার মাথা গরম করলে চলবে না ‌। মাথা ঠান্ডা রেখে বের করতে হবে ঈশিতাকে ধংসের উপায়।

তার জন্য বিয়েটা করতে হলেও করবে সে।

আরিফ চুপচাপ হয়ে গেছে। আড়ালে ঈশিতা কে অনুসরণ করে কখন সে কী করে , কোথায় যায়। দুদিন এভাবেই কেটে যায়।

বাসর ঘরে বধু সেজে বসে আছে ঈশিতা। বিয়েটা শুধু পরিবারের কয়েকজন সদস্য কে নিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আরিফ দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করে। ঈশিতা জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে খাটের মাঝ বরাবর। কাঁচা ফুলের বাসরে আরিফ আকর্ষিত না ‌। তার একটাই উদ্দেশ্য এই মৃত্যুর খেলা তাকে বন্ধ করতেই হবে। 


ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি সারা রাত?


চলবে __


৩য় পর্ব লিংক 

htttp//afgcjjdvkhdxhkfdvbn.com

পর্ব ৩ তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

পর্ব: ৪

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 

ডালির ঠোঁট ফাঁক করে অচেনা কণ্ঠে উচ্চারণ হয়েছিল:


> “মঞ্জুরা পানি চায়...”


আমি তখনো স্তব্ধ। এ যে ডালি না —

ওর শরীর, ওর চোখ, ওর স্পর্শেও এখন আর সেই পরিচিত উষ্ণতা নেই।

কেমন যেন একটা **আলগা শীতলতা** ছুঁয়ে থাকছে ওর চারপাশ।


চিঠির বাক্সটা আবার খুললাম।

ভেতরে পাতার পর পাতা, ধুলোপড়া পুরনো খাম — সবগুলোতে একই হাতের লেখা,

একই স্বর — **প্রেম, অপেক্ষা… আর শেষে ঘৃণা।**


একটা চিঠির খাম খুলতেই ঘরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।

হলদে কাগজের পৃষ্ঠে লেখা ছিল—


> “তুমি বলেছিলে, বিয়ে করবে।

> আমি বিশ্বাস করেছিলাম।

> তুমি যখন আসোনি, আমি নিজেই এসেছিলাম…

> তোমার ঘরের পাশে, তোমার বিছানার নিচে আমার শেষ নিঃশ্বাস।

> এখন তুমি কারো হবেই না।”


আমি বুঝে গেলাম—

**মঞ্জুরা মরেনি দূরে কোথাও,

মরেছে এখানেই... এই ঘরেই।**


📿 আমি পিসিমাকে ডাকতে ছুটে যেতে চাই, দরজা খুলি—

দেখি বাইরে নেই কিছুই। ঘরের দরজার ঠিক বাইরে কালো কালি দিয়ে আঁকা অদ্ভুত চিহ্ন।

চিহ্নের নিচে লেখা —

**"ঘর ভাঙলে আত্মা ছিঁড়ে যাবে।"**


আমি ফিরে এসে দেখি ডালি বিছানার কোণে বসে আছে,

চোখ দুটো বন্ধ, ঠোঁট নড়ছে না — তবু **ঘর জুড়ে ওর গলা ভেসে আসছে**।


> “তুই মিথ্যা বলেছিলি।

> তোর কথা আমি বিশ্বাস করেছিলাম, ও আমার শরীর চেয়েছিল… প্রেম না।

> এখন আমি তোর প্রতিটি রাত নেব, প্রতিটি স্পর্শ।

> তুই যত ভালোবাসবি, আমি তত দহন করব!”


আমি এগিয়ে গিয়ে ওর গায়ে হাত রাখতেই…

🔥 হঠাৎ ওর শরীর জ্বলতে শুরু করল! না, আগুনের শিখা নয় —

একটা ধোঁয়া উঠছে, গরম পাথরের ওপর জল পড়লে যেমন শব্দ হয় তেমন শোঁ শোঁ শব্দ!


আমি ভয়ে পেছনে সরে আসি।

ডালির ঠোঁটে অশুভ হাসি— ঠোঁট বেয়ে রক্ত!

— “মনে পড়ে? তুমি প্রতিশ্রুতি ভেঙেছিলে। আমি এসেছি… কথা রাখতে।”


**আমি এবার নিশ্চিত — ওর মধ্যে আত্মা ভর করেছে, এবং এই আত্মা চায়… কিছু ফেরত। হয় প্রেম, না হয় প্রতিশোধ।**


ঘরের দেয়ালজুড়ে আগুনে দাগ ওঠে—

পুরো ঘরটা যেন মঞ্জুরার ডায়েরি হয়ে উঠেছে।

একেক দেয়ালে লেখা উঠে আসে নিজে নিজেই—


> “আমি জানালার ও পাশে অপেক্ষা করেছি।”

> “সে হাত ধরেছিল — কিন্তু ছিল অন্য নামের দুঃখ।”

> “ডালিকে ছাড়লে মাফ পাবি।”




আমি একটানা কাঁপছি। আর ডালির ঠোঁটে নিঃশ্বাসে ভেসে আসে…


> “তোমার যেটুকু ছিল, সেটাও আমি নিচ্ছি।”

> "আমি এসেছি পুরোটা নিতে… এই বউ নয়, এই ঘর নয়, **তুমি নিজে!"**



কোন প্রেমিক প্রতিশ্রুতি ভেঙেছিল?

কে ছিল মঞ্জুরার ভালোবাসা — আমি, না আমার রক্ত?

আর এই পৈতৃক বাড়ির দেয়ালগুলো এত বছর ধরে কী লুকিয়ে রেখেছিল?



"তোমার যেটুকু ছিল, সেটাও আমি নিচ্ছি..."

ডালির ঠোঁটে সেই অভিশপ্ত কণ্ঠস্বর রক্ত শীতল করে দেয় আমাকে।

ও কি আমার স্ত্রী? না কি এখন সে মঞ্জুরা?

আমি বুঝে উঠতে পারছি না।


আমি আর বসে থাকতে পারলাম না।


ঘর থেকে ছুটে বের হলাম। ছুটে গেলাম নিচে —

পিসিমার ঘরের দরজায় কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে কাঁপা কণ্ঠে ডাক এলো,

— "তুই শুনেছিস, না দেখেছিস?"


— "কে ছিল পিসিমা? কে এই মঞ্জুরা?"


পিসিমার চোখে পানি জমে উঠলো।

সে কাঁপা গলায় বলে উঠলো…


> “ও ছিল এই বাড়িরই মেয়ে।

> আমার ছোট ভাইয়ের ছাত্রী। নাম ছিল মঞ্জুরা।

> গরীব ঘরের মেয়ে হলেও ছিল মেধাবী আর অপূর্ব রূপবতী।

> ওর চোখে স্বপ্ন ছিল বিদেশ যাবার, প্রেমে পড়েছিল আমার ভাইয়ের...”


আমি স্তব্ধ।


— "মানে? আমার বাবার?"


পিসিমা চোখ নামিয়ে বললেন—


> “হ্যাঁ, তোর বাবা... নাসির।

> মঞ্জুরা তার প্রেমে পড়েছিল।

> ওরা দেখা করত এই ঘরেই। ফুলদানি, আয়না, সেই চিঠিগুলো— সব সেই সময়ের।

> কিন্তু নাসির শেষ পর্যন্ত বিয়ে করে অন্যকে… তোর মাকে।”


> “মঞ্জুরা তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিল।

> কিন্তু নাসির মানেনি।

> এক রাতে ঝড়ের সময়… সে ওই ঘরের জানালার পাশে দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়…”


আমার পায়ের নিচে থেকে যেন মাটি সরে যায়।


আমার বউ ডালি,

আমার ফুলসজ্জা,

আমার ভালোবাসা —

সবই কি সেই পুরোনো প্রতিশ্রুতি ভাঙার খেসারত?


পিসিমা চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন,

— “এই ঘর আমরা তালা দিয়ে রেখেছিলাম।

তুই আসার কথা শুনে খুলেছিলাম।

আমি ভাবিনি… মঞ্জুরা এখনো এখানে থাকবে।

তবু থেকে গেছে সে… প্রতীক্ষা করে।”


📿 আমি কাঁপতে কাঁপতে বলি,

— “তাহলে আমি কী করবো? ডালিকে কি হারাতে হবে?”


পিসিমা একটানা তাকিয়ে থাকেন আমার দিকে।

তার চোখে তখন শুধুই একটা কথা জ্বলজ্বল করে—


> **“তুই যদি নিজের রক্ত, নিজের বাবার অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত না করিস—

> তাহলে ডালিকে সে আর ফিরিয়ে দেবে না।”**



আমি ফিরে আসি ঘরে।

ঘর জুড়ে অন্ধকার, শুধু জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ডালি।


কিন্তু আমি জানি,

**এ ডালি না... এটা মঞ্জুরা।**


সে মুখ ঘুরিয়ে তাকায়, ঠোঁটে সেই বিদ্রুপের হাসি।

— “শেষবারের মতো বলছি... আমার জায়গা ছেড়ে দে। নয়তো তুই হারাবি সব... সবকিছু।”


চলবে.....



মঞ্জুরাকে তাড়াতে পারবে কি?

নাকি ভালোবাসার নামে আত্মা চাইছে নতুন শিকার?

শুরু হবে মৃত্যুর সঙ্গে এক অলৌকিক দ্বন্দ্ব।

৪থ পর্ব লিংক 

https.www.partfourrshdhfzhgshjv.com 


নরপিশাচ_ফুফি পর্ব২ সাহিত্য_ডাইরি

নরপিশাচ_ফুফি

পর্ব২

সাহিত্য_ডাইরি



রাত তখন সাড়ে দশটা। তনু ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু অন্তরার চোখে ঘুম নেই। বুকের ভেতর কাঁপছে এক আশঙ্কার পাহাড়। মেয়ে কি সত্যি বলেছিল? নাকি ভুল বুঝেছে কিছু?


না, তনুর মুখের কান্না ছিল না সাজানো। তার টলটলে চোখে ছিল আতঙ্ক, অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসা এক আর্তনাদ।

**"আমি আর ফুফির রুমে যাবো না, আম্মু! তুমি যদি মেরেও ফেলো, তবু না!"**

এই কথাগুলো যেন অন্তরার বুক চিরে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।


অন্তরা চোখের পানি মুছে তাকায় ঘুমন্ত মেয়ের দিকে। এতটুকু একটা মানুষ, তার মুখে এমন বড় কথা কেন?


সকালে আরিয়ান যখন অফিস যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, অন্তরা ধীরে ধীরে ঘটনাটা বলে।

প্রথমে আরিয়ান বিশ্বাস করতে চায়নি, বলেছিল:

**"তামান্না এমন না। আমার চোখের সামনে বড় হয়েছে। হিজাব পরে, নম্রভাবে চলে—তনু হয়তো ঘুমে কিছু দেখে ভয় পেয়েছে।"**


কিন্তু অন্তরা এবার চুপ থাকেনি।

**"তনু কোনোদিন এমন কথা বলেনি। আজ কেন বলবে? তুই যদি বিশ্বাস না করিস, তাহলে আমি নিজে গিয়ে প্রমাণ করব।"**


আরিয়ান চুপ করে থাকে।


দুপুরে অন্তরা শাশুড়ির কাছে গিয়ে বলে,

**"মা, তনু কয়েকদিন ফুফির রুমে না ঘুমিয়ে আমাদের রুমেই থাকুক।"**


শাশুড়ি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন,

**"হঠাৎ কেন রে? আবার কী হলো?"**


অন্তরা কিছু না বলে শুধু বলে,

**"ও ভয় পাচ্ছে... বারবার কেঁদে ওঠে।"**


শাশুড়ি বলে দেন,

**"ভয়ের কিছু নেই, তামান্না তো এখনো নিজের পড়াশোনার দুশ্চিন্তায় আছে। এত ভাবিস না।"**


অন্তরা বুঝে যায়—এই লড়াই তাকে একা লড়তে হবে।


রাতে অন্তরা একটা ছোট ক্যামেরা বের করে। ওটা তাদের বাসার পুরোনো ওয়েবক্যাম। সে ঠিক করে, আগামী রাতে **তনুর ঘরের জানালার কোনায় সেট করে দেবে**। কোনো প্রকার অভিযোগ করার আগে প্রমাণ দরকার।


তনুকে আদর করে কাছে নিয়ে সে জিজ্ঞাসা করে,

**"তুই কি আমাকে সব কথা বলেছিস, মা?"**

তনু মাথা নাড়ে। ফিসফিস করে বলে,

**"ফুফি বলে কাউকে বললে, আম্মুও আমাকে ছেড়ে দেবে..."**


অন্তরার বুকটা হাহাকার করে ওঠে। সে তনুকে জড়িয়ে ধরে বলে,

**"মা, আমি সব সময় তোর পাশে আছি। কেউ তোকে আর কষ্ট দিতে পারবে না। কথা দিচ্ছি।"**


তনু কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু অন্তরা জানে—ঘুম নয়, এটা এক বাচ্চা মেয়ে’র ক্লান্তি, আতঙ্ক, আর ভরসার এক নিঃশ্বাস।


পরদিন রাতে, ক্যামেরা সেট হয়। অন্তরা নিজে জেগে থাকে।

রাত ১টার দিকে, ক্যামেরায় এক নড়াচড়া ধরা পড়ে।

চোখ কুঁচকে সে দেখে, **তামান্না ধীরে ধীরে তনুর পাশে বসে—তার গায়ে হাত রাখে, কানে কানে কী যেন বলে...**


অন্তরার হাত কাঁপে। চোখ ভিজে ওঠে।

**আজ আর সন্দেহ নেই। আজ থেকে যুদ্ধ শুরু।**


*"একজন মা যখন বিশ্বাস করে, তখন সত্যের পায়ের নিচে মাটি জন্মায়।"*

*"এখন, তনুর জন্য একটা পৃথিবী বদলাতে হবে..."*


নিশ্চয়ই। নিচে “**নরপিশাচ ফুফি**” গল্পটির **পর্ব ৩: সত্য প্রকাশের প্রথম আলো** তুলে ধরা হলো।

এই পর্বে অন্তরা একজন মায়ের সাহস, স্বামীর দ্বন্দ্ব, এবং সমাজের চোখ রক্ষা করেই কিভাবে ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে এগোয়—তা দেখানো হয়েছে।


সকাল সাড়ে আটটা।


আরিয়ান অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল, এমন সময় অন্তরা পেছন থেকে এসে ধীরে গলা নামিয়ে বলে,

**"আজ অফিসে যেতে হবে না। তোমাকে কিছু দেখতে হবে..."**


আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায়।

**"আবার নতুন কী হলো?"**


অন্তরা তার ফোনটি বাড়িয়ে দেয়।

রাতের রেকর্ড করা ভিডিও।


📽️ ভিডিওতে দেখা যায়,

তামান্না ধীরে ধীরে ঘুমন্ত তনুর পাশ ঘেঁষে বসছে...

তার গায়ে হাত রাখছে...

তনু অস্বস্তিতে নড়ছে, চোখ খুলছে...

চোখে পানি... মুখে চাপা কান্না...

আর ভিডিওর শেষদিকে, তামান্না ফিসফিস করে বলছে:

**"চুপ চুপ... কারো কাছে বলবি না... চকলেট দেবো!"**


আরিয়ান হঠাৎ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়।

তার মুখ শুকিয়ে যায়। ঠোঁট কাঁপছে।


**"না... না... এটা তামান্না হতে পারে না... এটা কার কারসাজি..."**


অন্তরা এবার শান্ত গলায় বলে,

**"ভাইয়ের প্রতি বিশ্বাস এক জিনিস।

আর মেয়ের আতঙ্ক, তার কান্না... সত্যের আরেক নাম।

তুই এখন যা দেখলি, ওটাই বাস্তব।"**


--ভাঙনের শুরু


আরিয়ান ধীরে ধীরে মেঝেতে বসে পড়ে।

তার গলা দিয়ে বের হয়,

**"আমি বোনটাকে চোখে তুলে রাখতাম।

ও কি পারলো এমন কিছু করতে?"**


অন্তরা চুপ।

সে জানে, সমাজের গা ঢাকা দিয়ে লজ্জা চাপা দিয়ে দিলে ভবিষ্যতে আরও তনুদের মুখ বন্ধ হয়ে যাবে।


সে ধীরে বলে,

**"তুই এখন শুধু স্বামী নই, বাবা।

তনুর পাশে দাঁড়াতে হবে।"**


আরিয়ান তাকিয়ে থাকে স্ত্রীর চোখে।


--পরিবারে ধাক্কা


বিকেলে, অন্তরা শাশুড়ির কাছে যায়।

শাশুড়ি তখন রান্নাঘরে।


**"মা, কিছু বলব..."**

অন্তরা ভিডিওটা দেখায়।


শাশুড়ির হাত থেকে চামচ পড়ে যায়।

**"না না না! এ হতেই পারে না। তামান্না আমার মেয়ে!"**


**"আর তনু?"** অন্তরা জবাব দেয়।

**"সে কি আমাদের মেয়ে না?"**


শাশুড়ি কাঁদে। তারপর জোরে বলে ওঠে,

**"এই কথা ঘরের বাইরে গেলে... কী হবে বলো? পাড়া-প্রতিবেশী মুখ চাওয়ার মতো রাখবে না!"**


**"আর যদি চুপ থাকি, তাহলে একজন শিশু নিজের ক্ষত নিয়ে বাঁচতে শিখবে।

একজন অপরাধী আরও বেপরোয়া হবে।

আর একজন মা সারাজীবন নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না।"**


---আইন ও ন্যায়বিচারের পথ


আরিয়ান ও অন্তরা মিলে রাতে **লোকাল চাইল্ড প্রোটেকশন হেল্পলাইন**-এ ফোন করে।

পরদিন সকালে **মনোবিজ্ঞানী এবং নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্র** থেকে প্রতিনিধি আসে।


তনুকে আলাদাভাবে নিয়ে গিয়ে কথা বলে মনোচিকিৎসক।

সে স্বীকার করে—**ফুফি প্রতিদিন রাতে ওকে কষ্ট দিত। ভয় দেখাত। আদরের মোড়কে অন্যায় করত।**


ডাক্তার এসে অন্তরাকে বলে,

**"আপনার মেয়ে সাহসী। আর আপনি তার সবচেয়ে বড় ঢাল।

অনেকেই এসব চেপে যায়, আপনি তা করেননি। এই মেয়ের ভবিষ্যত রক্ষা পেল।"**


তামান্নাকে থানায় ডাকা হয়।

প্রথমে সে অস্বীকার করে।

কিন্তু ভিডিওর প্রমাণ, তনুর বয়ান, চিকিৎসকের রিপোর্ট—সবকিছু সামনে আসার পর সে আর কথা বলতে পারে না।


পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় তাকে।


আরিয়ান আদালতের পেছনে দাঁড়িয়ে শুধু বলে,

**"আমি একজন ভাইকে হারালাম... কিন্তু একজন বাবাকে খুঁজে পেলাম।"**


অন্তরা তনুকে বুকে জড়িয়ে ধরে,

**"মা, আজ থেকে কেউ আর তোকে আঘাত করতে পারবে না।"**


*"সত্য চাপা পড়লেও চিরকাল চাপা থাকে না।

একটি শিশুর কান্না, এক মায়ের সাহস—এই সমাজ বদলায় সেখান থেকেই।"*


চলবে...


⭕৩য় পর্ব লিংক 


পর্ব ৩ (শেষ) নরপিশাচ ফুফি

নরপিশাচ ফুফি

পর্ব ৩



তনুর প্রথম কাউন্সেলিং সেশন


চাইল্ড প্রোটেকশন সেন্টারের রঙিন ঘরটা শিশুবান্ধব।

কোণে খেলনা, দেয়ালে রঙিন ছবি।


ডা. নওরীন নামে এক চাইল্ড সাইকোলজিস্ট তনুর সামনে বসে।

স্নেহভরা চোখে বলে,

**“তনু, তুমি অনেক সাহসী। আজ আমরা খেলব, আর গল্প বলব।”**


তনু ধীরে ধীরে খুলে ফেলে নিজের ভয়।

বলে—

**“ফুপি বলত এসব সবাই করে। মা জানতে পারলে নাকি আমাকে মারে… কিন্তু মা তো আমায় বুকে নিয়েছে!”**


নওরীন হেসে বলেন,

**“তোমার মা একজন আসল নায়িকা। তুমি তার মেয়ে বলে গর্বিত হও।”**




আরিয়ান ও অন্তরা একসাথে থানায় গিয়ে মামলা করে।

**ধারা ৯ (১) শিশু নির্যাতন আইন**,

**ধারা ২২: শিশু যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ**

এই ধারা অনুযায়ী **তামান্নাকে আদালতে তোলা হয়**।


অভিযুক্তের আইনজীবী বলে,

**“তনু ছোট, তার বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য না। ভিডিও প্রাইভেসির লঙ্ঘন!”**


কিন্তু বিচারক রায় দেন—

**“শিশুর অধিকার রক্ষা সবচেয়ে বড় আইন।

ভিডিও, চিকিৎসকের মনোবিশ্লেষণ, এবং শিশুর বয়ান যথেষ্ট।”**


তামান্নার **প্রাথমিক জামিন বাতিল** হয়।

তাকে **জুভেনাইল কাস্টডি**তে পাঠানো হয়।


---সমাজের দ্বিমুখিতা


পাড়ার কিছু মানুষ ফিসফিস করে বলে,

**“আহারে, নিজের ননদের নামে মামলা! কতটা সাহস লাগে?”**


কেউ কেউ বলে,

**“এগুলো মিথ্যা কথা। এখনকার বাচ্চারা তো অতিরিক্ত নাটক শেখে।”**


অন্তরা কোনো উত্তর দেয় না।

শুধু মনে মনে ভাবে—

**"যারা অন্যায়ের পাশে থাকে, তারা চুপ থেকেও অপরাধী।"**


তবে একটা অদ্ভুত জিনিস ঘটে।

একজন মা এসে অন্তরার হাতে হাত রেখে ফিসফিস করে বলে,

**“আমার ছেলেও একইভাবে শিকার হয়েছিল...

কিন্তু আমি চুপ করে গিয়েছিলাম।

আপনি যা করেছেন, তা সাহসের কাজ। স্যালুট আপনাকে।”**


---

তনুর আশ্বাস


এক সন্ধ্যায় তনু খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলে,

**“আম্মু, আমি আর ভয় পাই না। আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম তুমি আমাকে রক্ষা করছো।”**


অন্তরা জবাবে বলে,

**“তুই শুধু আমার না, তুই সত্যের প্রতিনিধি।

তোর চোখের জল আজ অনেক মেয়েকে কথা বলার সাহস দেবে।”**


শাশুড়ি ধীরে ধীরে মেনে নেয়।

তামান্নার জন্য তার কষ্ট হয়, কিন্তু তনুর পাশে দাঁড়ায়।


বলে—

**“আমার ভুল ছিল ওকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা।

তনু, তুই আমার নাতনি না, আমার সাহস।”**



আদালতের পেছনের করিডোরে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করে,

**“আপনি সামাজিক মান-সম্মানের কথা ভাবলেন না?”**


অন্তরা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন:

**“শিশুর শরীর নয়, সমাজের মানসিকতা নগ্ন।

আমি আমার মেয়েকে ভালোবাসি—এটাই যথেষ্ট সম্মান।”**


*"সত্যের বিরুদ্ধে যত বড়ই দেয়াল গড়া হোক, এক শিশুর কান্না আর এক মায়ের সাহস সেটা ভেঙে দিতে পারে।"*




আদালতের রায়: ন্যায়বিচারের সূর্যোদয়


বিচারক কক্ষে চুপচাপ বসে আছে সবাই।

আরিয়ান হাত ধরে আছে অন্তরার।

তনু মায়ের কোলে বসে। চোখে ভয় নেই, সাহস আছে।


বিচারক বলেন—


> **“অভিযুক্ত তামান্না, আপনি একজন ৬ বছর বয়সী শিশুর ওপর ধারাবাহিক যৌন সহিংসতা করেছেন।

> আদালতের কাছে আপনার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।”**

রায় ঘোষণা


* তামান্না (১৮) কে **৭ বছর কারাদণ্ড**,

* **৩ লক্ষ টাকা জরিমানা** (শিশুর পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং ফান্ডে যাবে)।

* **আজীবন শিশুদের কাছ থেকে আইনি দূরত্বের নির্দেশ।**


তামান্না চিৎকার করে কাঁদে।

তার মা-বাবা অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

কিন্তু বিচারক শেষে বলেন—


> **“এই রায় কেবল এক শিশুর জন্য নয়—এই সমাজে থাকা আরও শত শিশুর মুখের ভাষা,

> যাদের কণ্ঠ কেউ শোনে না।”**



তনু আবার স্কুলে যাচ্ছে।

তবে এবার সবার চোখে ভিন্ন কিছু।


প্রথমদিকে কিছু শিশুর মা বলেছিল—

**“তনুর সঙ্গে খেলার দরকার নেই।”**


কিন্তু দিন দিন, সবাই তনুকে ভালোবাসতে শুরু করে।

কারণ তনুর মধ্যেই সাহস, সরলতা, আর একটা নতুন গল্প লুকিয়ে থাকে।

 স্কুলে আয়োজিত হয় ‘**সাহসী শিশু দিবস

তনুকে মঞ্চে ডাকা হয়।

শিক্ষক বলেন,

**“এই শিশুটি আমাদের শিখিয়েছে—ভয় পেলে থেমে যেও না,

কারণ সত্য সবসময় পাশে থাকে।”**


---


অন্তরার মঞ্চে বক্তৃতা: "এক মায়ের স্বীকারোক্তি"**


নারী অধিকার সংগঠন অন্তরাকে আমন্ত্রণ জানায়।


স্টেজে উঠে অন্তরা বলে—


> **“আমার মেয়ের শরীর না, তার সাহস আক্রান্ত হয়েছিল।

> কিন্তু আমরা যদি মুখ বন্ধ রাখি,

> তাহলে অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াই।”**


তার কথা শুনে মঞ্চের সামনে বসা অনেক মা কাঁদে।


একজন মা উঠে দাঁড়িয়ে বলে—


> **“আপনার কণ্ঠ আমাদের মেয়েদের রক্ষা করেছে।

> আপনি শুধু মা না—আপনি একটি বিপ্লব।”**


---


মানসিক চিকিৎসা এবং সমাজের প্রতিচ্ছবি**


তামান্নার জন্য আদালত নির্দেশ দেয়—

**মানসিক পুনর্বাসন চিকিৎসা, মনোবিশ্লেষণ ও কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক।**


ডা. নওরীন বলেন—

**“এমন অপরাধীরা জন্মায় না, তৈরি হয়—

তাদের পরিবারে, সমাজে, চুপ করে থাকা মানুষের মাঝে।”**



ঘরের দেয়ালে তনুর আঁকা একটা ছবি।

একটা মেয়ে, তার পাশে মা, একসাথে দাঁড়িয়ে।


ছবির নিচে লেখা—

**“ভয় পেলে বলো। চুপ থেকো না।”**




*"শিশুরা পৃথিবীর বিশ্বাস—আর এক মা যদি ভেঙে পড়ে,

তাহলে এই পৃথিবীর সত্য গুলো অন্ধকারেই থেকে যাবে।

অন্তরা তা হতে দেয়নি। তাই সে শুধু এক মা নয়,

একটি বিপ্লবের নাম।"*


সমাপ্ত 

📌"এই গল্পটি কোনো কল্পনা নয়। এমন হাজারো তনু প্রতিদিন সমাজের নীরব কোণে হারিয়ে যায়।

অন্তরা যেন প্রতিটি মায়ের ভেতরে জেগে ওঠে — এটাই গল্পের উদ্দেশ্য।"

📢 পাঠকদের জন্য বার্তা:

> এই গল্পটি এখানেই শেষ, কিন্তু বাস্তব জীবনের এই ধরণের **ভয়ানক অভিজ্ঞতা** অনেক শিশুর জন্য প্রতিদিনের নীরব যুদ্ধ।
>
> আমরা বিশ্বাস করি— **একটি শিশুর কান্না, তার শরীরের ভাষা, তার ভয় – সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।**
>
> আমাদের দায়িত্ব, **নিজের সন্তানকে বিশ্বাস করা**, তার পাশে দাঁড়ানো, এবং সমাজের ভয় বা লোকলজ্জার ঊর্ধ্বে উঠে **সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো।**
>
> একটি তনুর সাহস, একটি অন্তরার জেদ, একটি আরিয়ানের উপলব্ধিই পারে সমাজের অন্ধকারে আলো জ্বালাতে।
>
> ✋ **শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একসাথে বলুন – "না!"**
> 💪 **ভিক্টিম নয়, তনুরা হবে সাহসের প্রতীক।**
> ❤️ **আপনি যদি এমন কিছু লক্ষ্য করেন – চুপ না থেকে প্রতিবাদ করুন।**

---

🔔 **অনুরোধ:**

এই গল্পটি যদি আপনার মনে কোনো আলো জ্বালায়, তবে **শেয়ার করুন, জানিয়ে দিন, সচেতনতা ছড়ান।**
কারণ— **একটি শেয়ার হয়তো আরেকটি তনুকে রক্ষা করতে পারে!**




আপু থেকে বউ পর্ব ১১ ✍️ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব 

✍️ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ



**পাঁচ বছর পর**

শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটা পাহাড়ি এলাকায় ছোট্ট একটা স্কুল। ছোট রিজভী রোদে দাঁড়িয়ে একটা চার্ট বানাচ্ছে — “আমার হিরো আমার বাবা”। তার পেছনে, ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে এক নারী — **জারা**, এখন পুলিশ কমিশনার।


হঠাৎ... তার ফোনে নোটিফিকেশন:


> “**স্কর্পিয়ন কোড** এক্টিভ হয়েছে।”


জারার মুখ থমকে যায়।




**ঢাকার কেন্দ্রীয় জেল**

সুমিতকে ট্রান্সফার করা হচ্ছে হাই সিকিউরিটি ব্লকে। সে মাথা নিচু করে হাঁটছে। হঠাৎ এক গার্ড ফিসফিস করে বলে,


> “তোর ছেলে... আবার কোড চালু করছে!”

> সুমিত থমকে যায়, চোখে একরাশ অদ্ভুত স্নেহ আর ভয়।



**ফ্ল্যাশব্যাক – ৫ বছর আগে, গিয়াসের শেষ মিশন**

গিয়াস অ্যান্টিডোটের খোঁজে ঢুকে পড়ে সোহেলের ল্যাবরেটরিতে। সময় বেঁধে রেখেছে ৭ মিনিট।

একটা হিমঘরে রক্তাক্ত অবস্থা... গিয়াসের মায়ের মৃতদেহের পাশে একটা চিপ পড়ে আছে। তাতে লেখা –


> “**Azizul’s Son = Giyas**”


সে বোঝে—পুরো জীবন সে যাকে বাবা ভাবেছে, সে তার শত্রু সোহেল। আসল বাবা আজিজুল হক – যে মরে গিয়েছিল সত্যের পথে।


গিয়াস কাঁপা হাতে চিপ তুলে নেয়।



**বর্তমান – গিয়াস কোথায়?**

সবাই ভাবে সে মারা গেছে... কিন্তু রিজভীর ল্যাপটপে একটা ভিডিয়ো ফাইল অটো-অন হয়:


> “আমার রক্ত শেষ হয়ে যাচ্ছে... কিন্তু রিজভী, তুই যদি কোড চালাস, আমি জানব — সত্য এখনো বেঁচে আছে।”

> “...আর যদি আমার সন্তান একদিন জেনে যায়, সে শুধু রক্ত নয়... সে মুক্তির প্রতীক।”




**রিজভীর চিহ্ন**

ছোট রিজভীর হাতে আবার দেখা যায় সেই **স্কর্পিয়ন চিহ্ন**। এবার সেটা বদলে গেছে — বিষধর বিচ্ছুর বদলে দেখা যাচ্ছে **একটি চাবি**র মতো নকশা।


জারা কেঁপে ওঠে — গিয়াসের শেষ শব্দ মনে পড়ে:


> “সে আসবে... সে নতুন গিয়াস!”




**একটি রহস্যময় পেনড্রাইভ**

ছোট রিজভী জারার অফিসে ঢুকে বলে,

“মা, এটা স্কুল প্রজেক্টের জন্য পাইছি…”

জারা পেনড্রাইভ চালু করে দেখে —


> “Project: **Phoenix Rising**”


রিজভীর চোখ চকচক করে উঠে, আর মুখে এক রহস্যময় হাসি।



একটি গোপন সেলে... একটি সিলুয়েট মাথা নিচু করে বসে আছে। হঠাৎ সে উঠে দাঁড়ায় —


> “পাঁচ বছর যথেষ্ট... এবার ফিরি।”


ক্যামেরা ঘোরে, দেখা যায় — **গিয়াস বেঁচে আছে**।


> *"মৃত্যু শেষ নয়… যদি উত্তরাধিকার এখনো হৃদয়ে বাঁধন হয়ে থাকে।"


পাঁচ বছর পর।

ঢাকার এক অভিজাত এলাকায়, ঝাঁ চকচকে করপোরেট অফিসের ছাদে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক তরুণ। মুখে স্মার্টনেস, চোখে বিদ্রোহের আগুন। তার নাম — রিজভী জুনিয়র

তার সামনে ঝুলছে একটি প্রোজেকশন স্ক্রিন। সেখানে ঘুরছে সাদা-কালো সিসিটিভি ফুটেজ — যেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন অচেনা মুখোশধারী ব্যক্তি একটি সরকারী সার্ভারে প্রবেশ করছে।

রিজভী চাপা গলায় বলে,
— "এরা ভাবে সব মুছে ফেলেছে… অথচ কিছুই ফুরায়নি।"

তার পেছনে এসে দাঁড়ায় জারা — এখন একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কমিশনার। গলায় দৃঢ়তা, চোখে অতীতের ঝলক।
— "এই খেলাটা শেষ করতে হবে, রিজভী। এবার সত্যিটা সামনে আনতে হবে।"

রিজভী হালকা হাসে।
— "আমি জানি কে ফিরেছে… এবং কেন।

"গিয়াসের পাঁচ বছরের নিখোঁজ থাকার রহস্য

একটি পাহাড়ি অঞ্চলে, গুহার ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় গিয়াসকে। তার শরীরে বিষক্রিয়ার চিহ্ন, কিন্তু বেঁচে আছে—বেঁচে ছিল কারণ রিজভী (বোন) তার জন্য রেখে গিয়েছিল 'অ্যান্টিডোট প্রোটোকল'

সেই অ্যান্টিডোট এখন আরেকজনের হাতে — সুমিত



সুমিত এখন নতুন পরিচয়ে – "মাওলা শাহ" নামে এক রহস্যময় দাতা। একদা শত্রু, এখন সহানুভূতিশীল। কিন্তু সে আসলে কি সত্যি বদলে গেছে? নাকি পুরোনো খেলায় নতুন মোড়?

জারা তাকে দেখে থেমে যায়।
— "তুমি এখনো বাঁচতে পারো, সুমিত। কিন্তু গিয়াসের জীবন এখনও তোমার হাতে কেন?"

সুমিত নরম গলায় বলে,
— "কারণ আমি জানি—গিয়াস মরলে তুমিও শেষ হয়ে যাবে।"

রিজভী হ্যাকার ডেটাবেইস থেকে একটি জেনেটিক প্যাটার্ন রিভিল করে।
— "গিয়াসের জন্ম হয়েছিল আজিজুল হক ও সোহেলের প্রেমিকা নাসরিনের মাধ্যমে। সে দুই শত্রুর উত্তরসূরি!"

জারা স্তব্ধ।
— "তাহলে গিয়াস... সে নিজেই দ্বন্দ্ব?"

রিজভী মাথা নাড়ে।
— "তাই তাকে শেষ করতে চাইছে ওরা। কারণ সে যদি বেঁচে থাকে, সিস্টেম বদলাবে।"

একটি সরকারি বৈঠকে জানা যায় — ‘স্কর্পিয়ন লেগাসি’ নামে এক হ্যাকার গ্রুপ জাতীয় নিরাপত্তা সার্ভারে ঢুকেছে।

কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে না—কারণ…
তারা একজনকেই খুঁজছে — গিয়াস।


জারা অফিসে বসে, হঠাৎ একটি অচেনা ফ্ল্যাশড্রাইভ পায়। চালু করতেই স্ক্রিনে একটি ভিডিও:

গিয়াস ধীরে ধীরে বলে,
— "আমি ফিরছি, জারা। এবার প্রতিশোধের জন্য না… উত্তরাধিকার রক্ষার জন্য।"

ভিডিও শেষে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে —
“পরবর্তী লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী।”


"রিজভী জুনিয়র কাঁপা কাঁপা গলায় বলে— ‘জারা ম্যাডাম, গিয়াস ভাই… হয়তো আমাদের রক্ষা করতে নয়… ঝড় তুলতে এসেছে!’”

অবশেষে পৌঁছেছি “বাঁধন”–এর চূড়ান্ত পর্বে
এই পর্বে থাকবে সব প্রশ্নের উত্তর, প্রতিশোধের পরিণতি, সম্পর্কের সেলাই, এবং একটি নতুন প্রজন্মের সূচনা।

হলরুমে অন্ধকার। বিশাল পর্দায় ভেসে উঠছে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সিম্বল। একে একে আলো জ্বলে ওঠে।
গিয়াস মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে। পাশে Zara, এখন পুলিশের কমিশনার।

“পাঁচ বছর আগে আমি সোহেলের রক্তে হাত ভিজিয়েছিলাম... কিন্তু আমার সত্যিকারের যুদ্ধ আজও শেষ হয়নি। আজ আমি সেই যুদ্ধের সমস্ত প্রমাণ আপনাদের সামনে তুলে ধরব।”

সবার নিঃশব্দ অপেক্ষা। একে একে স্ক্রিনে ভেসে ওঠে:

  • সোহেলের ড্রাগ চেইনের নেটওয়ার্ক

  • হাসানের মৃত্যু-ভিডিও (প্রমাণ করে আত্মহত্যা নয়, গুলি)

  • সুমিতের জবানবন্দি: “সোহেল আমাকে বলেছিল, গিয়াস আমার ভাই... ও-ই মাকে মেরেছে। ভুল বুঝে ভুল করেছি।”

  • জারা ও গিয়াসের সন্তানের অশান্তি

ছোট রিজভী, এখন ৫ বছরের, টেবিলের নিচে বসে হ্যাকিং প্র্যাকটিস করছে। চোখে Zara-র স্পষ্ট ভয়।
সে গিয়াসকে বলে—

Zara:
“আমরা কি আবার তাকে সোহেলের মতো বানাচ্ছি?”
Giyas:
“না। ও সিস্টেম ভাঙবে না... ঠিক করবে।”

রিজভীর হাতে একটি ছোট ডিভাইস। ও বলছে:

"বাবা, আমি পুলিশের ডাটাবেসে ঢুকে গেছি... কিন্তু এখানে তো দুর্নীতির নামও আছে!"

Zara চমকে ওঠে।

রিজভীর কোডে একটি লুকানো ভল্ডার — নাম “Skorpion Legacy”

তাতে আছে:

  • সোহেলের অটো-মেইল:
    “যদি গিয়াস আমার মৃত্যু ঘটায়... তবেই তাকে সত্য জানতে হবে—ওর মা এখনো বেঁচে আছে। কোড: AZIZ2025”

  • গিয়াস স্তব্ধ। Zara চোখে জল।
    গিয়াস বলে—
    "আমার মা বেঁচে আছে... আর আমি জানতাম না?"



রিজভীর কোড ব্যবহার করে তারা পৌঁছে যায় এক মরুভূমি ক্যাম্পে—সেখানে বন্দি একজন বৃদ্ধা, চুল সাদা, চোখে এখনও আগুন।

তিনি চুপ করে Zara-র মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন—
“তুমি কি গিয়াসের বউ?”
Zara হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।

"তবে বলো, আমার ছেলেকে আমি শেষবার কবে ছুঁয়েছিলাম?"



সোর্স কোডের মধ্যে ট্র্যাকিং ডিভাইস ছিল।
একদল দুর্নীতিগ্রস্ত গোয়েন্দা হানা দেয় ক্যাম্পে।

তখন রিজভী ছোট্ট রিমোট টিপে সব সার্ভার উড়িয়ে দেয়।
প্লাস্টিক বোমায় ঝলসে যায় পুরো ক্যাম্প, কিন্তু গিয়াস-জারা-মা পালাতে পারে।

শেষবার রিজভীর গলা শোনা যায়:

"ভাই... বাঁচলে আমার নামে একটা প্রতিষ্ঠান খুলিও—Skorpion Killer Institute..."



ঢাকায় নতুন করে গড়ে ওঠে “Skorpion Institute for Ethical Hackers

Zara—আইজিপি
Giyas—ডিরেক্টর অফ ইথিক্যাল সিকিউরিটি
রিজভী (ছেলে)—৭ বছর বয়সেই প্রথম সরকারি হ্যাক প্রতিরোধ করে

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে—
“গিয়াস, আপনি কি এখনও প্রতিশোধে বিশ্বাস করেন?”

গিয়াস:
“না। আমি এখন বিশ্বাস করি শুধু একটা জিনিসে—
বাঁধন দিয়ে মানুষকে বেঁধে রাখা যায় না...
কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে মুক্ত করা যায়।”


🔚 শেষ দৃশ্য:

ছেলে রিজভী স্কুল প্রজেক্টে লিখছে:

“আমার বাবা একজন হিরো ছিল।
আমার মা ছিলেন মশাল।
আর আমি?
আমি সেই আগুন যা শত্রুর বাঁধন পোড়াবে...”



“বাঁধন ছিন্ন হল…
কিন্তু রক্ত, প্রেম আর ন্যায়বিচারের বাঁধন, এখন এক নতুন প্রজন্মের হাতে।”

💌সমাপ্তি



📣 পাঠকের জন্য প্রশ্ন:

  • রিজভী কি ভবিষ্যতের নায়ক হবে, নাকি আবার বাঁধনে জড়াবে?

  • Skorpion Legacy কি সত্যিই শেষ?

  • Zara আর Giyas কি একদিন শান্তির জীবন পাবে?

এই ছিল “বাঁধন”–এর শেষ,
তবুও… শেষ মানে কি সত্যিই শেষ?
🎭

আপনাদের এই গল্পের গ্রহ থাকলে “Season 2: Skorpion Legacy” শুরু করা যেতে পারে!


তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর পর্ব ২ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

তন্ত্র যুদ্ধে রক্ত বাসর

পর্ব ২

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 


ডালির কথা শুনে আমি প্রথমে থতমত খেয়ে গেলাম।


— “কি বললে? কেউ বলেছে? কে?”

আমি ঘাড় ঘুরিয়ে ঘরের চারপাশে তাকালাম।

গা ঘিনঘিনে অন্ধকারে কিছুই স্পষ্ট বোঝা যায় না।

একটা দেওয়ালঘড়ির কাঁটা কাঁট কাঁট করে সময় গুনছে—

তবুও যেন এই ঘরের বুকে সময় থেমে গেছে।


ডালি শক্ত করে আমার বাহু চেপে ধরলো।

ওর চোখ দুটো ততক্ষণে পানি আর ভয়ে ভারী হয়ে উঠেছে।

"আমি শুনেছি... আমি কানের কাছে একটা মেয়েলি গলা শুনেছি,"

— ওর কণ্ঠে কাঁপন, গলায় নিঃশ্বাস আটকে আসছে,

"সে বললো, 'তুমি আমার ছিলে, এখন কেন অন্য কাউকে ভালোবাসো?'"


আমার হৃদপিণ্ড যেন হঠাৎ এক ছন্দ ফেলে দুলে উঠলো।


— “ডালি, এটা তোমার কল্পনা। ভয় পেয়েছো তাই এমন শুনছো। হয়তো টিকটিকি কিংবা বাইরের গলায় প্রতিধ্বনি।”

আমি জোর করে হাসলাম, ওকে আশ্বস্ত করার ভান করলাম।

তবু সত্যি কথা, আমার নিজের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে।


ঘরের এক কোনায় রাখা আয়নাটা যেন অন্ধকারের মধ্যেও কিছু বলছে।

আমি ওদিকে তাকাতেই কেমন যেন ঝাপসা… যেন আয়নার ভেতর কেউ এক ঝলক তাকিয়ে হাসলো—তীক্ষ্ণ নারকীয় হাসি।


আমি আর থাকতে পারলাম না।


📿 **“বাবা মা’র নাম মুখে আনলাম। কাঁধ থেকে সাদা তোয়ালে টেনে নিয়ে দ্রুত বাতি খুঁজতে লাগলাম। ব্যাটারি লাইটটা ঠিকই ছিল, কিন্তু তা জ্বালাতেই লাইট দু’বার ফ্ল্যাশ করে নিভে গেল!”**


ডালির কাঁধে মাথা রেখে আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম।


— “শোনো, আমরা কিছুক্ষণ নিচে যাই, পিসিমার ঘরে আলো জ্বলছে কি না দেখি।”

— “না না! আমি একা চলতে পারবো না!”

ডালি কেঁপে উঠলো।


আমি ওর হাত ধরলাম, ধীরে ধীরে দরজা খুললাম।


**ঘরের বাইরে বের হতেই শিউরে উঠলাম — আমাদের ঘরের সামনে মেঝেতে গাঢ় লাল কিছু ছড়িয়ে আছে!**


সন্ধ্যার ফুল? না…

আমার কণ্ঠ শুকিয়ে এল…


**সেইটা রক্ত! স্পষ্টভাবে কেউ আঙুল দিয়ে মেঝেতে লিখে রেখে গেছে –

“তুমি আমার ছিলে... ভুলে গেলে?”**


ডালি চিৎকার করে কেঁদে উঠলো।

আমি স্তব্ধ! হঠাৎ সেই মুহূর্তে পিছন থেকে দরজা ‘ঠাস!’ করে বন্ধ হয়ে গেল।


🔒 আমরা আবার সেই ঘরে,

তবে এবার শুধু আমরা দু’জন না —

**ঘরে আছে আরও কেউ…**


ঘরের দরজাটা এমনভাবে বন্ধ হলো, যেন কেউ ঠেলে দিল ভিতর থেকে।

আমার মেরুদণ্ডে ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে গেল।

ডালি কেঁপে উঠলো। হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলো আমার।

ঘরে তখনো আঁধার, শুধু বাইরের ম্লান আলো জানালার কাঁচ ছুঁয়ে আসছে।


আমার চোখ চলে গেল বিছানার পাশের আয়নাটার দিকে।


সেই আয়নাটা...


আগেও দেখেছিলাম, কিন্তু তখন মনে হয়নি এতটা অদ্ভুত।

এবার যেন সেটার ভিতর অস্বাভাবিক কিছু দেখা যাচ্ছে।


আমি ধীরে ধীরে কাছে গিয়ে তাকালাম।


আমার প্রতিবিম্বটা স্পষ্টই আছে।

তবে… **পাশে আরেকটা ছায়া!**

যেটা বাস্তবে নেই।

কেউ যেন আমার কাঁধের উপর দিয়ে আয়নার ভেতর থেকে তাকিয়ে হাসছে—

ঠোঁটে রক্তচাপা হাসি, চোখে নিঃশব্দ বিদ্বেষ।


"ডালি... তুমি আয়নার কাছে এসো না।"

আমার গলা কাঁপে।

ডালিকে পিছনে সরিয়ে আমি নিজে সামনে এগিয়ে গেলাম।


আমি যখন হাতে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে আয়নার পেছনে তাকাতে গেলাম—

কিছুই নেই।

সাধারণ কাঠের দেয়াল, ধুলো জমা পর্দা।

কিন্তু আয়নায় আবার তাকাতেই... সেই ছায়াটা উধাও হয়ে গেছে!


আমি বিভ্রান্ত। মাথা ঘুরে উঠলো।


— "তুমি... তুমি বুঝতে পারছো না, কেউ আসলেই আমাদের দেখে।"

ডালি কাঁদছে। ওর মুখটা শিউরে উঠছে আতঙ্কে।


হঠাৎ করেই ডালির আচরণ বদলে যেতে লাগলো।


**ওর গলা বদলে গেল— গভীর, অচেনা এক কণ্ঠ।**

— “তুমি কথা দিয়েছিলে। আমাকে নিয়ে যাবে। ভুলে গেলে?”


আমি হতবাক!

— “ডালি? তুমি এটা কী বলছো?”

ওর চোখ দুটো এতক্ষণে লালচে। শ্বাস নিচ্ছে অস্বাভাবিক ঘন ঘনভাবে।

আমি ওর কাঁধে হাত রাখতেই ও আঁতকে উঠলো, ঠেলে দিল আমাকে।


— “ও আমার ছিল। ওর শরীর আমার ছিল!”

ওর ঠোঁট ফাঁক হয়ে উচ্চারণ করলো সেই নারীকণ্ঠ—

একটা গভীর আত্মার রাগ যেন উঠে আসছে।


**আমি পিছিয়ে গেলাম। এবার নিশ্চিত—ডালির মধ্যে কেউ ঢুকেছে।**


ঘরের বাতাস আরও ভারী, ঠান্ডা।


আমি বিছানার পাশ থেকে পুরোনো একটা কাঠের বাক্স বের করলাম।

এটা পিসিমার পুরোনো আলমারিতে ছিল।

পিছনে সাঁটানো কিছু কাগজপত্র, একটা পচা গোলাপ, আর কিছু ধুলোমাখা চিঠি।


চিঠিগুলো খুলতেই চোখ কপালে ওঠে।

**সবগুলো লেখা এক নারীর হাতে — যার নাম ‘মঞ্জুরা’।**


একেকটা চিঠিতে লেখা:


> “তুমি বলেছিলে, আমায় বিয়ে করবে।”

> “তোমার মায়ের ভয়েই তুমি পেছিয়ে গেলে?”

> “তোমার ঘরেই আমি নিজেকে শেষ করেছি।”

> “তোমার বিছানা, তোমার বউ— এখন আমার!”


আমার বুক ধক করে উঠলো।

এই ঘরে কেউ আত্মহত্যা করেছিল? আর সেই প্রেতাত্মা এখন ফিরে এসেছে?


ঠিক তখনই ডালি মাথা নিচু করে ফিসফিস করে বলে উঠলো,

— “আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে… মঞ্জুরা পানি চায়...”


চলবে....



আপু থেকে বউ পর্ব ১০ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব ১০

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 


১৪,১৫,১৬,১৭


রাত তিনটা। নিঃস্তব্ধ হাসপাতালের করিডোরে সাদা আলো নিঃশেষ স্নিগ্ধতায় ঝরে পড়ছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে—একটি শিশুর কোলে ছোট্ট একটি ব্যাগ। সেই ব্যাগে থাকা পেনড্রাইভে লুকিয়ে আছে একটি ভবিষ্যৎ।


গিয়াস ধীরে ধীরে চোখ মেলে। শরীরের প্রতিটি পেশীতে যন্ত্রণার রেখা। পাশে জারা বসে—চোখে ক্লান্তি, ঠোঁটে ভালোবাসা।


"জাগছো?"—জারা জিজ্ঞেস করে।


গিয়াস ফিসফিস করে, "সে কি এসেছে?"


"কে?"


"আমাদের উত্তরাধিকার... রিজভী।"


---


**ফ্ল্যাশব্যাক: পাঁচ দিন আগে**


রিজভীর গুলিতে আহত গিয়াস নিজের মৃত্যু ভান করেছিল। রিজভীর সাজানো পুরো প্ল্যান, মেডিকেল রেকর্ড হ্যাক করে মৃত্যু ঘোষণার ব্যবস্থা। উদ্দেশ্য—সোহেল ও তার ছায়াদের বিভ্রান্ত করা।


সেই সময়েই সোহেল শেষ শ্বাসে বলে গিয়েছিল: “তোর রক্তে এখন আমার বিষ। আমার মতো করেই মরবি, ধীরে ধীরে।”


জারা ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু গিয়াস জানে, সোহেলের কথার মানে গভীর কিছু লুকিয়ে আছে।


---


**বর্তমান**


একটি ডার্ক ওয়ার রুম। রিজভীর রেখে যাওয়া একটি ল্যাপটপ খুলে গিয়াস পায় একটি ফোল্ডার—**SK\_ANTIDOTE**। সেই ফোল্ডারে অডিও ক্লিপ:


"গিয়াস ভাই... আমি জানতাম তুমি একদিন মরার মুখোমুখি হবে। কিন্তু আমি চাইনি তুমি পরাজিত হও। এই ফোল্ডারে আছে সেই অ্যান্টিডোটের সূত্র, যেটা তোমার শরীরে ছড়ানো বিষকে নষ্ট করতে পারবে। তবে... সেটা পাবে আজিজুল হকের পুরনো ল্যাবে।"


---


**সুমিত: জেলের ভিতর**


সুমিত এখন জেলে। কিন্তু মানসিকভাবে ধ্বংস নয়। সে চুপচাপ একটি চিঠি লেখে:


“জারা, আমি তোমার বাবাকে মারিনি। আমার মা-ই ছিল আসল ভিকটিম। আমি শুধু প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নিজের আত্মা হারিয়ে ফেলেছিলাম। যদি একদিন রিজভীর সন্তানের চোখে নিজেকে দেখতে পারি, তাহলে বুঝব আমি মানুষ ছিলাম।”


---


**জারা: কমিশনারের চেয়ারে**


পাঁচ বছর পর।


জারা এখন পুলিশের কমিশনার। তার ঘরে ঢুকে ছোট্ট রিজভী বলে, “মা, আমার প্রজেক্টের নাম রেখেছি ‘স্কর্পিয়ন কিলার’। কেমন লাগল?”


জারা তাকিয়ে থাকে তার সন্তানের চোখে। ঠিক যেন গিয়াসের চোখ। তাতে আগুন নেই, কিন্তু লুকানো আছে এক রকম সত্যের দীপ্তি।


“দারুণ। কিন্তু মনে রেখো, প্রতিশোধ নয়—প্রতিশ্রুতি বড়।”



গিয়াস এখন ‘স্কর্পিয়ন কিলার সিকিউরিটি’-এর প্রতিষ্ঠাতা। সে তার মায়ের চিঠি খোলে:


"তোর জন্ম হয়েছিল আলো আর অন্ধকারের ছায়ায়। তুই যদি একদিন আলোর পক্ষে দাঁড়াস, তাহলে আমি মরেও শান্তি পাবো।”


একটি গুলির শব্দ।


নভোশিশুর কান্না।


তারপর সব নিস্তব্ধ।



"রিজভী স্কুলের শেষ লাইন লিখে—‘আমার বাবা একজন হিরো। আমি শুধু তার গল্প শেষ করিনি... আমি তার গল্প আবার শুরু করবো।’"

হাসপাতালের নিরবতা।

গিয়াস ব্যথা নিয়েই চোখ খোলে।

তার শরীরে এখনও বিষ-নিরাময়ের মতো কাজ করছে না।

ECG মেশিনে সিগন্যাল ঝলসে আর নাইন্সূত্রে গতি পায় বিশ্রামহীন চক্রে।


> **জারা** (চাপা কণ্ঠে):

> *“তোমার অসুখ এখনও জেগে আছে... রিজভীর USB-তে সেই অ্যান্টিডোট আছে—তোমার নিজেরই শরীরে ঠিক মতো কাজ করার মতো ফরমুলা।”*


গিয়াস চেহারায় এক ফণা আশা ফুটে ওঠে, কিন্তু এক সময় ফিকে হাসি।




কমিশনার জারা ড্রাইভিং করছে এক ভয়াবহ রোজগারের রাতে।

মনেই প্রশ্ন আসে—


> *“আমি কি এখন সঠিক পথে আছি? আমার দায়িত্ব পুলিশ কমিশনার হিসেবে কি গিয়াসের পাশে থাকতে বাধা দেয়?”*


সে ফোনে বলে—


> *“ওসি নিয়াজ, আজ রাতেই আমরা আজিজুলের ল্যাবে যাবো।

> কোন ড্রাপ না করে। বুঝলে?”*


নিয়াজ মাথা হেলে নেয়।


---


রিজভী রাতে তার নিজের ঘরে বসেছে। ল্যাপে USB স্লট করে বলে—


> *“তোমার কোড নামটা নিয়ে বড় হবে তো—স্কর্পিয়ন কিলার!”*


একটা অটো-অ্যালার্ম বাজে তার ফোনে।

হঠাৎ সে টেবিলে যা দেখে চমকে ওঠে—

ADB টার্মিনালে “WARNING: Trace initiated” লেখা।


> *“তারা খুঁজে পেয়েছে! আসছে... এভাবে আমার জীবন শেষ হতে পারে কিন্তু তারা থামবে না।”*




কারাগারের একান্ত কক্ষে সুমিত জড়িয়ে আছে চার দেয়ালেই।


সে ফোনে ফিসফিস করে—


> *“জারা... আমি বলেছিলাম তোমার বাবাকে মারিনি,

> কিন্তু গিয়াসের রক্ত এখনও বিষ মিশানো আছে!”*


চোখে জল পড়ে।

“আমি আজিজুলের ল্যাবে গিয়েছি... ওখানে একটি X-ভায়াল আছে—সেই নিয়ে এসেছি।

গিয়াসের রক্তে বিষ আছে, কিন্তু সেদিন সেই ভায়াল দিয়ে আমি নিজে রক্ত দেই—ভাইয়ের মতো।”


সে নিশ্বাস নেন।


> *“আমি গিয়াস এবং জারার সন্তানের বাবাও হতে চাই... যদি তারা আমাকে মাফ করে.”*



রাত ২:০০ AM, আজিজুলের ল্যাব।


গিয়াস-জারা নিষ্পাপভাবে শাসন ভেঙ্গে তালা ভেঙে প্রবেশ করে।


মূলে রয়েছে সিসিটিভি, সেন্সর, ইলেক্ট্রনিক লক —

গিয়াস ডায়ালগ করে:


> *“এই ভায়ালটাই আমার জীবন—‘নিউট্রোলাইজার X’। আমরা যা সারাটা সময় খুঁজছিলাম।”*


হঠাৎ ডোর ক্লিক, প্রবেশ করে ওসি নিয়াজ সহ পুলিশ টিম।


> **জারা** আওয়াজ করে:

> *“এখন বুঝলে—শুধু মা-বাবার কথা নয়, এই শহরের মানুষের জীবন—আমরা বাঁচাব!”*




তারা সবাই ল্যাবের ভিতরে।

হঠাৎ সেন্সর বাজে, এলার্ম উড়ে।

দলের সবাই হইচই করে।


জগাখিচুপি শুরু।

শেষে **সুমিত** এসে ভায়ালের কাছে দাঁড়িয়ে—


> *“আমার রক্ত, আমার দায়—এবং আমার বিশ্বাস!”*


সে দ্রুত গিয়াসের IV লাইনে ওষুধ ঢেলে দেয়।

ভায়ালের মধ্যে থাকা শেষ সুরে এসে মেশে গিয়াসের শরীরে…


**সব থেমে যায়।**

শনিবারের রাত্রি শেষ হয় শান্তির আলোয়…



> **“গিয়াস চোখ খুলে ফিসফিস করে—

> ‘আমি এখন বেঁচে আছি... তোমাদের বিশ্বাসেই।’”**

নিশ্চিতভাবে! নিচে আপনার জন্য **“বাঁধন – পর্ব ১৬: নতুন শত্রু, নতুন যুদ্ধে”** — টানটান অ্যাকশন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, এবং আবেগঘন ক্লাইম্যাক্সসহ পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা দেওয়া হলো:


---


* **অভ্যন্তরে:**

  জারা, গিয়াস ও রিজভী ল্যাব থেকে বেরিয়েছে, কিন্তু রাস্তার অন্য পাশে একটা কালো ভ্যান দাঁড়িয়ে।

  ভ্যানের পেছন থেকে বেরিয়ে আসে – **দেখনোয় সুখী শিশু**, যিনি হঠাৎই জারা-গিয়াসকে লক্ষ্য করে ফিসফিস করে:


  > “মুখ থামাও, ‘স্কর্পিয়ন কিলার’ ফিরে এসেছে।”


* **সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—** ভ্যান থেকে কিছু কালো ছিন্ন পোশাক্দার লোক নামছে এবং সরাতে শুরু করছে ল্যাবের সেন্সর।

  ঐ দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়াজ কাঁপতে কাঁপতে ফোনে বলে:


  > “স্যার, এটা… সোহেলের বাৎসরিক দল!”



* **জারা:**

  একান্তে গিয়াসকে বলছে:


  > “তারা ভেবে বসেছে আমরা জয়ী... দেখিয়ে দিই, হাওয়া কেমন মুখ ফেরায়।”


* **গিয়াস:**

  বলছে,


  > “এই শহরে টক্সিন, টেকনলজি আর ট্রাস্ট—সবই আমাদের তৈরি… এখন আমরা তৈরি করব শত্রুর দানা!”


* **রিজভীর ছোট্ট মুখে:**

  সে silently পকেটে হাত দেয় —

  তাতে লুকিয়ে থাকা অ্যান্টি-হ্যাক হার্ডড্রাইভ।


---



* জেলে শোয়ারী, সুমিত নতুন করে জেগে উঠে।


* ডায়ারিশিটে লেখা:


  > “আমি পুলিশের জন্য বা প্রতিশোধের জন্য যে হয়নি… আমি গিয়াসের ভাই হয়ে ছেলেটির বাবার সুরক্ষায় আছি।”


* **গিয়াস ও জারা দু’জনকে নিয়ে এসে কাঁচের দেয়াল ভাঙিয়ে বের করে দিয়ে বলছে:**


  > “আজ থেকে তুমি আমাদের টিমের ভেতর… নিরাপত্তার বেইসবলে।”


* **জরুরী করিডরে** — সবাই এগিয়ে হাঁটছে, সামনে রিজভীর হাতে হার্ডড্রাইভ, তার পাশে গিয়াস ও জারা।




* রিজভীর চোখে আগুন—


  * সে ভ্যানে ঢুকে যায় এবং **হার্ডড্রাইভ** সংযুক্ত করে।

  * মনিটরে দেখা যায় **দলটির ফুটেজ** — SPECTRE-style ম্যানিপুলেটেড রিলে সহ: কে তারা, কোথা থেকে লাগে, মূল খলিফা কে...


* এক সেকেন্ডের মধ্যে রিজভী ফোনে বলে,


  > “মা, আমরা এখন খুঁজে পেয়েছি তাদের ঠিকানা।”


* জারা একা নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়… চোখে শক্তি লাগা একটা অদ্ভুত উর্ত্তাপ।


---



* **সিসিটিভি হালকা হাইড** —

  পুলিশ টিম, গিয়াসের নিরাপত্তা বাহিনী, রিজভী ও সুমিত একসাথে

  গোপনবাসে থাকে একটা গোপন গ্যারেজে।


* রিজভী সবার সামনে হোস্ট করে হ্যাকিং ট্যাব।


* গিয়াস বলছে,


  > “এদের নাম ‘ক্রিয়েটার্স’—তারা রাজনৈতিক, নাকি পারিবারিক?

  > আমরা একেবারে ঘাত অনা না বড়াবো…”


* ঝলসে ওঠে সিসিটিভি — দেখে তারা আগের ট্র্যাকারদের যোগাযোগ করছে **স্নাইপার, মারসিনারি**...


* জারা হাঁসফাস করে বলছে:


  > “রাতে ঢুকে, সকালে প্রকাশ্যে — ‘বাঁধন’ সংস্কার হবে আজ!”


---


### ৬️⃣ দৃশ্য: প্রথম স্ট্রাইক


* **সন্ধ্যা ১১টা** —

  বাহিরে দিয়ে গিয়াস, রিজভী, সুমিত ও নিয়াজ…

  **তারা ঢোকে** একটি গোপন বন্দরে — যেখানে ভ্যান, কিছু “কন্টেইনার”, একটা ছোট ক্যাম্প…


* **একাএक আলট্রা-হাই ভোল্টের নিয়ে ঢোকে** গুরুতর টিম —

  রিজভীর হ্যাক ডিভাইস চালু,

  গিয়াস-জারা-সুমিত টিমের পাল্টা অ্যাক্টিভেশন…


* **জঙ্গি লড়াই**, **ড্রোনস দিয়ে শনাক্ত**, **ন্যাম্রতা পূর্ণ রড** দিয়ে হামলা শুরু…



  গিয়াস নিজে **ড্রোন শ্যুট** করে পতন,

  জারা **স্ক্যান করে বোমা**,

  সুমিত দেন **ব্ল্যাক ম্যানিপ্যুলেট**,

  রিজভী হ্যাকে ভ্যানের ঈগল লোগো...


* **তাদের একসাথে কথা**:

  গিয়াস ফিসফিস করে,


  > “যুদ্ধ চালাতে পারি — যদি তুমি পাশে থাকো।”

  > জারা নির্দিষ্ট চোখে দেখে...

  > “সে পাশে থাকবে... সবসময়।”


* **শেষ মুহূর্ত** —

  তাদের রিকভারি এলাকা থেকে পড়ে গেছে একটা **USB পেনড্রাইভ**…

  রিজভী ধরল।

  সিসির ফুটে আসে **ডেপথ ক্যামেরায়** দেখা গেছে:

  একটা নাম — *"Operation DawnBreaker 002: Target – Scorpion Legacy"*



* এই ডকুমেন্টে USB ড্রাইভে **“Operation DawnBreaker”** কি আছে?

* **নতুন শত্রু এই ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারলে** কোন ভয়ানক পরিণতি?

* **জারা-গিয়াস-সুমিত-রিজভী** দল কীভাবে তা রুখবে?

* **শহরের রাজনীতিতেও** ঢুকছে তারা — কমিশনার ও সাইবার আর্টিস্টের দাপট…




আপনার ওয়ার্কশপে এখন এই পর্ব শরীর খেতে চাইলে, প্রস্তুত মঞ্চে— প্রস্তুত? 😊

নিশ্চিতভাবেই! নিচে আপনার জন্য উপস্থাপন করলাম **“বাঁধন – পর্ব ১৭: ডন ব্রেকার ফেসিং”**, যা হবে এখনো পর্যন্ত আপনার সিরিজের সবচেয়ে **টানটান, অকল্পনীয় ক্লাইম্যাক্স**:




* **স্থান:** রাত্রে ‘রিকভারি রুম’—দেহাত আলো, স্ক্রীনে USB ড্রাইভের অনুভূমিক লাইন।

* **রিজভী** USB প্লাগ ইন করে, স্ক্রিনে আসে:


  ```

  OPERATION DAWNBREAKER 002

  TARGET: SCORPION LEGACY

  PAYLOAD: NEUROTOXIN DRONES

  LOCATION: UNDERGROUND WAREHOUSE 45

  ```

* সে ফিসফিস করে: “তারা নিয়েছে আমাদের সব… সময় কমে এসেছে।”





* গিয়াস, জারা, রিজভী ও সুমিত এক টেবিলে বসে স্ট্রাটেজি আলোচনা করছে।

* **জারা:**


  > “ড্রোনগুলোতে বায়োলজিক টক্সিন আছে... আমরা চাইলেই তা নিষ্ক্রিয় করতে পারি—কিন্তু।”

* **গিয়াস:**


  > “আমি রাখতে পারব না কেউ যেন শহরে বিষ বর্ষণ করে…”

* **রিজভী:**


  > “আমি টার্মিনালে ঢুকে ড্রোন কোড ঢেকে দিব মেটা-লেভেলে…”

* **সুমিত:**


  > “আমি নিরাপদ করিডোর তৈরি করবো—আমি আজ ঋণ শোধ করেছি।”

  > → \*\*পরিকল্পনা চূড়ান্ত।




* রাত ৩টা— তারা হাফ-আইডেন্টিফায়ার ক্রিকেটের ব্যাগ নিয়ে ওয়ারহাউসে যায়।

* রিজভী কোড রাইট করছে, গিয়াস ওয়াচ করে ড্রোন প্লাটফর্ম, জারা বাহির দিয়ে নিয়ন্ত্রণ, সুমিত প্রটেকশন রোডস্ক্যান।



* **অন্য দিকে:** ওই গুদামে ঢুকছে **কন্টেইনারস**—সোহেলের নতুন দল।

* তারা বায়ো-ড্রোন পরীক্ষা করছেন, হামলার প্রস্তুতিতে।




* বাইরে বৃষ্টির শব্দ, ভিতরে টিম পজিশন নিচ্ছে।

* রিজভী হঠাৎ ফিসফিস করে:


  > “গিয়াস ভাই—তারার মতো লাল আলো… ক্র্যাশ কোড 47!”

* তখনই বৈদ্যুতিক আউটেজ—পুরো ওয়ারহাউস অন্ধকারে প্লাটি।




* **ড্রোন উড়ে**, ভূতলার ঘোড়ার মতো ব্যাল করে অ্যাটাক শুরু—

* গিয়াস ছুটে ছুটে সিগনেল জ্যাম সিরিজে ঢুকান, ড্রোন ভেঙে যায়।

* **জারা** বাধা দিচ্ছে দোষ হোল্ডার—সুমিত বাইরে করে সেকশন ক্লিয়ার।

* **রিজভী** কোড ইনজেক্ট করে মেটালেভেল ম্যানিপুলেশন—ড্রোনগুলো নিজেদের ক্ষেত্রে ফিরে যায় এবং তারা হারিয়ে যায়।




* **ড্রোন কর্মকর্তার সাথে তীব্র সংঘর্ষ।**

* **একটি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়**, ভাঙ্গা গাছ ঘরে ঢুকায়।

* তখন… **ঘোড়া ফিরে আসে**—ড্রোন চালানোর আসল মাষ্টার/নিয়ন্ত্রক হলো… **রিজভী নিজেই এক ছোট DRONEBOT!**

  সে তার ইউনিফর্ম খুলে দেখায় – মোড়া গোড়ায় সাদামাটা এলাকা।




  > “আমাদের শহর বাঁচল... তবে একজন শহুরে খল নায়কের জন্ম হতে চলেছে!”


* **রিজভী** বলে,


  > “দেখবে না যে আমরা কি দিয়েছিলাম… দেখবে কি দিই ওদের!”


* **সুমিত** হেসে টিবি দেয় ও ফুল এক্সপ্রেশনে,


  > “আমি আর শুধু পুলিশ না—আমি তোমাদের পরিবার!”


* **গিয়াস** রিজভীর চুলে হাত বোলিয়ে বললো,


  > “সে হবে একজন হিরো… না, সে হবে রক্ষণশীলের বীর।”


* **এই মুহূর্তে** মোবাইল এলার্ম!

  স্ক্রিনে লেখাঃ

  **“DRONEBOT: MISSION SUCCESS. NEXT TARGET: 095 – CITY HALL”**


**স্ক্রিন ব্ল্যাক!**



আপু থেকে বউ পর্ব ৯ গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ

আপু থেকে বউ 

পর্ব ৯

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মাদ 



সোহেল হাসপাতালে মৃত্যুশযায়ে পড়ে একটি স্বিকারোকতি সুচনায় দিয়েছে: “আমি মরছি... ক্যানসারে পীরি চলে গিয়াসকে একটি বিষ দেয়েছি... সে রুকতের মতো রাগে বাচবে পারবে না..."


জারা চাপ্পা হয়ে গিয়াসের চোখ দেখে মর্নিয় সবাল অপরাধ প্লান। মৃত্যু হলে। সে হেচে টেঙ্ক হেক করে একটি এসিজি মেশিন হ্যাক করে।


রিজভী শেষ হয়ে গিয়াসকে: সোহেলের পুত্রোপে বুমি পেয়েছে। সে হ্যাক করে চলে সোহেলের ল্যাব ট্র্যাক করে তার সব কাচকাছে ।


"রিজভী হাসতে হাসে স্কুলের প্রস্জেক্টে লিখলো। কাচে লিখলো। চুনি জানোর বাবা একটা হিরো... আর আমি?"


বৃষ্টি ভেজা আকাশের নিচে একটি ছোট্ট স্কুল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট রিজভী, হাতে একটি অদ্ভুত কালো রঙের ইউএসবি। তার চোখে-মুখে নিষ্পাপ কৌতূহল আর শয়তানি মিলেমিশে এক অদ্ভুত আলো। ভেতরের ক্লাসরুমে শিক্ষক বলছে, "তোমাদের প্রজেক্টের বিষয়: আমার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।"


রিজভীর গলায় খামখেয়ালি আত্মবিশ্বাস, "আমি একজন হ্যাকার হবো। আমার বাবার মতো, আর আমার খালার মতোও। কিন্তু আমি ওদের চেয়েও ভয়ংকর হবো।"


---


**ফ্ল্যাশব্যাক - পাঁচ বছর আগে:**


সোহেলের মৃত্যুর পরে হাসপাতালের করিডোরে গিয়াস দাঁড়িয়ে, বুক চিরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। পাশে জারা। গিয়াসের চোখে পানি – কিন্তু সেটা কোনো এক আনন্দ আর ভয়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।


"তুমি বাঁচবে না গিয়াস," জারা বলে। "সোহেল বলেছে, তোমার রক্তে সে বিষ ঢুকিয়েছে।"


গিয়াস চুপ করে থাকে। তার হাতে মায়ের লেখা শেষ চিঠি।


"তুই সোহেলের ছেলে না... তোর বাবা আজিজুল হক।"


গিয়াসের চোখে বিস্ময়। "আমি তোকে মেরে ফেলতাম, যদি না জানতাম তুই আমারই রক্ত... কিন্তু এখন জানি, আমি ওর রক্তই না। তাহলে আমি কে?"


জারা তার হাত ধরে। "তুমি আমার সন্তানের বাবা। সেটাই এখন সবচেয়ে বড় পরিচয়।"


---


**রিজভীর আত্মবলিদান:**


হাসপাতালের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে রিজভী তার শেষ অপারেশন চালাচ্ছে। সে সোহেলের গোপন ব্যাকআপ ফোল্ডার ডিলিট করে, গ্লোবাল ট্রান্সফার ব্লক করে দেয়। ঠিক তখনই পিছন থেকে গুলি লাগে।


রক্তাক্ত মুখে সে বলে, "গিয়াস ভাই... আমার কোডনেম ছিল স্করপিয়ন কিলার। শেষটা তোমার করতে হবে..."


---


**বর্তমান:**


গিয়াস এখনো বেঁচে। দুর্লভ এক প্রতিষেধক খুঁজে পেয়েছিল সুমিত, তার মায়ের রেখে যাওয়া গবেষণা থেকে। সে এখন একটি সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম চালায়: **Scorpion Killer Inc.**


জারা এখন শহরের পুলিশ কমিশনার। তার চোখে আগুন, কথায় বরফ। অপরাধীরা নাম শুনলেই থরথর করে। কিন্তু বাড়ি ফিরে এসে সে ছোট্ট রিজভীর আঁকা ছবি দেখে হাসে – তাতে লেখা: "আমার পরিবার: হিরো বাবা, সুপারমম, আর আমি: মিনি হ্যাকার!"


একদিন রিজভী তার ব্যাগ থেকে একটি পুরনো ইউএসবি বের করে। সেটি রিজভী (বড়) তাকে দিয়ে গিয়েছিল। সে চালু করে, স্ক্রিনে আসে এক লাইন কোড:


"If you're watching this, it means I died for love, not for revenge. Hack the world with truth."


রিজভী মুচকি হাসে। তার চোখে জ্বলে ওঠে নীল আলো। ঠিক তখনই একটি ফোন কল আসে। অপর প্রান্তে একটি রহস্যময় কণ্ঠ:


"তুমি প্রস্তুত তো, ছোট স্কর্পিয়ন? এখন খেলাটা তোমার।"



রিজভী জানালার দিকে তাকিয়ে বলে, "আমি শুধু শুরু করেছি... এবার ইতিহাস আমি লিখবো।"

চলবে.....