মুখোশের আড়ালে পর্বঃ২

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প )

#মুখোশের আড়ালে

পর্বঃ২



চোখের সামনে ভেসে আসতে লাগলো প্রায় পাঁচ বছর আগে সবার অগোচরে ঘটা সেই ভয়ংকর ঘটনাটা।যেটার সাক্ষী ছিলাম আমি আমার মা আর একজন।যে ঘটনার ছোবলে আজকের আমার এই অবস্থা...


ক্লাস সেভেনের ফাইনাল পরীক্ষার পরে,আমি তখন মায়ের সাথে নানুবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম..

আমি সবার খুব আদরের ছিলাম।আমার কারণে আমার তিন মামা নানুবাড়ির ছাদে পিকনিকের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো..আমরা সবাই মিলে ছাদে পিকনিক করছিলাম।কিন্তু আমার মা আসছিলো না উপরে...শরীর খারাপের কথা বলে মা নিচেই ছিলো।উপরে আসছিলো না।মায়ের শরীর খারাপ বলে,

আমরাও বেশি জোর করিনি।


পিকনিকের মাঝে আমার বাবা হঠাৎ করেই ফোন দিলো।ভিডিও কল দিয়ে দেখতে চাইলো তার আদরের মেয়েটা কি কি করছে মামাদের সাথে।

আমি খুশিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাবাকে দেখাচ্ছিলাম।বাবা আমাকে বললো,

মায়ের কাছে ফোন নিয়ে যেতে।।আমিও বাবার সাথে কথা বলতে বলতে নিচে নেমে গেলাম,মাকে ফোন দিয়ে আসার জন্য।।নিচে নেমে মায়ের ঘরে মাকে পেলাম না।ঘুরঘুর করে এঘর ওঘর খুঁজতে লাগলাম।কিন্তু কোথাও মা নেই।বাবাকে বললাম,মাকে খুঁজে তারপর তোমাকে কল দিবো।


এটা বলার পরে মাকে খুঁজতে খুঁজতে নানুবাসার একেবারে কোণার ঘরে উঁকি দিলাম।দেখি সেই ঘরের দরজা দেওয়া।তখন আমার মনে হলো,মা ওঘরে আছে কিনা।আমি দরজায় কড়া নাড়তে লাগলাম মা মা বলে।আমার ডাকের মধ্যে শুনতে পেলাম,ভেতরের ফিসফিস করে কথা হচ্ছে।নিচে তো শুধু আমার মা ই ছিলো।ভেতরে আসলে কে কে??কার সাথেই বা কথা হচ্ছে।

আমার কেমন জানি মনে হলো।আমি আরো জোরে মাকে ডাকতে লাগলাম আর দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলাম।


কয়েক মুহুর্ত যাওয়ার পরে আমাকে চমকে দিয়ে আমার মা দরজা খুলে মুখ বের করলো।

আমাকে বিরক্তির সাথে জিজ্ঞাসা করলো-

"কি হয়েছে??এতো চেঁচাচ্ছি কেন...?"


আমি হা করে মাকে দেখলাম,মায়ের চোখে-মুখে পানি।চোখ দুটো টুকটুকে লাল।বোধ হয় খুব কেঁদেছে।মায়ের এই অবস্থা দেখে আমার মনের ভেতর উথাল পাতাল হতে থাকলো।আমি ভয় পাওয়া গলায় মাকে জিজ্ঞাসা করে উঠলাম--

"ও মা।মা..তুমি কাঁদছো কেন??

কি হয়েছে তোমার??"


মা আমার কথার কোন উত্তর দিলো না।কেমন জানি ক্ষিপ্ত চেহারা করে আমাকে বলে উঠলো--

"আমার কিছু হয়নি।যাহ,এখান থেকে।আর উপরে গিয়ে কাউকে বলবি না।আমি এই ঘরে আছি।"


এই প্রথম আমার মা এমন ব্যবহার করলো।আমার খুব কান্না আসছিলো।আমি হুট করেই মাকে কিছু না বলে শরীরের সমস্ত জোর দিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলতে গেলাম।আমার মা হয়তো ভাবেনি আমি এমনটা করবো।অনেকটা অপ্রস্তুতভাবে দরজা একটু খুলে যেতেই দেখি ভেতরে একটা লোক বিছানার উপর শুয়ে আছে।লোকটার দিকে চোখ পড়তেই,

সে কেমন জানি ভয় পেয়ে উঠলো।হুড়মুড় করে উঠে বসলো।আমি লোকটাকে এর আগেও কয়েকবার দেখেছি।কিন্তু এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না।আমি অবিশ্বাসের চোখ নিয়ে মায়ের দিকে তাকালাম।


মাও আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।

আমি চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম,"লোকটা কে,লোকটা কে...?"মা সাথে সাথে আমার মুখে হাত চেপে ধরলো আর লোকটাকে কাঁপা গলায় বললো--

"তুমি এক্ষুণি বের হয়ে যাও শাহীন..."

এই কথা বলতেই ঘরের ভেতরে থাকা পেছন সাইডের দরজা দিয়ে লোকটা চোরের মতন পালিয়ে গেলো।


আমি পানিভর্তি চোখ নিয়ে সব দেখছি।আমার মা আমার মুখ চেপে রেখেছে,কিন্তু আমি এতোটুকু নড়াচড়া করতে চাইলাম না।

আমার মায়ের সাথে লোকটার কি সম্পর্ক? 

কেন আমার মা এমন করছে??নানান প্রশ্নে আমি জর্জরিত।


লোকটা চলে যেতেই আমার মা আমার মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিলো।আমি ভয়ে কান্না করে উঠলাম।মা সাথে সাথে ঘরের দরজা দিয়ে আমার কাছে আসলো।আমি ধপ করে মেঝেতে বসে পড়লাম।আমার পুরো দুনিয়া ঘুরছে আমার সামনে।মা আমার পায়ের কাছে এসে বসতেই আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম,"লোকটা কে??এই ঘরে কেন তোমার সাথে ছিলো সে....?"


 মা শংকিত মুখে আমার দিকে তাকালো।মায়ের চোখ দিয়ে অববরত পানি পড়ছে,মাথাটা একেবারে নিচু করা।ঠিক একটা অপরাধীর মতন।মা অঝোরে কেঁদে উঠলো।আমাকে বললো--

"আমি সব বলবো।তুই আমাকে ভুল বুঝিস না.।।"


এই কথাটা শুনে আমি কেমন জানি খুব রেগে গেলাম।আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম,"লোকটা কে...?আমাকে শুধু এটুকু বলো..."মা আমাকে দেখে উত্তর দিতে পারছিলো না।আমি অসহায়ের মতন কাঁদছি।মা আমাকে কি উত্তর দিবে।আমার যা বোঝার আমি বুঝে নিয়েছি।ঠিক সেই সময়ে ঘরের দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ হলো।বাইরে থেকে শোনা গেল,আমার ছোট মামা অনবরত আমাকে আর মাকে ডাকছে।।আমার দম বন্ধ হয়ে যেতে লাগলো।আমি হুট করে উঠে এক দৌড় দিয়ে দরজা খুলে মামাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের বাইরে বের হয়ে গিয়েছিলাম।আমি কাঁদতে কাঁদতে খালি পায়ে বাসার বাইরে বের হয়ে গিয়েছিলাম।রাস্তার উপর বসে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম।


আমাকে খুঁজে বের করেছিলো আমার ছোট মামা।

ততক্ষণে আমার কান্না শুকিয়ে,মনের ভেতর প্রচণ্ড ক্ষোভ আর অবিশ্বাস জন্ম নিয়েছিলো।আমি বাসায় ফিরে কারো সাথেই কিছু বলিনি।শুধু বলেছিলাম,আমি আমার বাবার কাছে যাবো।

অবস্থা এমন করে ফেলেছিলাম যে,আমাকে এক বেলার ভেতরেই আমার বাবার কাছে নিয়ে যাওয় হয়েছিলো।


ঐ ঘটনার পর থেকে আমার মা অনেকবার চেষ্টা করেছিলো আমার সাথে ওটা নিয়ে কথা বলতে।কিন্তু আমি তাকে কোনদিন সেই সুযোগ টা দেইনি।সেদিনের পর থেকে হাস্য-প্রাঞ্জল আমি একেবারের নিথর আর শান্ত হয়ে গিয়েছিলাম।।আমার মুখের হাসি দেখতে পেতো শুধু আমার বাবা।এক বাড়িতে থেকেও আমি আমার মায়ের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছিলাম।প্রতিটা রাত আমি বিছানায় কেঁদে কেঁদে বালিশ ভিজিয়েছি মায়ের উপর অভিমানে।সকাল হলেই শক্ত পাথরের মতন ব্যবহার করেছি।।


আমি গোপনে অনেকভাবে জানার চেষ্টা করেছি,আমার মা সম্পর্কে।কিন্তু সবার কাছেই তার একটা খারাপ কথারও অভিযোগ পাইনি।কিন্তু সেই ঘটনা আসলে কি ছিলো,তা হয়তো আমাদের দুজনের ভেতরে অমীমাংসিত রহস্য হয়েই ছিলো।।


দরজায় কড়া নড়লো।বুকটা কেঁপে উঠলো...

বাবা ওপাশ থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললো,

"নিশি,তোমার মাকে নিয়ে যাচ্ছি..দেখবে না..?"

আমি উত্তর দিলাম না...বাবা দাঁড়িয়ে থেকে চলে গেলো।আমার বুকটা ভীষণ ভারী হচ্ছে।

মায়ের চেহারাটা ভাসছে চোখে।পানি জমছে।

চোখ দুটো দু'হাত ধরে চেপে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম আমার ঘরে।কেউ কেউ জানলো না।কেউ শুনতে পেলো না।পাগলের মতন নিজেকে নিজে জড়িয়ে ধরে কাঁদছি...শুধুই কাঁদছি....


আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

অনেক সাহস করে আস্তে আস্তে ঘরের বারান্দায় এগিয়ে গেলাম কি জানি দেখার জন্য।।হঠাৎ চোখ পড়লো,আমাদের গেটের এক কোণায় দাঁড়িয়ে সেই লোকটা কাঁদছে...আমার বুকের ভেতর কি জানি খুব জোরে বাড়ি দিয়ে উঠলো...মুহুর্তেই আমি কেমন জানি কঠিন হয়ে গেলাম।আমার সেদিনের প্রশ্নের উত্তর টা জানার খুব প্রয়োজন মনে হলো।আমি চোখ মুছেই কিছু না ভেবে এক দৌড় দিয়ে ছুটতে লাগলাম,লোকটার কাছে যাবো বলে...


গল্পঃমুখোশের আড়ালে

পর্ব (২)


জমজ বোনের সংসার পর্ব ২

 

জমজ বোনের সংসার 

পর্ব ২

কপি করা নিষেধ!




জারার ফোনে হঠাৎ করে কল আসলো!

দেখেই বুঝতে পারলাম হসপিটালের কোন নাম্বার এর থেকে কল এসেছে!

জারা কল ধরে হ্যালো বলতেই! ডাক্তার এর কথা বলার শব্দ পেতে থাকলাম! কি একটা কথা হলো জারা আর ডাক্তার এর মধ্যে! ঠিক মতো বুঝতে পারলাম না! খুব আস্তে আস্তে কথা বলতে থাকে জারা আর ডাক্তার!

আমি একটা ধমক দিয়ে জারার থেকে ফোন টা কেড়ে নিয়ে হ্যালো বলতেই দেখি কল কেটে গেছে!

আমি জারা কে জিগ্যেস করলাম কি হয়েছে এখন সব কিছু আমাকে খুলে বলো!

জারাঃ গিয়াস ভাইয়া আমি এটিই অনেক সময় ধরে আপনাকে বলতে চাচ্ছি একটু শুনেন দয়া করে!

গিয়াসঃ বলো এখন! আমাকে আর টেনশন দিও না প্লিজ! আমি এইসব আর সয্য করতে পারছি না রাত ৩ টা বেজে গেল! এইসব নিয়ে কথা বলতে বলতে!

জারাঃ গিয়াস ভাইয়া মায়া আপুর অনেক বড় একটা রোগ হয়েছে যার জন্য আপু কখনোই কোন ছেলের জীবন নষ্ট করতে চাইতো না! তাই এতো বিয়ে আসার পরেও মায়া আপু রাজি হতো না! এইবার বাবার পেরার জন্য আপু রাজি হয়েছিল কিন্তুু আপু কখনোই আপনার জীবন নষ্ট হোক এমন কিছু চায় নি! তাই আমাকে অনেক জোড় করে অনেক বুঝিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসিয়েছে!

গিয়াসঃ কি হয়েছে মায়ার! আমি তো মায়া কে অনেক বার দেখেছি অনেক কিছু বলেছি কিন্তুু আজ পযন্ত মায়া আমাকে কিছুই বলেনি!

জারাঃ গিয়াস ভাইয়া মায়া আপু ভয় পেয়েছিলো! তাই হয়তো বলতে চায় নি!

এইসব কথা শুনে অনেক খারাপ লাগতে ছিলো! কি করবো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না!

রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে গেল এখনো আমরা ২ জন জেগে আছি!

জারার কাছে জানতে পারলাম! মায়া হসপিটালে এডমিট! ওর মাথায় বিরাট বড় একটা টিউমার হয়েছে যা অল্প কিছু দিনের মধ্যে কিছু একটা হয়ে যাবে! বয়স কম ওর! এই বয়সে ও অনেক কিছু সয্য করেছে জারা আর মায়া কিছু সময়ের ছোট্ট বড়! তবে মায়া কে একটু বেশিই বড় দেখা যেত! ওদের মা ওদের জন্ম দিয়ে মারা যায়! মায়া আর জারা কে ওর বাবাই বড়ো করে! মায়া একটু সাংসারিক টাইপের ছিলো! ওর বয়স কম হলেও ওকে দেখে বড় লাগতো সব কিছু বুঝতে পারতো! আর জারা এখনো ছোট্ট বাচ্চাদের মতো!

সকাল বেলা আমার বাবা মা সবাই মায়া কে খুঁজে না পেয়ে আমাকে জোড় করতে থাকলো কি করবো আমি বুঝে উঠতে পারছি না! বাবা মা কে সব টা বলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম!

বাবা মা আমাকে তার রুমে ডেকে নিলো!

আমিও জারা কে নিয়ে গেলাম! বাবা দেখে অবাক হয়ে বললো!

কিরে জারা মা তোমার বোন কোথায় তুমি এত সকালে কিভাবে আসলে!

গিয়াসঃ বাবা আমি বলছি সব!

বাবাঃ কি হয়েছে বল তো! কোন সমস্যা হয়েছে!

বাবাকে কালকে রাতের সমস্ত ঘটনা শুনাতে থাকলাম!

বাবা সব কিছু বুঝতে পারলো!।।

ঔ দিন ১২ টার সময় আমি জারা আর আমার বাবা মা একসাথে ঔ হাসপাতে গেলাম মায়া কে দেখতে!

হাসপাতালে যেতেই মায়া আর জারার বাবার সাথে দেখা! আমি বলতে থাকলাম বাবা মায়া কোথায় কি হয়েছে!

জারার বাবাঃ আমি একটা কল পেয়ে সোজা আসলাম! আমি কিছু জানি না কিন্তুু তোমরা এখানে কি করছো বলো! আমার মেয়ে কোথায়! জারা তুই কোথায় ছিলি কালকে! বাড়ির দারোয়ান বললো তোর বন্ধুর বাড়িতে!।।

এইসব কথা শুনে আরো চমকে উঠলাম আমি!

হঠাৎ দেখলাম ডাক্তার একটা স্টিল বেড এ একটা রোগী নিয়ে আমাদের দিকে আসছে!

পরবর্তী অংশের জন্য অপেক্ষা করুন

গঠন মূলক কমেন্ট করবেন!

( জারা আর মায়া একই বছরের কিন্তুু মায়া একটু বড় কিছু সময়ের আর ওর মধ্যে এডালট একটা ভাব আছে! )

জমজ বোনের সংসার 

পর্ব ২

 


মায়া_খেলা #গিয়াস_উদ্দিন_আহাম্মাদ #পর্ব_২

#মায়া_খেলা

#গিয়াস_উদ্দিন_আহাম্মাদ

#পর্ব_২



রিয়ার দুই কানে সে হাত দিয়ে বসে আছে। এমনভাবে হাত চেপে ধরেছে যেন হঠাৎ করেই তার কানে তীব্র ব্যথা অনুভব করছে। আমি রিয়ার এই অবস্থা দেখে জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে রিয়া?

রিয়া বলল, না, কিছু না। কেমন যেন ব্যথা পাচ্ছিলাম, আর মনে হচ্ছিল কিছু শুনতে পাচ্ছি না। আচ্ছা বল, তুই যেন কি বলতে চাইলি? কিসের রাতের ঘটনা?

রিয়ার মুখে এমন কথা শুনে আমি হতবাক। আমি তো পুরো ঘটনাই তাকে বলেছি প্রায়। এমনকি সে এমনভাবে তাকিয়ে ছিল যে মনে হচ্ছিল সে মনোযোগ দিয়ে শুনছে আমার কথা। তাহলে এখন আবার এমন কথা বলছে রিয়া? তার মানে রিয়া এতক্ষণ কিছু শোনেনি!

এখন আমি নিশ্চিত আমার এই কথাগুলো সত্যিই কাউকে বলতে বারণ। আর কাউকে বলতে চাইলেও তারা হয়তো শুনতেই পাবে না। আমি এই মিথ্যা চেষ্টাও আর করব না, কাউকে আর এই ঘটনা সম্পর্কে বলতে যাব না।

আমাকে খুঁজে বের করতে হবে কেন এই বাচ্চা? আর আমার গর্ভেই কেন তারা দিতে গেল? আমি কি ক্ষতি করেছি তাদের?

আমি রিয়াকে আর কিছু না বলে প্রসঙ্গ বদলে দিলাম। কিছুক্ষন থাকার পর রিয়াকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলাম। আমিও বাসার দিকে রওনা দিলাম।

পথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ ভাবলাম জিনদের সম্পর্কে আমার নিজেকেই জানতে হবে আগে। এই ভেবে কয়েকটা বই কিনলাম লাইব্রেরি থেকে। এই বাচ্চাটা সম্পর্কে নিজেকেই জানতে হবে, আর কাউকে কিছু বলা যাবে না।

বাসায় ফিরতে রাত হয়ে গেল। ফ্রেশ হয়ে খেয়ে ডাক্তার আফনানের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খেলাম। যদিও ভয় লাগছিল যে আজকেও হয়তো সেই বড় মাথাওয়ালা জিনটা আসবে গভীর রাতে। আর কি কি যে বলবে, আমি জানি না এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম।

ঠিক ফজরের আযানের সুন্দর ধ্বনিতে, যে কলরব বইছে আকাশে বাতাসে, ঠিক সেই সময় হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। এবং একজন সাধকের মতো দেখতে সাদা কাপড় পরা, বড় বড় দাড়িওয়ালা একদম গল্পে যে দরবেশ বাবার কথা শুনেছি এতদিন, ঠিক তেমন দেখতে একজন মানুষ আমার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আছে!

আমি দেখে ভয় পেয়ে চমকে উঠলাম। আমার চমকে ওঠা দেখে তিনি বললেন, মা, ভয় পেয়ো না। আমি কোনো ক্ষতি করব না। আর তোমার ভিতরে জিন বাচ্চা রয়েছে, তাকে এই দুনিয়ার আলো দেখিয়ো না। কারণ সে যদি ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে এই পৃথিবী ধ্বংস করে ফেলবে। পৃথিবীটা রাজত্ব করবে সে। যে করেই হোক তাকে ধ্বংস করো।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিভাবে করব? আমি তো কাউকে বলতেও পারি না।কিভাবে সেটা তুমি ভাবলেই পেয়ে যাবে। আর এই কাজটা শুধু তুমি আযানের সময় করতে পারবে। কারণ আযানের সময় তোমার সাথে কোনো জিন থাকে না। আর আযানের সময় কাউকে বললে সে শুনবে। কিন্তু কিভাবে ধ্বংস করবো? 

এই কথা বলার সাথেই দেখি লোকটি আর আমার মাথার কাছে নেই।

তারাতারি করে বিছানা থেকে উঠলাম। উঠেই সব দিকে খোঁজাখুঁজি করলাম, কিন্তু পাইনি কাউকেই। বিছানায় এসে আবার বসি। আর খেয়াল হয় লোকটি আমাকে বলেছিল আযানের সময় আমার কাছে জিন থাকে না, ওই সময় এই বাচ্চার কথা কাউকে বললে কোনো সমস্যা হবে না।

হঠাৎ আবার খেয়াল করি আযান তো শেষ! তার মানে ওই লোকটি আযান শেষ হওয়ার সাথে সাথেই চলে গেছে। আচ্ছা যাক, কিন্তু উনি আমাকে বললেন বাচ্চাটা ভয়ংকর, তাকে জন্ম দিতে বারণ করলেন। আর বাচ্চাটা নাকি এই পৃথিবী ধ্বংস করবে। কিন্তু আমি বাচ্চাটাকে কিভাবে ধ্বংস করব? কোন কিছু তো বলে দিলেন না লোকটি। কি করব আমি? আর আমি তো কিছুই জানি না এই জিনদের সম্পর্কে।

সত্যি বলতে, বাচ্চাটি পৃথিবীর জন্য না হলেও আমার জন্য ভয়ংকর। সমাজের চোখেও আমি ভিন্ন মানুষ হয়ে যাব এখন। যাই হোক, আযান শেষ, এখন সকাল হবে তাই আর ঘুমাইনি। জিনদের নিয়ে জানতে হবে আর এই বাচ্চার রহস্য বের করতেই হবে।

তাই জিনদের নিয়ে যে বইগুলো নিয়েছিলাম, তার মধ্যে একটি খুলে পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে জানলাম জিনেরাও মানুষের সাথে সহবাস করতে পারে ঘুমের মাঝেই। আরো অনেক কিছু জানতে পারলাম, কিন্তু আমি যে কারণটা খোঁজার জন্য বইটা পড়ছি, সে রকম কোনো কিছুই পেলাম না।

বইটা রেখে পরিষ্কার হয়ে সকালের খাবার খেলাম। ভাবলাম আজকের সকালের দরবেশের মত লোকটির কথা বাবা মার সাথে শেয়ার করি, কিন্তু আবার ভাবলাম না, ওনারা আবার চিন্তা করবে বেশি। তবে কেমন যেন ডাক্তার আশার সাথে দেখা করতে মন চাইছিল। আমার সব ঘটনা ডাক্তার আশাকে বললে আমার কেমন যেন মনে হচ্ছে কিছু একটা উপায় বের করবে। আর না হয় অপারেশন করে বাচ্চাটাকে মেরে ফেলবে তাতেও তো বাচ্চাটা ধ্বংস হবে। এই পৃথিবী যে ধ্বংস করবে, তাকে যে করেই হোক ধ্বংস করাটা জরুরি।

আমি ডাক্তার আশার চেম্বারে যাওয়ার জন্য রেডি হই। বাড়িতে কাউকে না বলেই বের হই ডাক্তারের সাথে দেখা করার জন্য। সকাল ১১টার মধ্যেই চলে যাই ডাক্তার আশার চেম্বারে। গিয়ে দেখি ডাক্তার আশা নেই উনি নাকি আজ চেম্বারে বসবেন না। আমি তার চেম্বারে বসে থাকা লোকটিকে জিজ্ঞেস করি, ডাক্তার আশা এখন কোথায় আছে?

লোকটি বলল, ডাক্তার আপা তো ঢাকায় গেছে, তবে আজকে হাসপাতালে তার ডিউটি করার কথা। আপনি গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আমি ভাবলাম, হয়তো নেই আমার ভাগ্য সবসময় খারাপই হয়। তবুও চলে গেলাম হাসপাতালে তার সাথে দেখা করার জন্য। গিয়ে দেখি ভাগ্যক্রমে ডাক্তার আপু একটু আগেই আসলো। আমার ভাগ্য তাহলে আজকে ভালোই!

দেখা করি ডাক্তার আশার সাথে। ডাক্তার আমাকে দেখেই চিনে ফেলে আর রাগান্বিত হয়ে বলে, এতদিন কোথায় ছিলে? আর পরের দিনে ভর্তি হতে বলেছিলাম, হওনি কেন? আর তোমার অবস্থা খুব জরুরি। তোমাকে তারপর খুঁজেছি, কিন্তু নম্বর ছিল না, আর আমিও একটু ব্যস্ত ছিলাম, তাই যোগাযোগ করতে পারিনি। তবে আমার বিশ্বাস ছিল তুমি দেখা করবা। এখন বলো, আসনি কেন?

আসলে ডাক্তার আপু, আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিল, তাই আসলে আপনার কাছে এসেছি।

বলো।এখন না, আযানের সময় বলতে হবে।

আচ্ছা ঠিক আছে। বসে থাকো, আসছি।

আচ্ছা আপু।

ডাক্তার আমাকে এই কথা বলে বাইরে গেল। আর আমি বসে আছি চেয়ারে। একটু পরে ডাক্তার আসল। আর আমাকে বলল, দিপ্তী, চলো আমার সাথে?

কোথায়?

যেখানে নিয়ে যাব, শুধু আমার সাথে আসো। তোমার কথাগুলো শুনব আযানের সময়ই।

আচ্ছা ঠিক আছে।

আমি ডাক্তারের সাথে সাথে যেতে থাকি। আমি আসলে ডাক্তারের এমন আচরণ কিছু বুঝলাম না। আমি আযানের সময় বলতে চাইলাম, কিন্তু ডাক্তার একবারও জিজ্ঞেস করল না যে কেন? এখনি বলো, কোনো সমস্যা নেই ইত্যাদি। হঠাৎ এমন কথা শুনে যেন তিনিও আমার কথাগুলো আযানের সময় শোনার জন্যই আগ্রহী, তার আগে শুনতে চান না সে ও। কিন্তু আমার জন্য উনি বাকি রোগীকে ফেলে আমাকে সাথে করে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। আর উনি আজকেই আসলো মাত্র, তবুও আমার সাথেই সময় দিচ্ছে।

যেতে যেতে তিনি একটি বাড়িতে নিয়ে গেল। সেখানে গিয়ে ৫ তলায় উঠে ৫০৮ নম্বর রুমটা খুলে আমাকে সাথে করে নিয়ে ভিতরে ঢুকল। রুমটার চারপাশ মাকড়সার জাল দিয়ে এতটাই ভারি হয়ে ছিল যে মনে হচ্ছিল কয়েক বছর কেউ এই রুমে ঢোকে নি। রুমের ভিতর ঢুকে আর একটু সামনে গিয়ে আর একটি দরজার তালা খুলে রুমে আমাকে নিয়ে একটি চেয়ারে বসাল ডাক্তার আশা।

রুমটা প্রচুর অন্ধকার ছিল, তাই কিছু দেখা যাচ্ছিল না রুমে কি কি আছে। আমাকে চেয়ারে বসে তিনি রুমের লাইটটা অন করে দিলেন। লাইট অন করার সাথে আমি চমকে উঠি। আর বলি, এইটা কিভাবে সম্ভব? বাইরের রুমগুলো এত নোংরা, আর ভিতরের এইটা এত পরিষ্কার!

আমি ডাক্তার আশাকে যখন বলতে যাব এই পরিষ্কারের কারণ, তখন উনি আমাকে বলে, পরিষ্কারের কারণ একটু পরেই জানতে পারবে। এখন বলো তোমার রাতের ঘটনা।

এখন না ডাক্তার আপু, আযান দেওয়া শুরু করুক।

আচ্ছা ঠিক আছে, একটু পরেই আযান দেবে, প্রিপারেশন নেও।

ডাক্তারের কথা শেষ না হতেই আযান দেওয়া শুরু। আমিও আর কিছু না ভেবেই আযান শুনেই আমার ঘটনা বলা শুরু করলাম। দুই রাতের ঘটনা ডাক্তারকে বলা শেষের দিকে, কিন্তু তবুও আযান শেষ হয়নি। আমিও অত কিছু না ভেবে সব বলে দিলাম ডাক্তার আশা আপুকে।

বলা শেষে ভাবলাম, উনি কি বিশ্বাস করবেন আমার কথাগুলো? ডাক্তাররা তো আসলে এগুলো খুব একটা বিশ্বাস করে না। এগুলো শোনার পর ডাক্তার আপু আমাকে বলল, আচ্ছা ঠিক আছে, বুঝেছি। এখন চলো, চেম্বারে যাই।

আমিও আর কিছু না বলে ডাক্তারের চেম্বারে যাওয়ার জন্য হাঁটা শুরু করলাম। হাঁটতে হাঁটতে ডাক্তার আশাকে বলি, আচ্ছা ডাক্তার আপু, আমি যে কথাগুলো বললাম, তা কি আপনার বিশ্বাস হয়েছে?

ডাক্তার আপু বিশ্বাস হবে না কেন? আসলে কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো বিশ্বাস না হলেও করতে হয়।

আমি আর কোনো কথা না বলে হেঁটেই চলছি ডাক্তারের চেম্বারের দিকে তার সাথে। হঠাৎ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি বাজে মাত্র ১২:৪৫, এখনো তো আযানের সময় হয়নি! তখন তাহলে কে আযান দিলো? আমি ডাক্তার আশার দিকে তাকিয়ে বললাম, আপু, এখন তো বাজে মাত্র ১২:৪৫, এখনো তো আযান দেয়নি! তাহলে তখন কিভাবে কি

ডাক্তার আশা আমার কথা শুনে মুচকি হেসে দিয়ে বলে

চলবে...

৩য় পর্ব লিংক 

https//wwwthirtpartstoymayarkhela.com

নরপিচাশ ফুফি পর্ব ৩(শেষ)

 নরপিচাশ ফুফি 

পর্ব ৩(শেষ)



ডাক্তার রিয়াকে অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়ার পর সবাই ব্যস্ত, কিন্তু একজনকে কেউ খুঁজে পাচ্ছে না মায়া। এত বড় ঘটনায়ও সে হাসপাতালে আসেনি।

নীলা বারবার আরিফকে বলছে, তুমি যদি বিচার না করো, আমি আইনের সাহায্য নেব।

তোমার বোন কিভাবে আমার মেয়ের সাথে এত জঘন্য কাজ করতে পারে? তুমি তো ওকে এত ভালবাস!

কিভাবে, কিভাবে, কিভাবে?

নীলা আর সহ্য করতে পারল না, অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে গেল। নার্স এসে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিল।

জ্ঞান ফিরেই বলল, দেখছো তোমার বোন কত নিষ্ঠুর? আমার মেয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ছে, আর সে দেখতেও আসল না!

আমি মায়াকে ছাড়ব না। তুমি বাধা দিলে তোমাকেও ছাড়ব না। ভুলো না তুমি আমার স্বামী!

আরিফ বলল, তোমার কিছু করতে হবে না। ওর জন্য আমি কি করিনি? আমারই মেয়ের সাথে এ কাজ!

নীলা কাঁদতে কাঁদতে অপারেশন রুমের সামনে আল্লাহকে ডাকতে লাগল, আল্লাহ, তুমি আমাকে নিয়ে যাও, আমার মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখো।

শাশুড়িও কাঁদছেন। দশ বছর পর যখন রিয়া জন্মেছিল, মনে হয়েছিল আকাশ থেকে পরী নেমেছে। তিনি নীলাকে সান্ত্বনা দিলেন, বৌমা, টেনশন করো না। আমাদের রিয়া ফিরে আসবে।

যে এ কাজ করেছে, তাকে খুঁজে বের করব। এমন শাস্তি দেব যে আর কখনো এমন করবে না।

নীলা ভাবল, আম্মা, এ কাজ তোমারই মেয়েই করেছে। কিন্তু বলতে পারল না।

শাশুড়ি জিজ্ঞেস করলেন, মায়াকে দেখছি না? কল করো তো?

মায়ার কল রিসিভ করল। শাশুড়ি বললেন, "তুই কোথায় রে? এখনো হাসপাতালে আসিসনি?

তোর আদরের ভাইঝি মৃত্যুর সাথে লড়ছে!

মায়া বলল, মা, আমার কাজ আছে। দ্রুত আসছি।

তোর কাজ আমার নাতনির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? সবাই কাঁদছে, আর তুই কাজ নিয়ে আছিস?

তোর ভাই তোর জন্য কত কিছু করেছে! তার খরচে তুই পড়ছিস।

তোর ভাবি দুইবার অজ্ঞান হয়েছে। তোর ভাইয়ার মুখ দেখতে পারছি না।

আমার বাসায় না যেতে হয়! যদি যেতেই হয়, তাহলে তোর খবর আছে!

শাশুড়ি কল কেটে দিলেন।

ডাক্তার অপারেশন শেষ করে বেরোলেন। সবাই ছুটে গেল।

নীলা জিজ্ঞেস করল, আমার মেয়ের কি অবস্থা?

ডাক্তার বললেন, আলহামদুলিল্লাহ অপারেশন সফল। কিন্তু একটা দুঃখের সংবাদ আছে।

সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে শুনল।

ক্ষত এত বেশি যে এই মেয়ে কখনো মা হতে পারবে না।

কিন্তু এই কথা কাউকে বলবেন না। বিশেষ করে মেয়েটা যেন না জানে।

খবর শুনে সবাই আল্লাহকে ডাকতে লাগল, "আল্লাহ, আমরা কি অন্যায় করেছিলাম?

নীলা জিজ্ঞেস করল, কখন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারব?

ডাক্তার বললেন, জ্ঞান ফিরতে সকাল হয়ে যাবে। আপনারা বাইরে বিশ্রাম নিন।

আমার জীবনে এত ছোট মেয়ের এমন অপারেশন আর করিনি। অপারেশন করতে গিয়ে আমারও কান্না পেয়েছে।

যে এ কাজ করেছে, আল্লাহ তার শাস্তি দেবেন। আপনারা যা করতে চান, করুন।

ডাক্তার কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলেন।

নীলা আর থামতে পারল না, মাথা দেয়ালে ঠুকতে লাগল। আরিফ এসে থামাল।

তুমি ভেঙে পড়ো না। আমরা বিচার করব!

মাথা ঠোকার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মায়ার নাম বেরিয়ে গেল। শাশুড়ি শুনে ফেললেন।

শাশুড়ি কিছু বলতে যাবেন

আরিফ বলল, আম্মা, কিছু হয়নি।

আরিফ, তুই কখনো মিথ্যা বলিস না। বৌমা কি বলছিল? মায়া কি করেছে, সত্যি বল?

আরিফ আর লুকাতে পারল না। বলল, কিভাবে বলব বুঝতে পারছি না। এত বড় সমস্যা, তোমাকে বলা উচিত

এই ঘটনার সাথে জড়িত আমারই বোন মায়া।

শাশুড়ি চমকে গেলেন। "কি বলছিস আরিফ? তোর মাথা ঠিক আছে?

হ্যাঁ আম্মা, ঠিক আছে। আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে চাইনি। যখন রিয়া বলল, আর নীলা বলল, আমিও বিশ্বাস করতে পারিনি।

যে বোন পর্দায় চলে, মাদ্রাসায় পড়ে, সে কিভাবে এমন করতে পারে?

আম্মা, তোমার মত আমিও চমকে গিয়েছিলাম।

আমাদের তিনটি রুম। আমরা একটিতে, তোমরা একটিতে, মায়া একটিতে।

রিয়ার বয়স ছয় বছর, তাই সে মায়ার সাথে ঘুমাতে যায়।

রিয়া খুব নম্র মেয়ে, কখনো মিথ্যা বলে না। যখন মায়া এমন করতে লাগল, রিয়া প্রথমে চুপ করে রইল।

যখন বেশি হতে লাগল, তখন সে নীলার কাছে এসে বলল। নীলা আমাকে বলল। আমি প্রথমে ভাবলাম ভুল হতে পারে, কাউকে বলো না।

এর মধ্যেই এত বড় ঘটনা ঘটে গেল।

আরিফ নিশ্চুপ হয়ে গেল। শাশুড়ি বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে গেলেন।

আমারই পেটে কিভাবে এমন নরপিচাশ মেয়ে জন্মাল?

কত আদর যত্ন করে বড় করেছি। যখন যেটা চেয়েছে, সেটা দিয়েছি।

আমার মেয়ে মায়া এমন করতে পারে, বিশ্বাস হচ্ছেনা।

আম্মা, আমিও বিশ্বাস করতে পারিনি। কিন্তু তুমি তো জানো, আমাদের রিয়া মিথ্যা বলে না।

সেটা জানি। আমার নাতনি আমার মতই সত্যি কথা বলে।

এর বিচার হবে। আগে রিয়া জ্ঞান ফিরুক, তারপর যা করতে হবে, করব।

আরিফ ও নীলা শাশুড়ির মুখের দিকে তাকিয়ে ঘাবড়ে গেল।

শাশুড়ির চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। "এমন মেয়ে যেন আর কারো পেটে না হয়।

আরিফ ও নীলা বোঝাতে লাগল, আম্মা, টেনশন করো না। হয়তো ভুল করেছে। ডিজিটাল যুগ, বন্ধুদের সাথে মিশে নষ্ট হয়েছে।

আমি আমার বোনকে চিনি। নিশ্চয়ই কারো প্রভাব পড়েছে। আমরা খুঁজে বের করব।

মায়া আগে ফোন চালাতো না। বলত, ভাইয়া, ফোন দিয়ে কি করব?' আমি জোর করে কিনে দিয়েছিলাম।

হ্যাঁ আরিফ, আমার মনে আছে।

কথা বলতে বলতে সকাল হয়ে গেল। কেউ ঘুমায়নি।

নার্স ডাকল, রিয়ার পরিবার, আপনারা আসতে পারেন।

নীলা ছুটে গেল। রিয়া জিজ্ঞেস করল, আমি এখানে কেন?

নীলা বলল, তোমার ব্যথা হচ্ছিল, তাই হাসপাতালে আনা। তুমি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে।

রিয়া সবাইকে দেখে খুশি হল। দাদীকে জিজ্ঞেস করল, দাদী, আমি কি ঠিক আছি?

দাদী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তোর কিছু হয়নি। আমরা তোর পাশে আছি।

রিয়া বলল, দাদী, কাঁদো না। আল্লাহ আমাকে দ্রুত সুস্থ করে দেবেন।

দাদী বললেন, আমার পাগলী মেয়ে।

রিয়া জিজ্ঞেস করল, দাদী, ফুফিকে দেখছি না? সে কি হাসপাতালে আসেনি?

দাদী বললেন, ওরকম কুলাঙ্গার না আতাই ভালো।

রিয়া বলল, দাদী, তুমি কিছু বলছ না কেন?

না দিদি, তোমার ফুফি এখনো আসেনি। তবে আসবে।

নীলা রেগে বলল, তোমার ফুফি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। ভুলে গেছ কি হয়েছে? আজ তুমি মৃত্যুর সাথে লড়েছ কার জন্য?

তোমার ফুফি মায়ার জন্য। আমি তার নাম শুনতেও চাই না।

শাশুড়িও রেগে বললেন, "সত্যিই বলেছে তোমার আম্মু।

আজ থেকে মনে করবে, তোমার কোন ফুফি নেই।

এমন সময় ডাক্তার এসে বললেন, আপনারা কি শুরু করেছেন? মেয়ের অপারেশন হয়েছে, ভুলে গেলেন?

পেশেন্টের সাথে বেশি কথা বলবেন না। টেনশন দেবেন না।

আমি এত ছোট বাচ্চার এমন অপারেশন আর করিনি। অপারেশন করতে গিয়ে আমারও কান্না পেয়েছে।

আপনাদের অনুরোধ, জোরে কথা বলবেন না। যদি আবার অজ্ঞান হয়, জ্ঞান ফেরাতে কষ্ট হবে।

ডাক্তারের কথা শুনে সবাই চুপ হয়ে গেল।

নীলা জিজ্ঞেস করল, ম্যাডাম, কখন বাড়ি নিয়ে যেতে পারব?

ডাক্তার বললেন, আপনারা বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। বিশ্রাম দরকার।

আমার জীবনে এমন অপারেশন এই প্রথম। দোয়া করি, রিয়া যেন দ্রুত সুস্থ হয়।

আরিফ ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিল।

শাশুড়ি বললেন, বৌমা, মায়াকে কল দাও।

নীলা বলল, আমরা এখনই বাসায় যাচ্ছি, ওনার জন্য কল কেন দেব?

একটা কল দাও। ওর সাথে আমার অনেক হিসাব বাকি।

আম্মা, আপনি চুপ থাকুন। বাসায় গিয়ে ব্যবস্থা নেব।

শাশুড়ি রেগে বললেন, তোমার কিছু করতে হবে না। যেহেতু আমার মেয়ে, আমি করব।

এত বেয়াদব কোথা থেকে হল, জানতে হবে।

নীলা বলল, আপনার যেটা ভালো লাগে, করুন। কিন্তু বিচার অবশ্যই হবে।

আরিফ বলল, আম্মা, কঠোর বিচার করতে হবে। আজ আমাদের পরিবারে ঘটেছে, কাল অন্য কারো সাথে হলে মানসম্মান যেত।

হ্যাঁ আরিফ, টেনশন করো না। আমি বিচার করব।

বাড়িতে এসে দেখল, মায়া ফোন নিয়ে ব্যস্ত।

শাশুড়ি সরাসরি তার রুমে ঢুকে গালে থাপ্পর মারতে লাগলেন। তোর মত কুলাঙ্গার আমি কিভাবে পেটে ধরেছিলাম!

তুই কার সাথে কি করেছিস জানিস?

মায়া কিছু বলল না। সব বুঝতে পেরেছে।

নীলাও বলল, আমি তোমাকে ছোট বোনের মত দেখতাম। তুমি কেন আমার সাথে এ সর্বনাশ করেছিলে?

তোমার কি ক্ষতি করেছিলাম?

তোমার কারণে আমার মেয়ে মৃত্যুশয্যা থেকে বেঁচে এসেছে, কিন্তু কখনো মা হতে পারবে না!

নীলা থাপ্পড় মারল।

শাশুড়ি বললেন, মারো বৌমা, মারো!

মায়া বলল, আমি বুঝতে পারিনি এতদূর যাবে। আমি সত্যি ভুল করেছি। আমাকে মেরে ফেলো!

আমার ভাইঝির সাথে এ কাজ করা ঠিক হয়নি। আমি অনুতপ্ত।

আরিফ বলল, তোর জন্য কি করিনি? তোকে দুধ-কলা দিয়ে বড় করেছিলাম!

রিয়া বলল, তোমরা আর মারো না মায়াকে। প্লিজ!

দাদী বললেন, তুই চুপ কর রিয়া। মায়া এখনই এই বাড়ি থেকে বের হবে।

কোথায় যাবে, কি করবে, জানি না। এখন থেকে ভুলে যাব আমার কোন মেয়ে নেই। এটাই আমার শেষ সিদ্ধান্ত।

আরিফ, মায়াকে এখনই বের করতে বল।

আরিফ চুপ হয়ে রইল। সে ছোটবেলা থেকে বাবা হারিয়েছেন, সংসারের দায়িত্ব তারই।

রিয়া বলল, তোমরা যদি মায়াকে বের করে দাও, আমিও চলে যাব। তোমরা বুঝতে পারবে না।

মায়া ভুল স্বীকার করেছে। তোমরা তাকে মারছো, কষ্ট দিচ্ছো।

নীলা বলল, তুমি ছোট মানুষ, এসব কথা বলো না। সে তোমার কত বড় ক্ষতি করেছে, জানো না।

দাদী বললেন, দেখ মায়া, এই মেয়েটার ক্ষতি করেছিস, আর সে তোর সাপোর্ট করছে।

সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল। শাশুড়ি বললেন, "মায়াকে আর পড়ানো যাবে না। ওর জন্য ছেলে দেখ।

আরিফ তার বন্ধুর ছোট ভাইকে প্রস্তাব করল। ছেলে পক্ষেরা এসে মায়াকে দেখল। পছন্দ হল, বিয়ের দিন ঠিক হল।

বিয়ের কিছুদিন পর মায়া বাড়ি এল। সবার পা ধরে মাফ চাইল। রিয়াকে জড়িয়ে কাঁদল।

আমার লক্ষ্মী আম্মু, তোমার সাথে আমি অনেক খারাপ করেছি। আমাকে মাফ করে দিও।

রিয়া বলল, তুমি আমার ছোট আম্মু মনে করো, কখনো ফুফি মনে করিনি।

মায়া বলল, আমার পাগলী মেয়েটা।

এই গল্প থেকে শিক্ষা আপনার বাড়িতে যদি মেয়ে বা বোন থাকে, সময়মতো তাদের যত্ন নিন। খেয়াল রাখুন তারা কোথায় যায়, কি করে, মোবাইলে কি দেখে। পর্নোগ্রাফি থেকে সাবধান! এটি একজন সাধারণ মানুষকেও খুব দ্রুত খারাপ পথে নিয়ে যেতে পারে।

আজ যেমন রিয়ার সাথে ঘটল, কাল আপনার বাড়ির কারো সঙ্গে এমন ঘটতে সময় লাগবে না!

সমাপ্তি




নরপিচাশ ফুফি পর্ব ২

 নরপিচাশ ফুফি

 পর্ব ২






আমি বললাম, মায়া, তুমি কি এখনই ঘুমাবে?

সে উত্তর দিল, না ভাবি, একটু দেরি করব।

একটা জিনিস বুঝি না, তুমি সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে কি কর?

তোমার তো পড়াশোনা আছে? তোমার বান্ধবীরা তো সবসময় পড়ায় ব্যস্ত।

তোমার ভাইয়া বলেছে, রেজাল্ট খারাপ হলে বিয়ে দিয়ে দেবে।

মোবাইল ছেড়ে পড়ায় মন দাও।আমার কথায় মায়া ঘাবড়ে গেল। সে মনে মনে ভাবল, রিয়া কিছু বলেছে কিনা।মায়া নিশ্চুপ হয়ে রইল। বলল, টেনশন করো না, আমি ভালো রেজাল্ট করব।

আমি ভাবলাম, তুমি আমার মেয়ের সাথে এ আচরণ কিভাবে কর? আমি এর শেষ দেখব!

কিছুক্ষণ পর মায়া জিজ্ঞেস করল, আর কিছু বলবেন?

না, শাশুড়ির জন্য পানের বাটা খুঁজছিলাম। পেয়ে গেছি।

তুমি অপেক্ষা কর, রিয়া এখনই আসবে ঘুমাতে।

আর মোবাইলে ভিডিও দেখিয়ে শেখিও না মায়া।

না ভাবি, আমি তো ওকে ভালো কথা বলি। পড়াশোনা করতে বলি।

আমাদের রিয়া খুব লক্ষ্মী মেয়ে, আমার কথা শোনে।

শাশুড়িকে পানের বাটা দিতে গেলে তিনি বললেন, বৌমা, আজ তুমি খুব খারাপ লাগছ কেন?

কিছু হয়নি আম্মা।

তুমি তো সবসময় হাসিখুশি থাক। আজ কেমন যেন। মায়া ঘুমিয়েছে?

মেয়েটা বই নিয়ে বসে না। আপনিই বলুন।

আপনার মেয়ে আপনি ভালো জানেন। সারাক্ষণ মোবাইলে কি করে?

শাশুড়ি বললেন, হ্যাঁ বৌমা, ঠিক বলেছ। মেয়েটা সবসময় মোবাইলে থাকে।

আমি এখন বুড়ো হয়ে গেছি। তোমার শ্বশুর কিছু বলে না। এখন শাসন না করলে মেয়েটা খারাপ হয়ে যাবে।

বৌমা, তুমি শাসন করবে, এটা আমার আদেশ।

মেয়েটা সারাক্ষণ কি করে, কিছু বুঝি না।

যদি কোন অঘটন ঘটে, আমাদের মানসম্মান সব যাবে। তুমি দেখবে।

খারাপ কাজে লিপ্ত হলে শাসন করবে।

শাশুড়ির কথা শুনে আমি খুশি হলাম। অপেক্ষায় ছিলাম।

বললাম, আম্মা, আমি রুমে যাই?

যাও বৌমা, কিন্তু আরিফের সাথে ঝগড়া করো না। সমস্যা হলে আমাকে ডাকো।

আপনি টেনশন করবেন না। পান খেয়ে ঘুমান।

আচ্ছা আমার লক্ষ্মী বৌমা।

তিনি এমন ভালো মানুষ, তাঁর পেটে এত নরপিচাশ মেয়ে কিভাবে জন্মাল!

রুমে যেতেই দেখি রিয়া ব্যথায় ছটফট করছে।

রিয়া, কি হয়েছে?

আম্মু, আমার গোপন জায়গায় প্রচণ্ড ব্যথা। আর সহ্য করতে পারছি না। মরে যাচ্ছি।

বলে সে ফ্লোরে পড়ে গেল।

টেনশন করো না। আমি দেখছি। চলো ওয়াশরুমে।

রিয়া হাঁটতে পারছিল না। আমি নিয়ে গেলাম।

ওয়াশরুমে যা দেখলাম, আল্লাহ! আমার মেয়েকে বাঁচাও!

আগে শুধু শুনতাম, আজ দেখে মন ভেঙে গেল।

জায়গাটা একদম ইনফেকশন হয়ে গেছে। রক্ত পড়ছে। কি করব বুঝতে পারছি না।

রিয়া কান্না করতে করতে বলল, "আম্মু, আমাকে বাঁচাও। ব্যাথা সই না।

ফুফি একটা পচা। সে রোজ রাতে ব্যথা দিত।

বলতাম, ফুফি আর ব্যথা দিও না। সে বলল, ভালো লাগবে, চুপ কর।

আর গালি দিত। ভয় দেখাত, কাউকে বলতে দেবে না।

আমি আর সহ্য করতে পারলাম না। আরিফকে ডাকলাম। কিন্তু সে সাড়া দিল না। রাত হয়েছে, সকালে তার ডিউটি। অনেক ডাকার পর সাড়া দিল।

কি হয়েছে রিয়ার আম্মু?

আরিফের কথা শুনে নীলা জবাব দিল না। তার মেয়ে রিয়া নিয়ে চিন্তায় সে অজ্ঞান হয়ে গেছে।

সাড়া না পেয়ে আরিফ দ্রুত ওয়াশরুমে গেল। দেখল রিয়া এবং নীলা দুজনই বেহুশ।

আরিফ চিৎকার করল। তার বাবা মা ছুটে আসলেন। দেখলেন বৌমা এবং নাতনি বেহুশ।

অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলো। রিয়া এবং নীলা হাসপাতালে নেওয়া হলো।

ডাক্তার বললেন, রিয়াকে ইমারজেন্সি অপারেশন করতে হবে।

নীরার জ্ঞান ফিরল। সে জিজ্ঞেস করল, আমার মেয়ে রিয়া কোথায়? সে ঠিক আছে?

হ্যাঁ, ঠিক আছে। টেনশন করো না।

নীলা আবার জিজ্ঞেস করল, আমি রিয়াকে দেখতে চাই।

সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল, তোমরা সবাই মিথ্যা বলছ। আমার মেয়ে ভালো নেই।

আমার মেয়ে বাঁচবে তো? কারো ক্ষমা করব না।

আরিফ বলল, টেনশন করো না। আমাদের মেয়ে ঠিক আছে। কোথায় আছে? নিয়ে যাও।

নীলাকে অপারেশন থিয়েটারের সামনে নিয়ে গেল। বলল, "ডাক্তার বলেছেন অপারেশন করতে হবে। ইনফেকশন হয়েছে। না করলে বড় সমস্যা হবে।

রিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। প্লিজ নীলা, আল্লাহকে ডাকো।

আল্লাহ যেন আমাদের মেয়েকে নেক হায়াত দান করেন।

বিচার বাড়িতে করব। আমার বোন বলে পার পাবে না। কঠিন শাস্তি দেব।

আমার বোন হয়ে ভাইয়ের মেয়ের সাথে এ কাজ কিভাবে করে? এবার শেষ দেখব।

সে আমার বোন, ভুলব না। এত ছোট বাচ্চার সাথে যৌন হয়রানি কিভাবে করে? বিবেকে বাধে নি?

ওকে সবচেয়ে আদর করতাম। যখন যা চেয়েছে, দিয়েছি। কোন অভাব রাখি নি।

সে আমার ছোট বোন। বাবা মায়ের আদরের মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর আমি দেখেছি।

বোন নয়, মেয়ের মত বড় করেছি। মায়াকে সবসময় আগলে রেখেছি। জেনারেল স্কুলে ভর্তি করি নি।

মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি। পর্দা করতে বলেছি।

সেই বোন পর্দার আড়ালে এত খারাপ হতে পারে, কল্পনাও করতে পারি না।

প্লিজ নীলা শান্ত হও। আমি এর শেষ দেখব।

ইতিমধ্যে বাবা মা জেনে গেছেন রিয়ার অবস্থা। মা খুব রেগে আছেন।

মা বলছেন, আমার নাতনির সর্বনাশ কে করেছে? তার নাম শুনতে চাই।

আমি এখনো কিছু বলি নি। বললে মা কষ্ট পাবেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করো, মেয়ে যেন সুস্থ হয়।

ডাক্তার নীলাকে ডাকলেন। রিয়ার অপারেশন একজন মহিলা ডাক্তার করবেন।

নীলা ডাক্তারের সাথে দেখা করল।

ডাক্তার কিছু প্রশ্ন করলেন।

ম্যাডাম, আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব?

জি, অবশ্যই। কিন্তু আগে বলুন, আমার মেয়ের এখন কি অবস্থা?

ডাক্তার রাজিয়া বেগম বললেন, এত বড় জঘন্য কাজ কে করেছে? আপনারা জানেন?

যে করেছে, সে নরপিচাশ ছাড়া কিছু নয়। একজন মানুষের এত নিষ্ঠুর হতে পারে না।

মেয়েটার কান্না দেখে আমার চোখে পানি আসে। এত ছোট মেয়ের সাথে কিভাবে করল?

আপনারা থানায় জিডি করেছেন?

নীলা বলল, ডাক্তার সাহেব, এটা আমাদের নিজেদের মানুষ। আগে মেয়ে সুস্থ হোক। তারপর বিচার হবে।

আগে বলুন, আমার মেয়ের কি অবস্থা?

ডাক্তার বললেন, ঘুমের ওষুধ দিয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই অপারেশন করতে হবে।

ইনশাআল্লাহ আপনার মেয়ে ভালো হয়ে ফিরে আসবে।

ডাক্তার রাজিয়া বেগমের কথা শুনে নীলার চোখে পানি আসল। সে অনেক টেনশনে ছিল। ভাবছিল, মেয়ের কিছু হলে

ডাক্তার বললেন, আপনার মেয়েকে এখনই অপারেশনে নিয়ে যাব। আল্লাহকে ডাকুন।

আমরা শুধু ডাক্তার, বাঁচানোর মালিক আল্লাহ।

নীলা বললেন, আমার এই মাসুম বাচ্চাকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দেবেন।

ডাক্তার রিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলেন!

সম্পূর্ণ গল্পটি নাটক আকারে দেখুন আমাদের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে

https://www.youtube.com.php?id=61573122160874

৩য় পর্ব লিংক 

লিংকে ক্লিক করে ৩০ সেকেন্ড ওয়েট করলে তৃতীয় পর্ব ওপেন হয়ে যাবে

https://www.thritpart.nopicshapupi.com